1
আমিনুল হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার আহ্বান

শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের ঘাতকদের খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এক বিবৃতিতে এ সংস্থা বলেছে, দু’ বছর আগে আমিনুল ইসলামকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যা করা হয়। অভিযোগ আছে এ হত্যাকা-ের সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও জড়িত। এ বিষয়টি তদন্ত করতে কি কি উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করা উচিত বাংলাদেশ সরকারের। পুলিশ এ ঘটনায় একটি নিখোঁজ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রের অংগ হিসেবে ওই শ্রমিক নেতাকে হত্যার সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে দৃশ্যত কোন উদ্যোগ নেয়া হয় নি। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটি হলো একটি শ্রমিক সংগঠন। তারা বাংলাদেশের গার্মেন্ট কারখানায় ও সামুদ্রিক খাদ্য বিষয়ক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। এই সংগঠনের একজন নেতা ছিলেন আমিনুল ইসলাম (৩৯)। ২০১২ সালের ৪ঠা এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। তাকে সর্বশেষ যেখানে দেখা গিয়েছিল সেখান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে দু’দিন পরে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ জন্য বাংলাদেশে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের জড়িত থাকার বিষয়ে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেন, দু’ বছর পেরিয়ে গেছে আমিনুল হত্যার পর। তিনটি তদন্ত হয়েছে। কিন্তু আমিনুলের কি হয়েছিল সে সত্য না তার পরিবার, না দেশবাসী জানতে পেরেছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ক্ষমা করে দেয়ার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের উচিত আমিনুল হত্যার তদন্ত করতে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা। ২০১৩ সালের নভেম্বরে এ ঘটনায় সাবেক গার্মেন্ট কর্মী মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ গঠন করে সিআইডি। আমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই মুস্তাফিজ কোথায় তা কেউ জানে না। সিআইডির এক কর্মকর্তা এইচআরডব্লিউ’কে বলেছেন, যেহেতু এ বিষয়ে মামলা অমীমাংসিত রয়েছে তাই তিনি এ নিয়ে কথা বলবেন না। তবে ওই বিচারের জন্য নির্ধারিত কোন সময়সীমা দেয়া হয় নি। এইচআরডব্লিউ বিশ্বাস করে, ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস-এর ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার অনুপস্থিতিতে  বিচার করার মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় থাকে। ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস মেনে চলতে বাধ্য বাংলাদেশ। ব্রাড এডামস বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার করা হলে এ মামলা শেষ হয়ে যাবেÑ এমনটা ভাবা উচিত নয় বাংলাদেশের। মুস্তাফিজুর রহমানকে আটক ও তার বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি আমরা। তবে তা-ই যথেষ্ট হবে না। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিষ্ঠান যদি আমিনুল ইসলাম মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ না হয় তাহলে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের ওপর কালো মেঘ রয়েই যাবে।