1দৈনিক বার্তা :  সুরঞ্জিত  সেনগুপ্ত সব দোষ বিএনপি-জামায়াতের ওপর না দিয়ে নিজ দলকে আত্মশুদ্ধির পথ  বেছে  নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ‘অ্যাটরোসিটিজ অন মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। বইটিতে ২০১৩ সালের  ফেব্র“য়ারি  থেকে এ বছরে  ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।নিজ দলের প্রতি সুরঞ্জিত  সেনগুপ্ত বলেন, সব  দোষ জামায়াতের কাঁধে দিলে হবে না, বিএনপির কাঁধে দিলে হবে না। নারায়ণগঞ্জের ঘটনা  দেখেন নাই? আত্মশুদ্ধির পথ বাছতে হবে। মানুষের মুখ বন্ধ রাখতে পারবেন না।

সুরঞ্জিত বলেন, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে প্রয়োগ  নেই। রাষ্ট্র, সমাজ সব খানে সাম্প্রদায়িকতা আছে। কিন্তু এর নিরসনে প্রচেষ্টা নেই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রসঙ্গ  টেনে তিনি বলেন, একটা ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার হয়নি।নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া  গেলে তাদের ছাড়  দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের  জ্যেষ্ঠ  নেতা সুরঞ্জিত  সেনগুপ্ত।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। অপরাধী  যেই  হোক, সরকার কিংবা আওয়ামী লীগ এর দায় নেবে না,  নেবে না, নেবে না।গণতান্ত্রিক অবস্থানে  থেকে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। দলীয় সঙ্কীর্ণতার কারণে কোনো অপরাধীকে মুক্ত করা হবে না।সুরঞ্জিত বলেন, একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ তদন্তের জন্য জাতি অপেক্ষা করছে।এক্ষেত্রে সরকার সব কিছুর উর্ধ্বে থেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সুরঞ্জিত  সেনগুপ্ত বলেন, সংখ্যালঘুরা নীরবে  দেশ ত্যাগ করছে। এ পর্যন্ত সংখ্যালঘু নির্যাতনের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে তার একটির মামলাও তদন্ত হয়নি। আমার  দেশ, আমার সরকার, বঙ্গবন্ধুর কন্যা  শেখ হাসিনার সরকার হওয়ার পরেও এমনটি হচ্ছে। আমরা বিচার করতে পারি নাই এটা আমাদের ব্যর্থতা।  দেশকে সহিংস রাজনীতির দিকে  ঠেলে  দেওয়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। তারাই সব সময় যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিকশিত না হওয়ার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগের  ভোটব্যাংক। এ কারণে অন্যান্য দল এ শক্তিকে বিবেচনায় আনে না। অসাম্প্রদায়িক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগকে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। সংখ্যালঘুদের সমস্যা নিরসনে শক্তিশালী কমিশন গঠনের আহ্বান জানান তিনি।তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, মহাজোট সরকার সংখ্যালঘুদের যথার্থ নিরাপত্তার দিতে পারেনি, এ কথা স্বীকার করতে বাধা নেই।সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকে পরিকল্পিত ও রাজৈ ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন তিনি।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, যখনই সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করা হতো তখনই পুলিশ প্রশাসন হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ছয় সাত’শ জনের বিরুদ্ধে মামলা করতো। এতে প্রকৃত অপরাধী চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়তো। এর মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসন মামলার নামে হয়রানির বাণিজ্য করেছে। তাদের উপর হামলার ঘটনায় একদল লুন্ঠন, ছিনতাই, সম্পদ ভোগ করছে আর অন্য একদল এই ঘটনায় ফায়দা হাসিল করার  চেষ্টা করেছে। এর দায় সরকারের উপর বর্তাবে না  কেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় নাগরিক সমাজ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আগে এটা দেখা যেত না। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনও যথাযথ ভূমিকা রাখেনি।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য উষাতন তালুকদার এমপির সভাপতিত্বে এ সময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের  প্রেসিডিয়াম সদস্য নুহ আলম লেলিন এমপি, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অর্থনীতিবিদ  রেহমান  সোবহান,  লেখক কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, রওনক জাহান,সাংবাদিক অজয় দাস গুপ্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।