যানবাহন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে ইজতেমা ফেরত মানুষ

00012bd3_medium

গাজীপুর, ২ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষে পর্যাপ্ত সংখ্যক যানবাহন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লখো মুসলি্ল৷ গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকায় মুসলি্লরাচরম ভোগান্তিতে পড়েন৷

এদিকে, রোববার নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে এক ঘন্টা আগে মোনাজাত হওয়ায় হাজার হাজার মুসলি্ল মোনাজাতে অংশ নিতে পারেনি৷ যদিও রোববার ইজতেমা পরিচালনা কমিটি সকাল ১১টায় মোনাজাতের সময়সূচি ঘোষণা করেছিলেন৷

নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই আখেরী মোনাজাত সম্পন্ন হওয়ায় অন্তত ৫ লক্ষাধিক মুসলি্ল এবারের দ্বিতীয় দফার আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে পারেননি৷ ইজতেমা ময়দানের বাইরে অতিরিক্ত মাইক সংযোগ না থাকায় মোনাজাত শেষেও জনতার স্রোত ইজতেমা অভিমুখে যাচ্ছিল৷

পূর্ব ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২ টার মধ্যে মোনাজাত শুরু হবার কথা৷ আয়োজকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ সংবাদ প্রকাশ হয়৷ অথচ আকস্মিকভাবে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে মোনাজাত শুরু করেন ভারতের মাওলানা যোবায়েরুল হাসান৷ তিনি মোনাজাত শেষ করেন ১০টা ১২মিনিটে৷ দ্রুত মোনাজাত শেষ হওয়ায় এতে শরিক হতে পারেননি কয়েক লাখ মুসলি্ল৷ মোনাজাত শেষে ময়দান ছেড়ে দলে দলে মুসলি্লরা যখন গন্তব্যে যাচ্ছিলেন তখনও অসংখ্য লোক মোনাজাতে অংশ নিতে ময়দানের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন৷ ইজতেমা অভিমুখী মানুষ বিপরীতমুখী মুসলি্লদের স্রোত দেখে মনে করছিলেন হয়তো ভিড় এড়াতে তারা আগেই নিরাপদ দূরত্বে চলে যাচ্ছেন৷ যা প্রতিবছরই ঘটে থাকে৷ মোনাজাত শেষ হয়ে গেছে এই সংবাদে বিশ্বাস না করেই মুসলি্লদের এই স্রোত ইজতেমা অভিমুখী যাচ্ছিল৷ আখেরী মোনাজাতে অংশ নেয়ার আশায় বেলা ১১টা পর্যন্ত ইজতেমা অভিমুখে মুসলি্লদের এই স্রোত লক্ষ্য করা গেছে৷ অবশেষে মোনাজাতে অংশ না নেয়ার আক্ষেপে ইজতেমা অভিমুখী জনতার এই স্রোত বিপরীতমুখী (ইজতেমা থেকে বর্হিগমন) জনস্রোতের সাথে একাকার হয়ে যায়৷ মোনাজাতে অংশ নিতে না পারায় এসব মুসলি্লকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে৷

প্রথম পর্বের ইজতেমার আখেরী মোনাজাতে বহিরাগত মুসলি্লদের অংশ নেয়ার সুবিধার্থে ময়দানের আশপাশের এলাকায় মাইক সংযোগ দেয়া হয়েছিল৷ কিন্তু দ্বিতীয় দফার আখেরী মোনাজাতে সেই ব্যবস্থা না থাকায় এমনিতেই লাখো মুসলি্ল মোনাজাত থেকে বঞ্চিত হন৷

উল্লেখ্য, ইজতেমা ময়দানের জিম্মাদার তাবলীগ জামাতের স্বাগতিক বাংলাদেশের মুরব্বী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আজ ১১টা থেকে ১২ টার মধ্যে আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠানের সংবাদ গত দুদিন ধরে প্রচারিত হয়ে আসছে৷ শনিবার বিকেলেও ইজতেমায় তাবলীগ মুরব্বীদের সাথে স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময়কালে ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন আখেরী মোনাজাতের আলোচিত সময়ের (১১টা-১২টা) কথা নিশ্চিত করেন৷

চাদপুর থেকেইজতেমায় আসা মাহমুদ হাসান বলেন, সকাল থেকে বিশ্ববোড থেকে টঙ্গী পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ করা ঠিক হয়নি৷ কারণ ঢাকার ভেতর থেকে যারা এসেছেন তারা হয়তো যেতে পারবেন৷ কিন্তু দূরবর্তী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন৷

মোনাজাত না পেয়ে আবদুল্লাহপুর এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষারত বকর মিয়া বলেন, যশোর থেকে ভোর রাতে এসেও মোনাজাত পাইনি৷ তবে এখন বাড়ি ফিরবো বাসের জন্য যেতে পারেছি না৷

কাউন্টারে কথা বলেছি তারা বলেছেন, পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ছয়টার আগে কোনো বাস ছাড়বে না৷ তিনি ইজতেমা উপলক্ষ্যে আরো গাড়ি ব্যবস্থা করার আহবান জানান৷

এদিকে অনেক মুসলি্ল রাতে ইজতেমা ময়দানে থাকলেও ভোরে টঙ্গী, এয়ারপোট রেল স্টেশনে অবস্থান নেন বাড়ি ফেরার জন্য৷ আগে না আসলে হয়তো ট্রেনে জায়গা পাওয়া যাবে না৷

টঙ্গী স্টেশনে কুমিল্লা থেকে আসা মুসলি্ল জসিম উদ্দিন বলেন, ইজতেমার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহন করেছি৷ রোববার রাতে ইজতেমা থেকে ট্রেনে আসন পেতে স্টেশনে চলে এসেছি৷ এখানে বসে মোনাজাত করেছি৷ যুদ্ধ করে হলেও ট্রেনে যেতে হবে৷

তিনি বলেন, গতবছর ট্রেনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেতে হয়েছে৷ এজন্য এবার আগে এসে বসে আছি৷

মোনাজাত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার মুসলি্ল ট্রেনের বগি, ছাদ সব জায়গায় বসে গেছে৷ ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই৷ জীবনে চরম ঝুঁকি থাকলেও আল্লাহর ওপর ভরসা করে তারা ট্রেনে উঠেছেন৷

সবার একটাই গন্তব্য বাড়ি ফেরা৷ প্রায় ১০দিন আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করার পর নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধে নেমেছে মুসলি্লরা৷

এদিকে মোনাজাত শেষ হওয়ার পর বিদেশি মেহমানরা ও ইজতেমা ছাড়তে দেখা গেছে৷ অনেকে আগে থেকেই এয়ারপোর্টে চলে এসেছেন৷ এয়ারপোর্টে বসেই আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন৷ এবার ১৫৫টি দেশের প্রায় ৪০ হাজার বিদেশি মুসলি্ল ইজতেমায় অংশ নেন৷

অপরদিকে, সকাল ১০টায় মোনাজাত শেষ হওয়ার পর হাজার হাজার মুসলি্ল সড়ক, টঙ্গী ও এয়ারপোর্ট রেল স্টেশনে অবস্থান করেছেন৷ কেউ বা ছুটছেন বিআরটিসি বাস কাউন্টারে৷

সরকার ইজতেমা উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ বেশ কিছু জেলায় তিনশ বিআরটিসি ও ১৬ জোড়া বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে৷

গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের সহকারি পুলিশ কমিশনার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, মুসলি্লদের যাতে কোনো ভোগান্তি পোহাতে না হয় সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে৷ আমরা চেষ্টা করবো যাতে সব জেলার মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারে৷ তবে নির্দেশনা অনুসারে আমরা কাজ করছি বলে দাবি করেন তিনি৷