নারী জ্বীনের বাদশা!

0
31

1দৈনিক বার্তা : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জ্বীনের বাদশা পরিচয় দেওয়া প্রতারক রুনা বেগম (৪০) ও তার সহযোগী পারভীন আক্তারকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ।

রোববার উপজেলার মিরসরাই পৌরসভার আমবাড়িয়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। তবে এসময় প্রতারক দুই নারীকে আটক করা গেলেও অপর এক পুরুষ সহযোগী পালিয়ে যায়।

পরে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি দেবমূর্তি, আটটি তামার পাতিল ও দুইটি মোবাইল সেট উদ্ধার করে পুলিশ। আটককৃত পারভীন আক্তার ফেনীর দমদমা এলাকার কাটাছড়া গ্রামের রুবেল হোসেন ওরফে নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী এবং রুনা বেগম ৯ নম্বর মিরসরাই সদর ইউনিয়নের মিঠাছড়া এলাকার গড়িয়াইশ গ্রামের লাতু মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগীরা জানায়, আটকৃত রুনা বেগম নিজেকে জ্বীনের বাদশা দাবি করে একাধিক ব্যক্তির সাথে প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। রোগ মুক্তি ও গুপ্তধন প্রাপ্তির কথা বলে আমবড়িয়া গ্রামের আইতুন নেছার ও তার দুই মেয়ের কাছ থেকে মোট সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেন আটককৃত রুনা বেগম। পরবর্তীতে তিনি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বুঝতে পেরে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। তাছাড়া আরো টাকা না দিলে তার সন্তানদের অমঙ্গল এমনকি তাদেরকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয় কথিত ওই জ্বীনের বাদশা।

একই এলাকার খাতিজা আক্তারের স্বামী আব্দুল মান্নান জানান, জ্বীনের ক্ষমতাবলে গুপ্তধন প্রাপ্তির লোভ দেখিয়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ওই টাকা ফেরত চাইলে স্বর্ণ বলে তামার পাতিল, কলসী ধরিয়ে দেয় জ্বীনের বাদশা ওরফে রুনা বেগম।

একইভাবে প্রতারণার মাধ্যমে হাজ্বী জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা, একই গ্রামের এক প্রবাসীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা এবং নাম প্রকাশে অনিশ্চুক অপর এক নারীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওই নারী।

মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আক্কাস আলী বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুনা বেগম প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দায় স্বীকার করেছে। তার সাথে একটি প্রতারক চক্র কাজ করছে বলেও আটককৃতরা জানিয়েছেন।” ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর তদন্তের মাধ্যমে বাকিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি।