জিএসপি সুবিধা পেলে স্বার্থক হবে টিকফা:বাণিজ্যমন্ত্রী

0
25

1দৈনিক বার্তা : ঢাকায় বহুল আলোচিত ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম এগ্রিমেন্ট (টিকফা)চুক্তির প্রথম বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ ধারাবহিকতায় বাংলাদেশ দেশটির বাজারে পণ্য রপ্তানিতে এই সুবিধা পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে ‘ঢাকায় দুই দিনব্যাপী শুরু হওয়া টিকফা বৈঠক এর প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য দেন এবং তার এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন,প্রারম্ভিক বৈঠকে দুটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা ছাড়াও জেএসপি নিয়ে কথা হয়েছে। আমি খোলামেলা বলেছি আমরা কী চাই। তারাও বলেছেন, তারা কী দিতে পারেন। এছাড়া রানা প্লাজার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

টিকফা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০২ সাল থেকে টিকফা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে এবং এটি কার্যকর হয়েছে ৩০ জানুয়ারি থেকে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, টিকফা নিয়ে আজকের প্রথম বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা চেয়েছি। কারণ আমাদের এ দাবি ন্যায়সঙ্গত। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রথম মিনিস্ট্রিয়াল বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও একই দাবি তুলেছিলাম।

এ প্রেক্ষিতে সর্বশেষ বালি প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বালিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আগামী বৈঠকের আগেই উন্নত দেশগুলোকে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় তিনি জানান, শুল্কহারের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শুল্ক দেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশি পণ্যের বিপরীতে গড়ে ১৬ শতাংশ হারে শুল্ক পায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা এ শুল্ক দিলেও এটা না থাকলে বাংলাদেশি পণ্যের দাম আরও কম হতো। এতে বাংলাদেশি পণ্য বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে এবং আমাদের রপ্তানিও বাড়বে।

মন্ত্রী আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে ভিয়েতনাম ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ, তুরস্ক ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, হংকং ১ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ভারত ২ দশমিক ২৯ শতাংশ শুল্ক দিয়ে থাকে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, টিকফার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো। এ লক্ষ্য নিয়েই দেশ দুটির টেকনিক্যাল টিম সোমবার বৈঠক করবে।

এদিকে জিএসপি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জিএসপির মেয়াদ কিন্তু এখন নেই। কিন্তু মার্কিন কং গ্রেস এটা আবার নবায়ন করবে। নবায়ন হলে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা ফিরে পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের টিকফা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএসটিআর ফর সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া মাইকেল ডিলানি সাংবাদিকদের বলেন, সোমবারের টেকনিক্যাল বৈঠকে দুই দেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য নিয়ে আমরা আলোচনা করব। আলোচনা শেষে বিষয়টি সবাইকে অবহিত করা হবে।

প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে রয়েছেন- ডেপুটি ইউএসটিআর মারা বার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ জেনাথন গোল্ডবার্গ, টবি গ্লাক্সম্যান, মাইকেল ও ডোনোভ্যান, টিমোথি ওয়েডিং প্রমুখ। এতে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সব বিষয়ে নাক গলালেও কোনো সুযোগ সুবিধা দেয় না র্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এ বক্তব্য টিকফা বৈঠকে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, যে মুহূর্তে টিকফা নিয়ে আলোচনা করবো, সে সময় মার্কিন সিনেটর রবার্ট মেনেন্দেজের বক্তব্যে আমরা হতাশ হয়েছি।আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মার্কিন সিনেটর রবার্ট মেনেন্দেজ বাংলাদেশে না এসে মন্তব্য করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, আমেরিকার বাজারে জিএসপি এবং ডিউটি ফ্রি-কোটা ফ্রি সুবিধা পেলে টিকফা চুক্তি স্বার্থক হবে।টিকফা বাস্তবায়নের ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।আমাদের দাবি ন্যায়সঙ্গত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বালি প্যাকেজ অনুসারে আমাদের এখন ডিউটি ফ্রি দেয়ার কথা। হংকং মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ৯৭ শতাংশ পণ্যে ডিউটি ফ্রি হবে। দুঃখজনক হলো আমেরিকা আমাদের তিন শতাংশের মধ্যে নিয়ে গেছে। ডাব্লিউটিও’র সিদ্ধান্ত মতে বাংলাদেশকে ডিউটি ফ্রি কোটা ফ্রি সুবিদা দেয়া হবে।

রানা প্লাজা ধসের পর কারখানার কম্পালায়েন্সের ব্যাপারে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর কারণে পোশাক রফতানিকারকরা অনেক যতœবান। পৃথিবীর অনেক দেশে দুর্ঘটনা ঘটে। আমেরিকার টেক্সাসেও সারকারখানায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সালে চীনে শিল্পদুর্ঘটনায় এক লাখ ৪৭ হাজার ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।