2খুলনায় চাচাতো বোনের বাসায় বেড়াতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নববধূ (২০)। স্বামীকে আটকে রেখে তাকে গণধর্ষণ করে চার নরপশু। খুলনার দীঘলিয়া উপজেলার সেনহাটির বেদেপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ধর্ষণে সহায়তাকারী ফাতেমা বেগম নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার স্থানীয় থানায় গণধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নববধূ তার স্বামী ফকরুল ইসলাম দুর্জয়ের সঙ্গে ৩১ মার্চ উপজেলার সেনহাটির বেদেপাড়ায় তার চাচাতো বোন পারভীনের বাসায় বেড়াতে আসেন। ওই রাতেই স্থানীয় ৭-৮ জনের একটি দল তাদের অপহরণ করে বিলের মধ্যে নিয়ে মারধর এবং চাঁদা দাবি করে ছেড়ে দেয়। পরদিন ১ এপ্রিল রাতে বোনের বাসায় জায়গা না থাকায় পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা এখলাসের ঘরে নবদম্পতিকে ঘুমাতে দেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে এখলাসের মোবাইল ফোনে জনৈক ব্যক্তি বলে ‘নববধূর স্বামীকে নিয়ে বাইরে বের হও, পুলিশ আসছে।’ এ কথার পর এখলাস স্বামী দুর্জয়কে নিয়ে পার্শ্ববর্তী নদীর ঘাটে নিয়ে যায়। এরই মধ্যে একাধিক ব্যক্তি তার নববিবাহিত স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এতে তার অবস্থার অবনতি হলে ২ এপ্রিল দিনভর ওই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীকে আটক রেখে গোপনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকেও ফেরত দিয়ে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

এদিকে, ঘটনা প্রকাশ পেলে ধর্ষিতার বোন পারভীন বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার দীঘলিয়া থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন- বেদেপাড়ার জয়নুদ্দিনের ছেলে এখলাস (৩০), ইউনুস খানের ছেলে চুন্নু খান (৪০), হাবিবুর শেখের ছেলে রাজু শেখ (২৪) ও ধর্ষণে সহায়তারকারী ফাতেমা বেগম (৪০)।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয় সেনহাটি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আসাদুজ্জামান আসাদকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে। এমনকি তিনি নিজেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সূত্রগুলো অভিযোগ তুলেছে।

দীঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল হোসেন গণধর্ষণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলা দায়েরের পর ধর্ষণে সহায়তাকারী ফাতেমা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষিতার স্বাস্থ্যের চিকিৎসা শেষে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হবে। তিনি নিজেই মামলাটি তদন্ত করছেন। অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনার সঙ্গে পুলিশের জড়িত থাকার বিষয়ে অভিযোগ পেলেও তিনি কোনো প্রমাণ পাননি বলে দাবি করেন।