5308506213f3b-Hrehaanভাবছেন, হৃতিক রোশনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সন্তান ভাগাভাগির পরিকল্পনা করছেন সুজান রোশন! না, এমন কিছুই না। সম্প্রতি সুজান জানিয়েছেন, রিহান স্বভাবে ঠিক তার বাবার মতোই। আর রিদান পেয়েছে তার মায়ের স্বভাব।

আট বছর বয়সী রিহান সম্পর্কে সুজানের ভাষ্য, ‘রিহানের স্বভাব ঠিক তার বাবার মতোই। সে অত্যন্ত বুদ্ধিমান। হিসাব-নিকাশে খুবই পাকা। আশপাশের সবকিছু নিয়েই তার ব্যাপক কৌতূহল। তবে রিহান খুবই শান্ত ও চুপচাপ একটি ছেলে।’ সম্প্রতি এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

ছয় বছর বয়সী রিদান সম্পর্কে বলতে গিয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে সুজানের মুখ। তিনি বলেন, ‘রিহান তার বাবার স্বভাব পেলেও রিদান হয়েছে ঠিক আমার মতো। সে সব সময় হাসিখুশি থাকে। কোনো কিছুতেই তার কোনো অভিযোগ নেই। সে মজা করতে খুব পছন্দ করে। সত্যিকারের রকস্টার সে। এই বয়সেই তার শিল্পসত্তার পরিচয় পেয়েছি আমি।’

রিদান সম্পর্কে সুজান আরও বলেন, ‘রিদানের হাতের লেখা খুবই সুন্দর। একবার তার স্কুলে গিয়েছিলাম আমি। তখন একজন শিক্ষিকা আমাকে রিদানের খাতা দেখালেন। ওই শিক্ষিকা খাতাটি নিজের কাছে রেখে দিতে চাইলেন। কারণ তিনি খাতার মধ্যে লেখা রিহানের চমত্কার হাতের লেখা ক্লাসের অন্য শিক্ষার্থীদের দেখিয়ে শেখাতে চান কীভাবে সুন্দর অক্ষরে লিখতে হয়। আমার ধারণা, আমার কাছ থেকেই এই গুণটি পেয়েছে রিদান। বংশানুগতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক উপাদান হল জিন। রিদান সম্ভবত আমার জিন বেশি পেয়েছে।’
দুই সন্তানের কাছ থেকে কাজ করার শক্তি ও অনুপ্রেরণা পান বলেই জানিয়েছেন সুজান। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘দুই সন্তানকে ঘিরেই আমার পুরো জগত্। তারাই আমার কাজ করার শক্তি ও অনুপ্রেরণার উত্স। এত কম বয়সেই ডিজাইনের ভালো-মন্দ বুঝতে শিখেছে রিহান ও রিদান। আমি পেশায় ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। আমার ডিজাইন করা সবগুলো বাড়িই তারা দেখতে যায়। শুধু তা-ই নয়, কাজ করার সময় আমার পাশে বসে থাকতে তারা খুবই পছন্দ করে। আইপ্যাডে ঘরবাড়ি বানানোর নানা গেমস খেলে তারা। এমনকি আইপ্যাডে ডিজাইন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে তারা ঘরবাড়িও বানায়।’

বর্তমান সময়ের কোন অভিনেতা ও অভিনেত্রী বলিউডের ঝান্ডা সামনে এগিয়ে নেওয়ার যোগ্যতা রাখেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সুজান বলেন, ‘আমি রণবীর কাপুরকে খুবই পছন্দ করি। তিনি দারুণ প্রতিভাবান একজন অভিনেতা। আমার ধারণা, অভিনয়ে নৈপুণ্যের পাশাপাশি তাঁর মধ্যে মিষ্টি এক ধরনের দুষ্টুমি আছে যা তাঁকে বলিউডের পরবর্তী এক নম্বর তারকায় পরিণত করতে পারে। কেবল কাপুর পদবির জন্য নয়, অভিনয়গুণেই তিনি অসংখ্য মানুষের হূদয় জয় করে নিয়েছেন। যেকোনো ধরনের চরিত্রে তিনি সাবলীলভাবে অভিনয় করতে পারেন। নিজেকে একজন খাঁটি চরিত্রাভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন তিনি।’

বর্তমান প্রজন্মের সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে ‘দেব ডি’ তারকা কালকি কোয়েচলিনের নাম উল্লেখ করেছেন সুজান। কালকি সম্পর্কে সুজানের মন্তব্য, ‘তাঁকে আমার খুব ভালো লাগে। সৌন্দর্যের পাশাপাশি তাঁর মধ্যে অদ্ভুত এক ধরনের রহস্যময়তা রয়েছে। আমার ধারণা, চলচ্চিত্র জগতে বহু দূর যাবেন কালকি।’

প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের জানুয়ারিতে ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রেখেছিলেন হৃতিক। তিনি একই বছরের ২০ ডিসেম্বর বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ও নির্মাতা সঞ্জয় খানের মেয়ে সুজানের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন। কয়েক বছর চুটিয়ে প্রেম করার পরই বিয়ে করেছিলেন হৃতিক-সুজান। ২০০৬ সালে তাঁদের ঘরে আসে প্রথম ছেলে রিহান। দুই বছর পর তাঁদের দ্বিতীয় ছেলে রিদানের জন্ম হয়।

বছরের পর বছর ধরে বলিউডের অন্যতম সফল ও সুখী দম্পতি হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে হৃতিক-সুজানের নাম। কিন্তু ১৩তম বিয়ে বার্ষিকীর ঠিক এক সপ্তাহ আগে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর হৃতিক জানান, তিনি ও সুজান বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানালেও, এর পেছনের কারণ সম্পর্কে হূতিক কিংবা সুজান কেউই স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

বিচ্ছেদের কারণ জানতে চাইলে সুজানের সোজাসাপ্টা জবাব ছিল, ‘অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই অনেক কিছু ঘটে যায়। পরিস্থিতিই মানুষকে বাধ্য করে অপ্রত্যাশিত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে। বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে আমি স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাই না। কারণ আমি নিজেও একজন মা এবং মেয়ে।’