লংমার্চ বিএনপির রাজনীতির নতুন কৌশল:আমু

0
28

1দৈনিক বার্তা :শিল্পমন্ত্রী আমির হোমেন আমু বলেছেন, বিএনপি ইতিহাস বিকৃতির রাজনীতিতে সফল হতে না পেরে, তিস্তা অভিমুখে লংমার্চের নতুন কৌশল নিয়েছে। কিন্তু এটাতেও তারা সফল হয়নি।আমির হোসেন আমু বলেন, ইতিহাস বিকৃত করা যায় না। আর যারা এগুলো করার চেষ্টা করছে তাদের আসল পরিচয় চিহ্নিত করতে পারলেই আমরা বুঝতে পারব তাদের গুরুত্ব  দেবার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা?

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি  রোধে নতুন প্রজন্ম শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ(স্বাচিব)বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

আমির  হোসেন আমু বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব অর্জন  শেখ হাসিনার সরকারের আমলে হয়েছে। অন্য সরকারের আমলে  কোনো উন্নয়নই হয়নি। গঙ্গা পানি চুক্তি হয়েছে, সমুদ্রসীমার নিষ্পত্তি হয়েছে। বিএনপি ইতিহাস বিকৃতির রাজনীতিতে সফল না হয়ে, এখন তিস্তা অভিমুখে লংমার্চের নামে নতুন কৌশল নিয়েছে। অথচ ক্ষমতায় থাকতে এটা নিয়ে তারা কিছুই করেনি। তিনি বলেন, বাংলাদশের জন্মলগ্ন  থেকেই যারা এ দেশকে বিশ্বাস করেনি, তাদের সমালোচনা করে গুরুত্ব  দেওয়ার কিছু নেই। এখন কেউ কিছু বললেই বাংলার মানুষ লাফ দিয়ে  সেটা এখন আর খায় না।আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, এখন দূর  থেকে  কেউ কিছু বললে এ  দেশের জনগণ  সেগুলো মেনে নেবে না। সমালোচনা করে তাদের গুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

আসলে তারা জন্মলগ্ন  থেকেই এ  দেশেটাকে  মেনে নিতে পারে নি।আজকে তারা যা করতে এটা অত্যান্ত সু-পরিকল্পিত।তিনি বলেন, বিএনপি ইতিহাস বিকৃত করতে ব্যর্থ হয়ে তারা লংমার্চের কর্মসূচি দিযেছে। এটা আসলে তাদের রাজনীতি নতুন  রেমরুকরণের  কৌশল।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা ক্ষমতায় থাকতে তিস্তা নিয়ে কোনো কিছুই করেননি। আজকে যখন আওয়ামী লীগ তিস্তা নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলছে তখনই তারা লংমার্চ কর্মসূচি দিযেছে।এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতের নির্বাচনের পরে নতুন সরকার আসলে তাদের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা করে তিস্তা সমস্যার সমাধান হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, লংমার্চ করে যদি পানি বৃদ্ধি হয়, তাহলে আশা করি যুগ যুগ ধরে তাঁরা লংমার্চ করে পানি আনবেন। সরকারের বিরোধিতা করে আজীবন আপনারা লংমার্চ করেন।তিনি বলেন, ‘মানুষের মাথায় মগজ থাকে। কিন্তু বাংলার মানুষ মনে করে, তারেক রহমানের মাথায় মগজ নয়,  গোবর আছে।

অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু, স্বাচিব মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত প্রমুখ।

এদিকে,শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় বাস্তবায়নাধীন অ্যাকটিভফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়্যান্স (এপিআই)শিল্পপার্কবাওষুধ শিল্পপার্কের সীমানাপ্রাচীর, ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান এবং  সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্প এলাকায় ভরাটকৃত মাটির ড্রেসিং ও প্লটিং এর কাজ সমাপ্ত করতে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত এ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করে ওষুধ শিল্প মালিকদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে।বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির নেতাদের সাথে বৈঠককালে শিল্পমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। বৃহস্পতিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে শিল্পসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি সালমান এফ. রহমান, মহাসচিব আব্দুল মুক্তাদির, নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাঃ হাবিবে মিল্লাত এম.পি ও মোসাদ্দেক হাসান, বিসিক চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল বাসেতসহ শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সমিতির নেতারা প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। তারা বলেন, প্রকল্প দলিল অনুযায়ী ভূমি উন্নয়নসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন হলে ওষুধ শিল্প উদ্যোক্তারা বরাদ্দকৃত প্লটের বিপরীতে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করবে।তারা জানান, শিল্পনগরী পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোক্তারা নিজেদের অর্থায়নে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণ করবে। তারা প্রকল্প এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে আগাম উদ্যোগ নিতে শিল্পমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, প্রকল্প এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ভূমি উন্নয়নের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের জন্য পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। ড্রেন, রাস্তা ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধন করা হবে।