নারায়ণগঞ্জে ডিসি, এসপিসহ ৫ কর্মকর্তা প্রত্যাহার হচ্ছে আলটিমেটাম

0
88

2দৈনিক বার্তা : অপহৃত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং নিখোঁজ এডভোকেট চন্দন কুমার সরকারসহ অপহৃতদের উদ্ধারের দাবিতে উত্তাল নারায়ণগঞ্জ। আইনজীবী চন্দন সরকারের উদ্ধারের দাবিতে আদালত বর্জন অব্যাহত রেখেছেন আইনজীবীরা। তারা নিখোঁজ আইনজীবীর সন্ধান দাবি করে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচির আলটিমেটাম দিয়েছেন। এদিকে একের পর এক অপহরণের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‌্যাব ১১-এর সিইও, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকে বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত বদলির আদেশ জারি করা হয়নি।
অপহৃত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের সন্ধান দাবিতে গতকাল রাস্তা অবরোধ করে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন তার নির্বাচনী এলাকার লোকজন। এদিকে অপহৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোন হদিস দু’দিনেও পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার তদন্তে কোন অগ্রগতিও জানাতে পারেনি তারা। পুলিশ বলছে, প্রত্যক্ষদর্শী না পাওয়ায় অপহরণের বিষয়টিই তারা নিশ্চিত নয়। এখন নিখোঁজ ধরে নিয়েই তদন্ত চলছে। তাদের উদ্ধারে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার গাড়িচালক জাহাঙ্গীর, তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন ও লিটন নামে ৫ জন গাড়িসহ ‘নিখোঁজ’ হন। ওই রাতেই নজরুলের গাড়িটি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রায় একই সময়ে একই রাস্তা থেকে গাড়িসহ ‘নিখোঁজ’ হন জেলার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ষাটোর্ধ্ব চন্দনকুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। সোমবার রাতে রাতে গুলশানের নিকেতন এলাকায় আইনজীবীর প্রাইভেট কারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করেছে। এদিকে কাউন্সিলর নজরুল ও তার সহযোগী এবং আইনজীবী চন্দন কুমার ও তার গাড়ির চালককে উদ্ধারের দাবিতে গতকালও পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।1
আইনজীবী চন্দন সরকারকে অপহরণের ঘটনায় গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আদালত বর্জন করে আইনজীবীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। আজও আদালত বর্জনের আগাম ঘোষণা দিয়েছে আইনজীবী নেতৃবৃন্দ। গতকাল সকালে আইনজীবীরা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, এডভোকেট জাকির হোসেন, সরকার হুমায়ূন কবীর, আনিসুর রহমান দিপু, খোকন সাহা, মাহাবুবুর রহমান মাসুম, আওলাদ হোসেন প্রমুখ। প্রতিবাদ সভায় অপহৃত চন্দন সরকারকে উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তরুণ আইনজীবীরা। পরে আইনজীবীরা জেলার প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন। জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আইনজীবীরা আজ দুপুর ১২টার মধ্যে চন্দন সরকারকে উদ্ধারের দাবি জানিয়ে নতুন আলটিমেটাম দেন। ওই সময়ের মধ্যে উদ্ধারে ব্যর্থ হলে আজ দুপুর ১২টার পর থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোড অবরোধ করারও ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তারা অপহৃত চন্দন সরকারকে উদ্ধারে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যর্থতার জন্য নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, অপহৃত আইনজীবী চন্দন সরকারকে উদ্ধারে কার্যত প্রশাসনের কোন ভূমিকা নেই। তাই আজ দুপুরের মধ্যে চন্দন সরকার উদ্ধার না হলে আমরা ডিসি এবং এসপির অপসারণেও আন্দোলন শুরু করবো।
অপরদিকে অপহৃত কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগীকে উদ্ধারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক থেকে সানারপাড় পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নজরুলের কর্মী সমর্থকরা। সকাল ১১টায় সড়কটি অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ কারণে সড়কটিতে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় সহকারী পুলিশ সুপার বশির আহমেদ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল মতিন ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহৃত নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের উদ্ধারে আশ্বাস দিলে বিক্ষোভরতরা অবরোধ তুলে নেয়। তবে এর আগে তারা আজ ভোরের মধ্যে নজরুলকে উদ্ধারের আল্টিমেটাম দে। এ সময়ের মধ্যে তাকে উদ্ধার করা না গেলে পুনরায় সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয়া হয়।
গোলকধাঁধায় প্রশাসন: এদিকে নজরুল ইসলাম অপহৃত হওয়ার পর গোলকধাঁধায় পড়েছে প্রশাসন। নজরুলের পরিবারও  একেক সময় একক কথা বলেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রমতে, রোববার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায় নজরুল ইসলাম তার ১৪ সহযোগীকে নিয়ে আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিন প্রার্থনা করে। আদালত থেকে বেরিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তার সাদা এক্স করোলা প্রাইভেট কারযোগে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। বেশ কিছু সময় পর নজরুল ইসলামের মোবাইল বন্ধ পাওয়ার পর খবর ছড়িয়ে পড়ে তার গাড়িচালক ও ৩ সহযোগীকে গাড়িসহ অপহরণ করা হয়েছে। গত দু’দিনেও এ বিষয় কোন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎ পায়নি পুলিশ। যারা অপহরণ ঘটনাটি দেখেছে। যেমনটা দেখেছিল বেলার নির্বাহী সৈয়াদা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিককে অপহরণের ঘটনাটি। এতে গোলকধাঁধায় পড়েছে পুলিশ। যদিও ঘটনার দিন  সন্ধ্যা রাতে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর থেকে নজরুল ইসলামের এক্স করোলা সাদা প্রাইভেট কারটি পরিত্যক্ত অবস্থায়  উদ্ধার হয়।
অপহরণকারীরা প্রশিক্ষিত ও চৌকস: স্থানীয়দের বক্তব্য হচ্ছে, দিনদপুরে ব্যস্ততম একটি সড়ক থেকে ৫ জন লোককে অপহরণ করা হলো অথচ ঘটনাটি কারও চোখে পড়লো না? তাদের মতে, গাড়িসহ ৫ জন লোককে অপহরণ করতে হলে তো অন্তত ১০-১২ জন লোকের প্রয়োজন।  ধস্তাধস্তি হবে। অস্ত্র ঠেকাবে। একে একে সবাইকে টেনেহিঁচড়ে অপহরণকারীরা তাদের গাড়িতে উঠাবে। 3এতে অনেক সময়ের ব্যাপার। তাছাড়া অপহরণকারীরা নজরুল ইসলামের প্রাইভেট কারটিও নিয়ে যায়। যদি ৫ জনকে অপহরণ করে অন্য গাড়িতে তোলা হয়ে থাকে তাহলে হয়তো প্রাইভেট কারটি চালিয়েছে অপহরণকারীদের কেউ। নজরুলের পরিবার থেকে বলা হয়েছে আগে পিছে ২টি হাইয়েস (বড় মাইক্রোবাস) গাড়ি নজরুল ইসলাদের গাড়ির গতিরোধ করে অপহরণ কাজ সম্পন্ন করেছে। তাহলে তো ৩টি গাড়ি এক সঙ্গে গিয়েছে। কেউ দেখলো না ঘটনাটি? না কি কেউ দেখলেও পুলিশি ঝামেলা এড়াতে মুখ খুলছে না। যেমনটি হয়রানিতে পড়েছে এবি সিদ্দিককে অপহরণ হতে দেখে শহরের জামতলার আবু কালাম। তাকে আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিতে হয়েছে। মোট কথা অভিজ্ঞমহল বলছেন অবশ্যই অপহরণকারীরা প্রশিক্ষিত ও চৌকস। মামলার আসামিরা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে: অপহৃত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম সোমবার রাতে বাদী হয়ে নাসিক ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি হাজী  নুর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রাজু, সওজের প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার হাসমত আলী হাসু, বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন ও আনোয়ার হোসেন। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আর ৫-৬ জনকে। মামলার বাদিনী সেলিনা ইসলাম দাবি করেন, কাউন্সিলর নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করলেই তার স্বামী ও তার সহযোগীদের ফিরে পাওয়া যাবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মামলার কোন কোন আসামি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
১২ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন: এদিকে অপহৃতদের উদ্ধারে ১২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমানকে। কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শহীদুল ইসলামকে। কমিটিতে নারায়ণগঞ্জের ৩জন সহকারী পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন থানার পুলিশ পরিদর্শকরা রয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য: নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ধারণা ছিল কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন সরকারের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি ভিন্ন। তবে সোমবার রাতে গুলশানের নিকেতন থেকে চন্দন সরকারের গাড়িটি উদ্ধারের পর আমরা নিশ্চিত হয়েছি তারা অপহরণ হয়েছেন এবং ঘটনায় যোগসূত্র রয়েছে। চন্দন সরকার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি তিনি ঘটনার শিকার অথবা ভুল করে তাকে অপহরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। অপহৃত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রীর সেলিনা ইসলামের দায়েরকৃত মামলার আসামিদের সম্পর্কে তিনি বলেন, আসামিদের বাড়িতে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। আর তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য ইমিগ্রেশনে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
নাসিকের ২২ কাউন্সিলরের উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি: কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম অপহরণ ঘটনায় ২২ জন নাসিক কাউন্সিলর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ অপহৃত অন্য ব্যক্তিগণকে তাদের পরিবারের নিকট সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফেরত প্রদানের দাবি জানান। বিবৃতিদাতারা হলেন- প্যানেল মেয়র-১ হাজী ওবায়েদ উল্লাহ, কাউন্সিলর মো. কামরুল হাসান মুন্না, অসিত বরণ বিশ্বাস, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. হান্নান সরকার, ফয়সাল মো. সাগর, রেহানা পারভীন, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. জামশেদ আলী ঝন্টু, সুলতান আহাম্মেদ, মাকসুদা মোজাফ্‌ফর, মো. রুহুল আমিন, মো. হোসেন, খোদেজা খানম নাসরিন, মিনোয়ারা বেগম, রেজওয়ানা হক সুমী, মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল, মনিরুজ্জামান মনির, এনায়েত হোসেন, শওকত হাসেম শকু, শারমিন হাবিব বিন্নি ও শাহী ইফাৎ জাহান মায়া।
এডভোকেট চন্দন সরকারকে জীবিত ফেরত চেয়ে সমমনার বিবৃতি: গাড়ি চালকসহ অপহৃত এডভোকেট চন্দন সরকারকে জীবিত ফেরত দাবিতে সামাজিক-সাস্কৃতিক সংগঠন সমমনা বিবৃতি দিয়েছে। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ওসমান খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৭শে এপ্রিল রোববার সমমনার সদস্য এডভোকেট চন্দন সরকারকে তার ড্রাইভারসহ দিনে দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে একদল দুর্বৃত্তকারী অপহরণ করেছে। আজ পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। উদ্বিগ্নের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিগত কিছুদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জে গুম-অপহরণ-হত্যা বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে সমস্ত সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মানববন্ধন বিক্ষোভ সমাবেশ করে আসছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে শান্তি ফিরে আসছে না। এতে প্রশাসনের ব্যর্থতাই প্রকট হয়ে উঠেছে। আমরা আমাদের সদস্য এডভোকেট চন্দন সরকারকে আমাদের মাঝে জীবিত ফেরত চাই। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে জোর তৎপরতা চালিয়ে নারায়ণগঞ্জে শান্তি ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শামীম ওসমানের জিডি: এবার নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সরকারদলীয় এমপি শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জে একের পর এক গুম-অপহরণের ঘটনায় নিজের ও কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বহুল আলোচিত এই এমপি। এ জন্য তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।  রোববার দিনদুপুরে নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড থেকে ৭ জন অপহরণ হওয়ার পর ওই দিনই তিনি নিরাপত্তা  চেয়ে জিডি করেন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) এমপি শামীম ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, অপহৃত প্যানেল মেয়র নজরুল তার নিজের কর্মী ছিলেন। সব সময় তার  লোকজন টার্গেট হচ্ছে। এর আগেও তার কয়েক কর্মীকে অপহরণ ও গুম করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবনও নিরাপদ নয়। তিনি নিজেও শঙ্কায় রয়েছেন। শামীম ওসমান বলেন, গত ১৮ই এপ্রিল একটি পক্ষ নারায়ণগঞ্জ শহরে জনসভা  থেকে প্রকাশ্যে তাকে ও তার ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখার কথা বলেছে ওই পক্ষটি। এরপরই অপহরণ হলো তার কর্মী নজরুল সহ ৭ জন। এতে তার শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে। এ জন্যই তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নারায়ণগঞ্জের ডিসি, এসপি, র‌্যাবের সিইও ও ২ ওসি প্রত্যাহার হচ্ছেন: নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়াল, পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম, র‌্যাব-১১ এর সিইও কর্নেল তারেক সাইদ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল মতিন, ফতু্‌ল্লা থানার ওসি আকতার হোসেনকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের প্রত্যাহারের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সম্মতির পর তাদের প্রত্যাহারে আদেশ জারি করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র গতকাল রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জেলা অব্যাহত গুম-অপহরণসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিকিউকে মুসতাক আহমেদ জানিয়েছেন, জেলার পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আদেশ জারি করা হয়নি। এছাড়া অন্যদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে।