সোমবার অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা

রাজনৈতিক অস্থিরতা মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে আর্থিক খাতের বেশির ভাগ লক্ষ্য অধরা অবস্থায় সোমবার অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

BB20130723063056২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন না হওয়ায় নতুন সরকারের প্রথম মুদ্রানীতি ‘সম্প্রসারণমুখী’ হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা।

তারা বলছেন, সম্প্রসারিত মুদ্রানীতি না হলে অর্থবছরের শেষ বা দ্বিতীয়ার্ধের লক্ষ্যগুলোও অধরা থেকে যাবে। ফলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না।

বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যকে সামনে রেখে মুদ্রানীতি প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

এবিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক যে মুদ্রানীতি দিয়ে আসছে তা গতানুগতিক, বলা যায় একধরনের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি।

“ওইসব মুদ্রানীতিতে মূল মনোযোগ ছিল মূল্যস্ফীতি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী মুদ্রানীতিকে অবশ্যই এ ধারা থেকে বের করে এনে কিছুটা হলেও সঙ্কুলানমুখী বা সম্প্রসারণমুখী করতে হবে।”

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে গতি আনতে এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতেই এমন মুদ্রানীতি দরকার বলে তিনি মনে করেন।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ দৈনিক বার্তা কে বলেন, “ব্যবসায়ীরা যাতে ব্যবসা করতে পারে, সামগ্রিক অর্থনীতি ঠিক থাকে এবং কর্মসংস্থান হয় এমন মুদ্রানীতি হতে হবে।”

বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মুদ্রানীতিতে সুদ হার কিছুটা কমানো যেতে পারে।

“বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকে ঋণ ফেরত দিতে পারবে না। মুদ্রানীতিতে সে বিষয়ে উদ্যোগ থাকতে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া পারস্পরিক অনাস্থা দূর করারও উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।”

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হতে হবে বিনিয়োগ বাড়ানো ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। কারণ ইতিমধ্যে বিনিয়োগ যেমন কমেছে তেমনি মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করেছে।”

তার পরামর্শ, এজন্য সুদ হার ও মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থা এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে বিনিয়োগ ও মূল্যস্ফীতি- দুটোর মধ্যে সমন্বয় থাকে।

“পাশাপাশি সরকারের ঋণের বিষয়টিও মুদ্রানীতিতে সতর্কতার সঙ্গে নিতে হবে। কারণ রাজনৈতিক কারণে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ নিচ্ছে। এতে ব্যাংক ঋণ বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমবে। যদিও বাজারে অনেক তারল্য আছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে মুদ্রা সরবরাহ ও আর্থিক খাতে এমন নীতি গ্রহণ, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজ হয়।

মীর আনিসুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ফটোজার্নালিষ্ট ইউনিটি