suraj-pancholi-jiah-post_1371114435
কাঠগড়ায় সুরজ পাঞ্চোলি

বলিউডের অকালপ্রয়াত অভিনেত্রী জিয়া খানের আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে তাঁর প্রেমিক সুরজ পাঞ্চোলির বিরুদ্ধে এক মাস আগে চার্জশিট দাখিল করে মুম্বাই পুলিশ। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ফের খবরের শিরোনাম হয়েছেন বলিউডের বিতর্কিত ও প্রভাবশালী অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরজ।

এ প্রসঙ্গে জিয়া খানের মা রাবেয়া আমিনের আইনজীবী দীনেশ তিওয়ারি জানিয়েছেন, ‘আদিত্য পাঞ্চোলি ও জেরিন ওয়াহাবের ছেলে সুরজ আদালতে হাজির হয়েছিলেন। মামলার বিচার কার্যক্রম আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছেন আদালত।’

মুম্বাই পুলিশ গত ১৬ জানুয়ারি আন্ধেরির মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ৪৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে জিয়ার আত্মহত্যায় তাঁর প্রেমিক সুরজের প্ররোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিচার কার্যক্রম শুরুর জন্য মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে মুম্বাই সেশন কোর্টে স্থানান্তর করা হয়। সম্প্রতি এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

এদিকে, ওই চার্জশিট মেনে নিতে পারেননি জিয়া খানের মা রাবেয়া আমিন। তাঁর দাবি, ‘যে ঘর থেকে জিয়ার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, তার পাশের ঘরে জমাট বাঁধা রক্ত খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। দুটি ভিন্ন ঘরে জিয়ার রক্ত কীভাবে পাওয়া গেল তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি চার্জশিটে। এ ছাড়া জিয়ার মৃত্যুর পরপরই পুলিশ যে ছবি তুলেছিল তাতে স্পষ্ট দেখা গেছে, জিয়ার ঠোঁট ও হাতের কবজিতে আঘাতের চিহ্ন আছে। এই আঘাতের চিহ্ন কোথা থেকে এল, সেটা খুঁজে বের করতেও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, জিয়ার গলায় যে ধরনের দাগ দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যাকারীর গলার দাগের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এরও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি চার্জশিটে।’

চার্জশিট সম্পর্কে রাবেয়ার আইনজীবী দীনেশ তিওয়ারির মন্তব্য, ‘এই মামলার সাক্ষীরা শুরুর দিকে পুলিশের কাছে যে ধরনের জবানবন্দি দিয়েছিলেন, চার্জশিটে তা পুরোপুরি পাল্টে ফেলা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামতও বদলে ফেলা হয়েছে। এমন আরও অনেক শক্ত কারণ আছে, যার জন্য জিয়ার মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে এফবিআইয়ের সম্পৃক্ততা কামনা করছি আমরা। এই কাজে সহায়তা দিতে রাজি আছে এফবিআই। আমাদের প্রত্যাশা, যথাযথ কর্তৃপক্ষ নতুন করে তদন্ত শুরুর পাশাপাশি তদন্তকাজে এফবিআইয়ের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩ জুন মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজ বাসা থেকে জিয়া খানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। জিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় তাঁর প্রেমিক সুরজকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ। অল্প কয়েক দিন দিন জেলের চার দেয়ালে বন্দী থাকার পর তাঁকে গত ১ জুলাই জামিনে মুক্তি দেন বোম্বে উচ্চ আদালত।

পরবর্তী সময় গত ১ অক্টোবর জিয়ার মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে বোম্বে উচ্চ আদালতে মামলা ঠুকে দেন রাবেয়া। জিয়াকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (সিবিআই) অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর আবেদন জানান রাবেয়া।

জিয়া খান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে তাঁর মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (এফবিআই) সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে গত অক্টোবর মাসে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যান্সি জে পাওয়েল বরাবর একটি চিঠি লেখেন রাবেয়া আমিন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জানুয়ারি মাসের শেষদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জিয়া খানের মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে এফবিআইকে সম্পৃক্ত করার অনুমতি চেয়েছে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন কনস্যুলেট। জিয়ার মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে নতুন করে তদন্ত শুরুর পাশাপাশি তদন্তকাজে সাহায্য করার জন্য এফবিআইকে সম্পৃক্ত করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আর পাতিলের কাছে।