Rokea-Univercity-2
এবার রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কাগজপত্র লুট করল ছাত্রলীগ

পছন্দের প্রার্থীর চাকরির আবেদন বাতিলের প্রতিবাদে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখায় হামলা চালিয়ে কাগজপত্র তছনছ ও জরুরি কাগজপত্র লুট করে নিয়ে গেছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় এ ঘটনার নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র হাদীউজ্জামান হাদী।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। দুপুরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন উপাচার্য। বৈঠকে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আর এম হাফিজুর রহমান সেলিমকে আহ্বায়ক ও প্রক্টর ড. নাজমুল হককে সদস্যসচিব করে সাত সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার ময়নুল আজাদ।

সেকশন অফিসার জিয়াউল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩ জন কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রার্থীদের নামে ইন্টারভিউ কার্ড পাঠানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হাদীউজ্জামান হাদীর পছন্দের প্রার্থী নির্মলকুমার রায় আবেদন করেন সেকশন অফিসার গ্রেড-২ পদে। কিন্তু বিধিসম্মত না হওয়ায় তার আবেদনপত্রটি বাতিল করে কমিটি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেলা ১১টায় হাদীউজ্জামান হাদীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা মিছিল নিয়ে সংস্থাপন শাখায় হামলা চালিয়ে কাগজপত্র তছনছ করেন এবং কিছু জরুরি কাগজ লুট করে নিয়ে যান। বাছাই কমিটির আহ্বায়ক ডিন ফেরদৌস রহমান বলেন, নির্মলকুমার রায় যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র এবং কম্পিউটার শিক্ষার সনদ জমা না দেওয়ায় তার আবেদনপত্র বাতিল করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হাদীউজ্জামান হাদী বলেন, আবেদনকারী আমাদের দলীয় ছেলে। সব যোগ্যতা থাকার পরও তার আবেদনপত্র বাতিল করায় মাথা গরম হয়ে যায়। ফলে সংস্থাপন শাখার কাগজপত্র তছনছ করেছি, কিন্তু লুট করিনি। প্রসঙ্গত, গত বছর ১০ জানুয়ারি পাঁচ শিক্ষকের ওপর এসিড নিক্ষেপ মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত দুই নম্বর আসামি হলেন হাদী।