1২৩৯ জন যাত্রীসহ নিখোঁজ মালয়েশীয় বিমান ফ্লাইট-৩৭০ এর ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। একটি বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স (ফ্লাইট রেকর্ডার) ৩০ দিন পর্যন্ত সিগন্যাল পাঠাতে পারে। কোনো বিমান ধ্বংস হয়ে গেলেও তার ব্ল্যাক বক্স অক্ষত থাকে এবং এতে বিমানের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে। গত ৮ মার্চ বিমানটি নিখোজ হয়। সে হিসাবে ৭ এপ্রিলের আগেই ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার করতে হবে।
এ জন্য জলের তলে নিখোঁজ মালয়েশীয় বিমানটির খোঁজ শুরু করেছে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ। টুয়িড পিনগার লোকেটর নামে ছোট্ট একটি ক্যামেরা লাগানো দুটি মেশিনের সাহায্যে দক্ষিণ ভারতীয় মহাসাগরের নিচে ফ্লাইট-৩৭০ এর ব্লাকবক্স উদ্ধারে চিরুনি অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, নিখোঁজ যাত্রীবাহী বিমানের রহস্য উদঘাটন না করা পর্যন্ত তার দেশ ক্ষান্ত হবে না। যদিও অস্ট্রেলিয়ার অনুসন্ধানকারী দল নিখোঁজ বিমান খুঁজে বর করার অভিযানকে ‘মানবেতিহাসের সবচেয়ে জটিল’ অনুসন্ধান বলে মন্তব্য করেছে।
গত ৮ মার্চ ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বিমান ফ্লাইট-৩৭০। এরপর অনেক অনুসন্ধান করেও মেলেনি এর কোনো হদিস। বিমানটি অনুসন্ধানের জন্য অস্ট্রেলিয়ার পার্থের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অনুসন্ধানকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ওই কেন্দ্র সফর করে নাজিব রাজ্জাক বৃহস্পতিবার বলেন, নিখোঁজ বিমান সংক্রান্ত যথার্থ উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না। আট দেশের সমন্বয়ে ওই অনুসন্ধান কাজে জড়িত সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
মনে করা হচ্ছে, বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। নিখোঁজ ওই বিমানের রহস্য আর কোনোদিনই হয়ত জানা যাবে না বলে মনে করা হলেও নাজিব রাজ্জাক দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমরা এর রহস্য উদঘাটন করতে চাই এবং নিখোঁজ যাত্রীদের পরিবারকে তা জানাতে চাই।
নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে ১৫৩ জন ছিলেন চীনা নাগরিক। বিশেষ করে তাদের পরিবারের লোকজন কুয়ালালামপুরের কাছ থেকে নিখোঁজ বিমান সম্পর্কে সঠিক জবাব না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন।