থাইল্যান্ডে উত্তেজনাপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষ হলো

thai

ঢাকা, ২ফেব্রুয়ারি, নিউজ ডেস্ক: থাইল্যান্ডে উত্তেজনাপূর্ণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে৷ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়৷ প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার পুনঃনির্বাচন ঠেকাতে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক প্রচেষ্টার মধ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল৷

নির্বাচন কমিশন জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৩ টার নির্ধারিত সময়েই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে৷ তবে বিক্ষোভকারীদের বাধার কারণে কয়েকশ’ কেন্দ্রে ভোট নেয়াই সম্ভব হয়নি কিংবা ভোট আগেই বন্ধ করে দিতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছে৷

থাইল্যান্ডে রোববার বিরোধীদলের বর্জন ও প্রতিবাদের মধ্যেই সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে৷ রেরাববার এএফপি ও বিবিসি জানায়, ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় শেষ হয়৷ তবে ভোটগ্রহণ চলাকালে দেশটির কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার কোনো খবর পাওয়া যায়নি৷

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং বেশ কিছু আসনে বিরোধীদের বাধার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ভোট৷ এর মধ্যে রাজধানী ব্যাংক ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু ভোট কেন্দ্রে বিরোধীদের বাধার মুখে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়৷ তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে৷

দেশটির নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, দেশজুড়ে ৩৭৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৭টি আসনের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে৷

এছাড়া থাই সরকারের ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বিরোধীদের বাধার মুখে থাইল্যান্ডের ৩৩৩টি মধ্যে ৪২টি জেলার ভোট বাতিল করা হয়েছে৷

এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শনিবার রাজধানী ব্যাংককে সরকার ও বিরোধী সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা হয়েছে৷ বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় বেশ কিছু লোক আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে৷ এছাড়া বিরোধী দল নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি ব্যালট পেপার বিতরণ কার্যক্রমে বাধা দিয়েছে বলেও খবর পাওয়া যায়৷

প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার দল এ নির্বাচনে বিজয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ তবে আইনী বাধা ও পার্লামেন্টে এমপিদের কোরাম পূর্ণ না হওয়ায় রাজনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে৷

রোববার ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা রাজধানী ব্যাংককে তার বাড়ির কাছে একটি ভোট কেন্দ্রে ভোট দেন৷

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে রোববার রাজধানী ব্যাংককে ১২ হাজারসহ দেশজুড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়৷

২০১১ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা ইংলাক সিনাওয়াত্রা তার ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে নির্বাসন থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্য একটি সাধারণ ক্ষমার বিল পাসের চেষ্টা করলে সরকার পতনের দাবিতে গত নভেম্বরে বিক্ষোভ শুরু করে বিরোধীরা৷

এরই মধ্যে ২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন ইংলাক৷ কিন্তু বিরোধীরা নির্বাচন বর্জন করে সরকার পতনের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে৷