দ্রুত আরেকটি নির্বাচন চায় জার্মান সরকার

0
39

1দৈনিক বার্তা : সরকার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান ঢাকা সফররত জার্মান সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। একই সঙ্গে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে দুই দলের মধ্যে কোন সমঝোতা না হওয়ায় তারা হতাশ। এ অবস্থায় সামনের নির্বাচনের জন্য দ্রুত সংলাপ শুরুর তাগিদ দিয়েছেন সফররত ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান মিজ ডাগমার জি ভয়েরল। রাজধানীর গুলশানস্থ জার্মান হাউজে গতকাল বিকালে তাদের ৪ দিনের সফরের আউটকাম জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তাগিদ দেয়া হয়। সেখানে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ছাড়াও ঢাকাস্থ জার্মান রাষ্ট্রদূত আলব্রেকট কনৎসে উপস্থিত ছিলেন। জার্মান এমপি মিজ ডাগমার বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাংলাদেশের কোটি কোটি ভোটার তাদের রায় দিতে পারেননি। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকার পাঁচ বছর থাকবে বলে মনে হয় না। তাই এ বিষয়ে সরকারকে সাবেক বিরোধী দলের সঙ্গে দ্রুত সংলাপ শুরু করতে হবে। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। সন্ধ্যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে এমপি মিজ ডাগমার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। সংলাপ শুরুর পরামর্শ দিয়েছি। আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে জার্মান উদ্বিগ্ন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছেও সেটি স্পষ্ট করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি মেকানিজম বের না হওয়ায় আমরা যে হতাশা হয়েছি সেটিও জানিয়েছি। তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় আমাদের স্বস্তির বিষয়টি তাকে জানিয়েছি। আমরা মনে করি রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে আলোচনা বা সংলাপ যেখানে থেমে গেছে সেখান থেকে এখনই তা চালু করা উচিত। নির্বাচন কার অধীনে হবে- এমন এক প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনের পদ্ধতি কি হবে তা আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশীদেরই ঠিক করতে হবে। বাইরের কেউ এসে তা নির্ধারণ করে দিতে পারবে না। অপর এক প্রশ্নে জার্মান এমপি বলেন, বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সুবিধা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে। দেশের গার্মেন্ট শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের জীবন ও কর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রানা প্লাজায় হৃদয়বিদারক ঘটনার পর শ্রমমান উন্নয়নে অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেশ কিছু কাজ হয়েছে। অনেক কাজ এখনও বাকি আছে। দেশের শ্রম আইনের পুনরায় সংশোধনসহ গৃহীত প্রদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দেন তিনি।
দ্রুত আরেকটি নির্বাচন চায় জার্মান সরকার
৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি মন্তব্য করে জার্মান সংসদীয় প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, সবার অংশগ্রহণে বাংলাদেশে দ্রুত আরেকটি নির্বাচন চায় জার্মান সরকার। গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গুলশানের কার্যালয়ে বৈঠকে তারা এ কথা জানান। বৈঠক শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী এক ব্রিফিংয়ে বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রতিনিধি দলের প্রধান ডাগমার জি ওয়ার্লে বলেন, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অনেক সংশয় ও প্রশ্ন থেকে গেছে। সংলাপের মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণে দ্রুত আরেকটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। দেশের মানুষ যাতে গণতন্ত্র পায় এবং শান্তিতে থাকতে পারে। জার্মান সরকারসহ পুরো ইউরোপ বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে। শমসের মবিন জানান, খালেদা জিয়া প্রতিনিধি দলকে বলেন, জনগণ ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী ও স্পিকার অনির্বাচিত। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণে দ্রুত আরেকটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। এটা শুধু রাজনৈতিক কারণে নয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বর্ণনা করতে গিয়ে খালেদা জিয়া আবু বকর সিদ্দিকসহ সম্প্রতি গুম ও অপহরণের ঘটনা তুলে ধরেন। এসময় গুম-অপহরণের ঘটনায় জার্মান প্রতিনিধি দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খালেদা জিয়া আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে গার্মেন্ট কারখানাসহ সব কর্মক্ষেত্র শ্রমিকবান্ধব হবে। কারণ শ্রমিকরা হলো নিয়ামক শক্তি। খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের স্বার্থে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। ভবিষ্যতে দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করবে। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে খালেদা জিয়ার দেড়ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। জার্মান প্রতিনিধি দলে দেশটির সরকারি দলসহ ৪টি দলের প্রতিনিধি অংশ নেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত আলব্রেট কনৎসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের প্রধান ছিলেন দাগমার জি ভোয়ের্ল এমপি। অন্য প্রতিনিধিরা হলেন- ইয়ুরগেন ক্লিমকে এমপি, ফ্রাঙ্ক হাইনরিক এমপি, স্তেফান রেবমান এমপি, গাবি ভোয়েবার এমপি, নিয়েমা মোভাসাট এমপি, উভে কেকেরিৎস এমপি, ড. ফারদিনান্দ বিৎস এবং তানিয়া হোল। বৈঠকে বিএনপির পক্ষে খালেদা জিয়া ছাড়াও দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান এবং সাবিহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গার্মেন্ট শিল্পের পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে রোববার ঢাকায় এসেছে সাত সদস্যের জার্মান সংসদীয় প্রতিনিধি দল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে জার্মানি বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের সর্ববৃহৎ ক্রেতা রাষ্ট্র। গার্মেন্টস শিল্পের কালো অধ্যায় রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বর্ষপূর্তিতে ঢাকা এলেন তারা। সফর শেষে ৩০শে এপ্রিল তারা দেশে ফিরে যাবেন।দৈনিক বার্তা : সরকার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান ঢাকা সফররত জার্মান সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। একই সঙ্গে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে দুই দলের মধ্যে কোন সমঝোতা না হওয়ায় তারা হতাশ। এ অবস্থায় সামনের নির্বাচনের জন্য দ্রুত সংলাপ শুরুর তাগিদ দিয়েছেন সফররত ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান মিজ ডাগমার জি ভয়েরল। রাজধানীর গুলশানস্থ জার্মান হাউজে গতকাল বিকালে তাদের ৪ দিনের সফরের আউটকাম জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তাগিদ দেয়া হয়। সেখানে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ছাড়াও ঢাকাস্থ জার্মান রাষ্ট্রদূত আলব্রেকট কনৎসে উপস্থিত ছিলেন। জার্মান এমপি মিজ ডাগমার বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাংলাদেশের কোটি কোটি ভোটার তাদের রায় দিতে পারেননি। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকার পাঁচ বছর থাকবে বলে মনে হয় না। তাই এ বিষয়ে সরকারকে সাবেক বিরোধী দলের সঙ্গে দ্রুত সংলাপ শুরু করতে হবে। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। সন্ধ্যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে এমপি মিজ ডাগমার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। সংলাপ শুরুর পরামর্শ দিয়েছি। আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে জার্মান উদ্বিগ্ন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছেও সেটি স্পষ্ট করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি মেকানিজম বের না হওয়ায় আমরা যে হতাশা হয়েছি সেটিও জানিয়েছি। তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় আমাদের স্বস্তির বিষয়টি তাকে জানিয়েছি। আমরা মনে করি রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে আলোচনা বা সংলাপ যেখানে থেমে গেছে সেখান থেকে এখনই তা চালু করা উচিত। নির্বাচন কার অধীনে হবে- এমন এক প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনের পদ্ধতি কি হবে তা আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশীদেরই ঠিক করতে হবে। বাইরের কেউ এসে তা নির্ধারণ করে দিতে পারবে না। অপর এক প্রশ্নে জার্মান এমপি বলেন, বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সুবিধা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে। দেশের গার্মেন্ট শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের জীবন ও কর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রানা প্লাজায় হৃদয়বিদারক ঘটনার পর শ্রমমান উন্নয়নে অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেশ কিছু কাজ হয়েছে। অনেক কাজ এখনও বাকি আছে। দেশের শ্রম আইনের পুনরায় সংশোধনসহ গৃহীত প্রদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দেন তিনি।