15-03-14.. (11)

দৈনিক বার্তা : গত ২৩ ফেব্রম্নয়ারি ২০১৪ তারিখ সকাল ০৯.৫৫ টায় গাজীপুর জেলার কাশিমপুর কারাগার হতে ময়মনসিংহ কোর্টে হাজিরা দেয়ার জন্য জেএমবি’র মৃতু্যদন্ড প্রাপ্ত আসামী (১) রাকিব হাসান@হাফেজ মাহমুদ@রাসেল (৩৫), (২) সালাউদ্দিন সালেহীন ও (৩) যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী বোমারম্ন মিজানদের পরিবহনকালে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানাধীন আমিরাবাড়ী সাইনবোর্ড এলাকায় পৌছালে পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা দুস্কৃতকারীরা আসামীবাহী প্রিজনার্স ভ্যানের গতিরোধ করে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের উপর এলোপাতারি গুলি ও বোমা বর্ষণ করে৷ উক্ত স্থানে কর্তব্যরত কং/আতিককে নিহত এবং এসআই(সঃ)/হাবিবুর রহমান ও কং/সোহেল মিয়াকে গুরম্নতর আহত করে৷ উক্ত মৃতু্যদন্ডপ্রাপ্ত ০২ জঙ্গিসহ যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত অপর এক জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্রম্নত গতিতে পালিয়ে যায়৷
একই দিন ১১.০৫ টায় পুলিশ ধাওয়া করে গাড়ীতে থাকা ০২ জন জঙ্গি সদস্য (১) মোঃ জাকারিয়া @হিমেল (৩০), ও (২) মোঃ রাসেল (২৮) কে ৬ রাউন্ড গুলিসহ ০১টি বিদেশী পিসত্মল, ০৫টি আইইডি বোমা, ২টি পস্নাস, ১টি বড় লোহা কাটার এবং নগদ ১২৫০০/-সহ গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়৷ ছিনতাইকৃত আসামী (৩) রাকিব হাসান@রাসেল@হাফেজ মাহমুদ (৩৫) কে ১৪২৩২/-সহ একটি সিএনজি অটো রিঙ্া থেকে আটক করা হয়৷ তার সহযোগী/দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হলে তাকে চিকিত্‍সার জন্য নিকটবতর্ী হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্‍সক তাকে মৃত ঘোষণা করে৷ তখন উদ্ধার হয় ১টি সাটারগান, ১টি তাজা কাতর্ুজ এবং ২টি গুলির খোসা৷ সহকারী পুলিশ কমিশনার জনাব জুয়েল রানা, পিপিএম-এর নেতৃত্বে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও গাজীপুর জেলা পুলিশের একাধিক টিম ঢাকার বাসাবো থেকে জঙ্গি জাকারিয়ার স্ত্রী (৪) সামছুন্নাহার খাতুন @ স্বপ্না (২৩) এবং জাকারিয়ার ভাই (৫) মেঃ ইউসূফ (২৮)কে গ্রেফতার করে৷ এ সময় তাদের কাছ থেকে জঙ্গী সংগঠনের বিভিন্ন প্রচারনামূলক বইসহ নানাবিধ তথ্যমূলক কাগজপত্র পাওয়া য়ায়৷ এছাড়াও তারা জেএমবি’র বর্তমান অবস্থার সম্বন্ধে প্রচুর তথ্য প্রদান করে৷ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে ত্রিশালের জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে (৬) রাজু আজমেদ @ রাজু (৩৫), ইসলামপুর- জামালপুর এবং (৭) সোহরাব হোসেনকে ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়৷

অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দৰিণ) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, পিপিএম (বার)-এর নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এবং ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ-এর একাধিক টিম ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যৌথভাবে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে জেএমবি’র ০২জন অর্থদাতাসহ মোট ০৫জন জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করে৷ বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ রহমত উলস্নাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি টিম জঙ্গি ছিনতাই ঘটনায় জড়িত অন্যতম জেএমবি সদস্য (৮) আল আমীন (২৮) (৯) রাহাত (১০) আজমীর (২৮) (১১) জিতু (২৮)দেরকে হাতিরঝিল হতে গ্রেফতার করা হয়৷ এসময় গাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয় ০৯ (নয়) রাউন্ড গুলি (৭.৬৫মিমি. এবং .৩২বোর), বেশকিছু বিস্ফোরক, বোমা তৈরীর সরঞ্জামাদী, বোমা বানানোর ম্যানুয়াল, জঙ্গি অথর্ায়নের হিসাব, বিভিন্ন সিকিউরিটি ব্রেকিং পস্ন্যান, গুরম্নত্বপূর্ণ স্থাপনার মানচিত্র৷

তাদের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে ১৩/০৩/১৪ তারিখ ২৩.৪৫ ঘটিকায় গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশের অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দৰিণ) জনাব মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, পিপিএম (বার)-এর তত্ত্ববধানে সহকারী পুলিশ কমিশনার জনাব হাসান আরাফাতের নেতৃত্বে একটি টিম ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের সাথে যৌথভাবে ত্রিশাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জঙ্গিদের দু’টি বাসা থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত ০১টি মোটরসাইকেল, ০১টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ০৪(চার) রাউন্ড গুলি (৭.৬৫মিমি.), বেশকিছু বিস্ফোরক, বোমা তেরীর সরঞ্জামাদী, বোমা বানানোর ম্যানুয়াল, বিভিন্ন সিকিউরিটি ব্রেকিং পস্ন্যান, গুরম্নত্বপূর্ণ স্থাপনার মানচিত্র প্রভৃতি জিনিস উদ্ধার করে৷ অদ্য ১৫/০৩/১৪ তারিখ সকাল ৬.০০ টায় বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ রহমত উলস্নাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম এবং সিআইডি’র একটি টিম গ্রেফতারকৃত জঙ্গি জিতুর দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে জঙ্গি ছিনতাই ঘটনায় জড়িত (১২) রম্নহুল আমীন @রাজু (২৮) বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়৷

গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, জঙ্গি সদস্য ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পিনাকারী ছিলেন কারাবন্দি জঙ্গি হাফেজ মোহাম্মদ রকিব৷ তারা অল্প সময়ের মধ্যে জামিন পেতে যাচ্ছে এমন কয়েকজন জঙ্গি সদস্যদের সহযোগীতায় এই কারাবন্দি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে জেলখানার ভিতরেই কারাবন্দি অবস্থাতেই৷ পরিকল্পনা মাফিক বেশ কয়েকজন জঙ্গি সদস্য জামিনে বের হয়ে এসে অভিযানের জন্য অর্থ এবং শক্তি সঞ্চারের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে৷ তারা গত ৮ মাস আগে কাশিমপুর, কোনাবাড়ী, গাজীপুর এলাকায় একাধিক বাসা ভাড়া নিয়ে গাজীপুর এলাকায় এই জঙ্গি ছিনতাই করার জন্য সুবিধাজনক একটি স্থান খুঁজতে থাকে৷ কিন্তু তারা এরকম নির্ভরযোগ্য কোন স্থান না পাওয়ায় গত ৫মাস আগে অপরাধ সংঘটনস্থল পরিবর্তন করে ভালুকা-ত্রিশাল এলাকা বেছে নেয়৷ তারা ঐ এলাকায় পরিকল্পনা মাফিক একাধিক বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে দীর্ঘদিন যাবত অবস্থান গ্রহন করতে থাকে৷ কেউ কেউ সপরিবারে সেখানে অবস্থান করে৷ এসময় তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিস্ফোরক, বোমা তৈরীর নানা সরঞ্জামাদী, কাটার, অস্ত্র-গুলি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিভিন্ন যানবাহন প্রভৃতি জিনিসপত্র সংগ্রহ এবং মওজুদ করতে থাকে৷ ঘটনায় সরাসরি জড়িত গ্রেফতারকৃত একাধিক জঙ্গি সদস্যদের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, এই ঘটনায় প্রত্যৰ বা পরোৰভাবে প্রায় ১০/১৫ জন জঙ্গি সদস্য অংশগ্রহন করে৷ উক্ত ঘটনায় ০২টি মাইক্রোবাস, ০১টি ট্রাক, ০১টি সিডান টাইপ (প্রাইভেট) কার, ৪টি মোটর সাইকেল, বোমা, ৯টি বিদেশী পিসত্মল (৭.৬৫মিমি), ডান্ডা বেরী ভাঙ্গার/কেটে ফেলার বিশেষ ধরনের কাটার প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়৷

মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স , ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা৷