ডিসিসির শতাধিক দোকান দখল করে নিয়েছে যুবলীগ ছাত্রলীগের ক্যাডাররা

0
22

2দৈনিক বার্তা : রাজধানীর কাপ্তান বাজার মার্কেটের সিলগালা ভেঙে ডিসিসির মার্কেটের শতাধিক দোকান দখল করে নিয়েছে সরকারী দলের যুবলীগ ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। শুধু তাই নয়, মার্কেটটির মালিক ডিসিসি হলেও জোরপূর্বক দখল করে রীতিমত বরাদ্দ দিচ্ছে যুবলীগ আর ছাত্রলীগ।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারি দলের ক্যাডাররা মার্কেটে একটি অফিস খুলে বসে দোকান ভাড়া ও বরাদ্দপত্র দিচ্ছে ভাড়াটিয়াদের। এই সুযোগে তারা হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা।
একটি সূত্র জানায়, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণ এর অধীনে কাপ্তান বাজার কমপ্লেক্স-১ এর ভবনের নীচ তলায় ৪৪টি এবং ২য় তলায় ৪৪টি দোকান দখল করে নিয়েছে সরকারি দলের ক্যাডার বাহিনী। ডিসসিসির একজন নির্বাহী মেজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গত ২০/০৯/২০১২ ইং তারিখে মার্কেট হতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ৮৮টি দোকান সিলগালা করে দেয়া হয়। কিন্তু মেজিস্ট্রেটের নির্দেশও মানেনি ক্যাডাররা। তারা একমাস পর সিলগালা ভেঙে পুনরায় দখল করে নেয়। এ পর্যায়ে উক্ত মার্কেটের বৈধ দোকানদাররা বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করলে এক মাস পর ১১/১১/২০১২ ইং তারিখে নির্বাহী মেজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট দোকানগুলো অবৈধদখল মুক্ত করে আবারো সিলগালা করে দেয়। কিন্তু শক্তিশালী অবৈধ দখলদার সরকারি দলের ক্যাডাররা তৃতীয়বারের মতো সিলগালা ভেঙে দোকানগুলো দখল করে বরাদ্দ দেয়া শুরু করে। এর নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সহযোগী সংগঠনের স্বঘোষিত সভাপতি ওমর ফারুক। এ ঘটনায় মার্কেটের সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ দোকানদাররা হতভম্ব হয়ে পড়েন। তারা মার্কেটের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বৈধ বরাদ্দপ্রাপ্তদের দোকান বুঝিয়ে দেয়ার জন্য প্রশাসকের কাছে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোন সাড়া মিলছে না। অন্য একটি সূত্র জানায়, দখলবাজ সরকারি দলের ক্যাডারদের সাথে ডিসিসির সম্পত্তি ও মার্কেট বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজস রয়েছে। তারা দখলকৃত প্রত্যেকটি দোকান থেকে গড়ে ৮ লাখ টাকা করে নিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে প্রত্যেক দোকান থেকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাড়াও আদায় করছে। এদিকে মার্কেট সমিতির বৈধ দোকানদাররা ১২ বছর আগে নগর ভবনে সালামীর টাকা জমা দিলেও দোকান বরাদ্দ না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এব্যাপারে সোহরাওয়ার্দী হকার্স মার্কেট সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম যুগান্তর ডটকমকে জানান, বার বার আবেদন করা সত্বেও ডিসিসি আমাদের বৈধ দোকানদারদের দোকান বুঝে দিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন দখলবাজদের সাথে সিটি কর্পোরেশনের অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজস রয়েছে।
এব্যাপারে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি ওমর ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, কাপ্তান বাজার মার্কেটের দোকান বরাদ্দ পাবে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির লোকজন। কোন জামায়াত বা বিএনপির লোকজনকে এখানে ব্যবসা করতে দেয়া হবে। তবে দোকান বরাদ্দের ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে এব্যাপারে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণ এর প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা খালেদ আহমেদ জানান, বার বার উচ্ছেদের পরও অবৈধ দখলদাররা মার্কেটটি দখল করে আছে। শিগগির উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।