11432_f2
অপহরণ ওদের পেশা

অপহরণই ছিল তাদের পেশা। বিশেষ করে অবৈধ মালামাল পাচারকারীদের অপহরণ করতো তারা। চোরের ওপর বাটপাড়ির মতো। কখনও মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিতো অপহৃতদের। আবার কখনও অবৈধ মালামাল নিজেদের কাছে রেখে দিয়ে ছেড়ে দেয়া হতো। অবৈধ মালামালের কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে ভুক্তভোগীরাও এ নিয়ে থানা পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ করতো না। এই সিন্ডিকেটে রয়েছে পুলিশ, সাবেক সেনাসদস্য, পুলিশের সোর্স ও সন্ত্রাসী। সোর্সের কাজ ছিল তথ্য সংগ্রহ করা। আর পুলিশ সদস্য অভিযানের নামে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যেতো। তাকে সহযোগিতা করতো সাবেক সেনাসদস্য ও পুলিশ সোর্স। ঢাকার অদূরে সাভার-আশুলিয়া এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে তারা এমন অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। শুক্রবার মধ্যরাতে সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে অবৈধভাবে স্বর্ণ ও ডলার পাচারকারীকে অপহরণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে এই চক্রের সদস্যরা। তবে স্বর্ণ ও ডলার নিয়ে তাদের সহযোগী সদস্যরা পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি পিস্তল, গুলি, ছোরা, রডসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাভার মডেল থানার এএসআই ফাজিকুল ইসলাম (৩৪)-কে। এছাড়া সাবেক সেনাসদস্য রেজাউল হক (৪০), পুলিশ সোর্স মিরান খান (৩৫) ও সুজন শেখ (২৫)-কেও গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর নিজ মুখেই অপকর্মের কথা স্বীকার করেছে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। চোরের ওপর বাটপাড়ি পেশার এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে অবৈধভাবে স্বর্ণ ও ডলার পাচারকারী সিন্ডিকেটের দুই সদস্যকে। তাদের নাম শামসুল হক (৫৮) ও আবদুস সবুর (৬০)। গ্রেপ্তারকৃত সবুর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার বহুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তর ও র‌্যাব-৪ ব্যাটালিয়নের একটি যৌথ দল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার সিটি সেন্টারের সামনে অবস্থান নেয়। মির্জাপুরের সাবেক চেয়ারম্যান সবুর স্বর্ণ ও ডলার পাচারকারী চক্রের মূল হোতা। সে সাতক্ষীরা থেকে একটি স্বর্ণ ও ডলারের চালান এনে দেয়ার জন্য সাজ্জাদ ওরফে খোকনকে দায়িত্ব দেয়। শামসুল নামে এক ব্যক্তিকে ২০০০ টাকার বিনিময়ে সাতক্ষীরায় নিয়ে যায় খোকন। শুক্রবার সকালে তারা সাতক্ষীরা থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাসে সাভারের উদ্দেশে রওনা দেয়। বিকালে পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে খোকন ও শামসুল বাস বদল করে। এর আগেই খোকন অবৈধ স্বর্ণ ও ডলারের চালান আনার বিষয়টি তার পরিচিত সাবেক সেনাসদস্য রেজাউলকে জানায়। রেজাউল সাভার থানার এএসআই ফাজিকুলকে বিষয়টি জানিয়ে অপহরণের প্রস্তুতি নেয়। রাত সাড়ে নয়টার দিকে শামসুল হক ও সাজ্জাদ ওরফে খোকন নামে দুই চোরাকারবারি অবৈধভাবে স্বর্ণ ও ডলার নিয়ে এসে সাভারে নামে। এ সময় খোকন অপহরণকারী চক্রকে শামসুলকে চিনিয়ে দিয়ে আড়ালে চলে যায়। এএসআই ফাজিকুলের নেতৃত্বে অপহরণকারীরা শামসুলকে বাস থেকে নামিয়ে অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় অপহরণকারী চক্রের কয়েক সদস্য শামসুলের কাছ থেকে স্বর্ণ ও ডলারের প্যাকেটটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছদ্মবেশে থাকা র‌্যাব সদস্যরা চোরাকারবারি চক্রের সদস্য শামসুল ও অপহরণকারী চক্রের ৪ সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। তবে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে স্বর্ণ ও ডলার নিয়ে চম্পট দেয় অপহরণকারী চক্রের কয়েক সদস্য। এই চক্রের মূল হোতা ফাজিকুল ইসলামকে আটকের পর জানা যায় সে সাভার থানার এএসআই হিসেবে কর্মরত। তার কাছ থেকে সরকারি অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। ফাজিকুল তার সরকারি অস্ত্রটি অপহরণ কাজে ব্যবহার করতো বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান। গ্রেপ্তারের পর ফাজিকুল প্রথমে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের কথা জানালেও তার সঙ্গে কোন অভিযানের কাগজপত্র (সিসি) ছিল না। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার আদ্যোপান্ত স্বীকার করে।
র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন: গতকাল বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, তাদের কাছে দু’টি তথ্য ছিল। একটি, অবৈধভাবে স্বর্ণ ও ডলার পাচার করবে একটি চক্র। আরেকটি, পাচারকারীদের অপহরণ করে তা ছিনিয়ে নেবে আরেকটি চক্র। এই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা সাভার এলাকায় ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়। রাতে স্বর্ণ ও ডলার পাচারকারীদের অপহরণের সময় র‌্যাব দুই চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে দু’টি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১৭ রাউন্ড গুলি, তিন জোড়া হ্যান্ডকাফ ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। হাবিবুর রহমান বলেন, দুই চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তারের র‌্যাবের অভিযানিক দলটি তাদের সঙ্গে নিয়ে আরও অভিযান চালায়। একটি গাড়িতে করে নিয়ে সহযোগীদের ধরতে যাওয়ার সময় পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীরা র‌্যাবের ওপর হামলা চালায়। এতে র‌্যাব ৪-এর ক্যাপ্টেন নাহিদ গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়েছে। র‌্যাব সদস্যের ওপর হামলার পর অপহরণকারী চক্রের অপর সদস্যরা পালিয়ে যায়। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান ও গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
চক্রের মূল হোতা এএসআই ফাজিকুল: খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের জুন মাসে সাভার থানায় বদলি হয়ে আসেন এএসআই ফাজিকুল ইসলাম। এর আগে ২০১১ সালে তিনি কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে পদোন্নতি পান। আগে তিনি আশুলিয়া থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তাকে সাভার থানায় বদলি করা হয়। এখানে এসেও তিনি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। সাভার মডেল থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, এএসআই ফাজিকুল ইসলামের আচরণ সন্ত্রাসীদের মতো। তার চালচলন সন্দেহজনক। প্রায়ই তাকে থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে দেখা যেতো। তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল মাদক স্পটে। সাবেক সেনাসদস্য, সন্ত্রাসী ও সোর্সদের নিয়ে নিজস্ব অপহরণকারী চক্র গড়ে তুলেছিলেন তিনি। এ চক্রের মূলহোতা সে। পুলিশ পরিচয় দিয়ে সহযোগীদের নিয়ে অপহরণকারী চক্র লালন করতেন। তাদের মূল টার্গেট ছিল অবৈধ মালামাল পাচারকারী চক্রের ওপর। সোর্স দিয়ে অবৈধ পাচারকারী চক্রকে চিহ্নিত করাতেন তিনি। এরপর সময়মতো সরকারি অস্ত্র, হ্যান্ডকাফ আর সহযোগীদের নিয়ে হাজির হয়ে যেতেন টার্গেটস্থলে। গ্রেপ্তারের নামে অপহরণ করে সব কিছু কেড়ে নিতেন তারা। অবৈধ মালামাল হওয়ায় ভুক্তভোগীরা কখনোই থানা-পুলিশে অভিযোগ করতে যেতো না। এ সুযোগটাই কাজে লাগাতো তারা। গ্রেপ্তারকৃত মিরন খান জানায়, সে আর ফাজিকুল একসঙ্গে নড়াইলের লোহাগড়া আমাদা উচ্চ বিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়াশোনা করতো। ৭-৮ মাস আগে ফাজিকুল তাকে নড়াইল থেকে সাভারে ডেকে আনে। অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গ বানায় তাকে। মিরন জানান, ফাজিকুল তাকে টাকা দিয়ে মদ, গাঁজা, হেরোইনসহ মাদকদ্রব্য ও অবৈধমালামাল কিনতে বলতো। কেনার নামে এসবের উৎস ও বিক্রেতাকে চিনে রাখাই ছিল তার কাজ। পরে এএসআই ফাজিকুল অভিযানের নামে মাদক বিক্রেতা ও অবৈধ মালামাল পাচারকারীদের আটক করতো। তারপর মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ছেড়ে দিতো তাদের। সুজন নামে গ্রেপ্তারকৃত অপহরণকারী চক্রের আরেক সদস্য জানায়, সে সাভার থানা পুলিশের নিয়মিত সোর্স হিসেবে কাজ করতো। কিন্তু এক দারোগার সঙ্গে ঝামেলা হওয়ায় কিছুদিন আগে ওই দারোগা তাকে মাদক মামলায় চালান করে দেয়। চারদিন আগে সে জেল থেকে ছাড়া পায়। পরে ফাজিকুল তাকে তার সঙ্গে কাজ করার কথা বলে। সে প্রথমে রাজি না হলেও পরে অর্থের লোভে ফাজিকুলের সঙ্গে কাজ করতে থাকে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এটাই ছিল তার প্রথম কাজ। তাদের পরিকল্পনা ছিল স্বর্ণ ও ডলারসহ ওই ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া। পরে তার কাছে থাকা স্বর্ণ ও ডলার নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হতো। কিন্তু তার আগে র‌্যাব তাদের ধরে ফেলে। তাদের সঙ্গে আরও ৪-৫ জন ছিল। তাদের সবাইকে তিনি চেনেন না। এএসআই ফাজিকুল অপকর্মের কথা স্বীকার করে জানায়, তারা কাজটি সাভার না করে আশুলিয়ায় করার পরিকল্পনা করেছিল। এজন্য আশুলিয়া থানার সিভিল টিম এসআই মোস্তাফিজকেও জানিয়েছিল। কিন্তু ঝুঁকি থাকায় মোস্তাফিজ কাজটি করতে রাজি হয়নি। পরে তারা নিজেরাই কাজটি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায়। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ ও জিম্মি করে অর্থ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল। এদিকে সাভার থানার পুলিশ সদস্য আটকের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল।
জড়িত আরও কয়েক পুলিশ কর্মকর্তা: চোরের ওপর বাটপাড়ি করতে গিয়ে র‌্যাবের হাতে ধরা খাওয়া চক্রের মূল হোতা এএসআই ফাজিকুলের সঙ্গে আরও কয়েক পুলিশ কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, অবৈধ চোরাকারবারিদের কাছ থেকে স্বর্ণ ও ডলার চালান আটকের বিষয়টি ফাজিকুল তাদের আরও দুই সহকর্মীকে জানিয়েছিল। কিন্তু তাদের কাছ থেকে সাড়া পায়নি। পরে ফাজিকুল বিষয়টি আশুলিয়া থানার সিভিল টিম এসআই মোস্তাফিজুরকে জানায়। মোস্তাফিজুর বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে কাজটি প্রথমে করতে চাইলেও পরে আর সাড়া দেননি। জানতে চাইলে এসআই মোস্তাফিজুর জানান, এ ঘটনাটি তিনি জানেন না। ফাজিকুল তাকে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। সাভার থানার অপর এক এসআই মোস্তাফিজুরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
থানা সূত্র জানায়, এসব কাজ সাধারণত থানার ওসি থেকে দারোগারা সবাই জানে। পুলিশের ভাষায় ‘কাজ’ শেষে অর্থ সবার মধ্যে সমান ভাগাভাগি হয়। পুলিশের খাতায় এটি প্রচলিত একটি কাজ। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় কাজে যোগ না দেয়ায় সাভার থানায় তার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছে। থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, সন্ধ্যায় ফাজিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে না পাওয়ায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। সে সোর্সের কাছে খবর পেয়ে ওই স্থানে গিয়েছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে তার অনুমতি নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক সময় অবৈধ মালামাল উদ্ধার করে পরে ওসিকে জানায়। ফাজিকুল হয়তো তা-ই করেছে। ডিউটি না থাকার সময়ও সরকারি অস্ত্র সঙ্গে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, কত নিয়মই তো আছে, সব তো পালন করা যায় না। পুলিশ জানের ভয়ে অস্ত্র সবসময় সঙ্গে রাখে।
একের পর এক অপরাধ: নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করে আলোচিত-সমালোচিত সাভার মডেল থানা পুলিশ একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে নানা অপকর্মে জড়িয়ে লোকজনের ক্ষোভের মুখে সাভার থানা থেকে অন্যত্র বদলি হয়েও অল্পদিন পরই আবার সাভার থানায় যোগ দিয়েছেন কনস্টেবল থেকে সাব-ইন্সপেক্টর পর্যন্ত এমন পুলিশের সংখ্যা অসংখ্য। চাকরির সুবাদে জমি কিনে বাড়ি করে সাভারে স্থায়ী নিবাস গড়েছেন এমন পুলিশের অনেক অর্ধশত। বিতর্কিত পুলিশদের ঘুরেফিরে বারবার সাভার মডেল থানায় যোগ দেয়ায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের কাছে ঢাকা জেলার সাভার ও আশুলিয়া থানা হচ্ছে সারপ্রাইজ পোস্টিং। এই দুই থানায় যোগ দিতে হলে উপর মহলে লাখ লাখ টাকা গুনতে হয়। আর কর্মকর্তা হলে পদস্থদের দিতে হয় মোটা অঙ্কের মাসোহারা। এরপরও এ থানা ঘিরেই পুলিশের যত আগ্রহ! বদলি হলেও চলে তা বাতিলের দৌড়ঝাঁপ এবং আবার দিন কয়েক পরই শুরু হয় ফিরে আসার তদবির। শিল্প এলাকা সাভার, আশুলিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মাদক স্পট থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় হয়। সম্প্রতি সাভার মডেল থানার এসআই এমদাদকে ট্রাকসহ অস্ত্র ধরে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় তারই সহকর্মী এক দারোগার লিখিত অভিযোগে আশুলিয়া থানায় বদলি করা হয়। সাভারের চেয়ে আশুলিয়ায় ‘কাঁচা টাকা’ বেশি হলেও এমদাদ সাভারের টাকার মায়া ছাড়তে পারেনি। সে জন্যই এই থানার পুলিশ না হয়েও গত বছরের ৫ই জুন রাতে সাভার থানার তৎকালীন এসআই সাজ্জাদ রুমন, এএসআই আকিদুরের সঙ্গে নামে গ্রেপ্তার বাণিজ্যে। ব্যবসায়ী শামীমকে ২০০২ সালের তেঁতুলঝোড়ার মেটকা গ্রামের রইজ উদ্দিন (স্থানীয় জনতা হাউজিংয়ে খুন হন) হত্যা মামলার ওয়ারেন্টের আসামি দাবি করে আটক করেন। শামীমের সঙ্গে তার মামাতো ভাই সাইফুলকেও আটক করা হয়। মোবাইল ফোনে কল করে ৫ লাখ টাকা দাবি করে এএসআই আকিদুল ইসলাম। টাকা দিতে অপারগতা জানালে চামড়া শিল্প পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে ব্যবসায়ী শামীমকে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হলে এসআই এমদাদ হোসেন ও এএসআই আকিদুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তারা জেলহাজতে।