1দৈনিক বার্তা — বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, বর্তমান সরকার শক্তিশালী নেতৃত্ব দিচ্ছে। সরকার পরিবর্তন চাচ্ছে। আমি অনেক  দেশে  গেছি। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এমন গতিশীল, সৃষ্টিশীল,  ধৈর্যশীল, পরিশ্রমী মানুষ কোথাও দেখিনি।সোমবার সকালে মাগুরা  জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে মাগুরা জেলা প্রশাসক মাসুদ আহমেদের সভাপতিত্বে একই জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।এ সময় সরকারি কর্মকর্তারা ড্যান মজিনাকে কৃষি, মৎস্য, পশু সম্পদ, চিকিৎসা, আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি  জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিগত নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কেও জানেন।

মাগুরায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন,অন্তর থেকে বলছি,এতো ভালো মানুষ পৃথিবীর আর  কোথাও দেখিনি। যে দেশের মানুষ এতো ভালো, এতো পরিশ্রমী ও উদ্যমী। যে দেশে এতো উর্বর মাটি, এতো প্রাকৃতিক সম্পদ। সে দেশ দরিদ্র নয়।কিছু মানুষ দরিদ্র হতে পারে। সব ক্ষেত্রে যেহেতু ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে।সে কারণে আমি মনে করি, অচিরেই এ  দেশ মধ্যম আয়ের একটি  দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ এক সময় এশিয়ার বাঘ হিসেবে চিহ্নিত হবে। আমি যেটাকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বলি।

এ সময় প্রসঙ্গক্রমে ড্যান মজিনা বলেন, এখানকার গার্মেন্টসগুলোতে রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশনস-এর মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে  সে জন্যেই জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। আমরা মনে করি বাংলাদেশ বস্ত্রখাতে অনেক  বেশি পরিবর্তন এনেছে। এখানে শ্রম অধিকারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক  ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে সরকার। যদিও কিছু গার্মেন্টস মালিক সরকারকে উল্টো দিকে নিয়ে যেতে  চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আমরা মনে করি না তারা সফল হবে। বরং সরকারের বলিষ্ঠ  নেতৃত্ব এই খাতকে আরো সমৃদ্ধ করবে। আর  সেটা সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ তার জিএসপি সুবিধা এক সময় ফিরে পাবে।

ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবচেয়ে ভালো।তাই আমি  দেখছি, অচিরেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে।মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ এশিয়ার ব্যাঘ্রশক্তিতে পরিণত হবে।এ দেশকে এশিয়ার বাঘে পরিণত করতে হলে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ  দেশে গ্যাস আছে, কয়লা আছে। এখানকার কৃষি ও খনিজ সম্পদ নিয়ে কাজ করতে হবে।

ড্যান মজীনা আরও বলেন,বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ নয়।দরিদ্র কিছু লোক এখানে থাকতে পারে। ঈশ্বর বাংলাদেশকে সবকিছু দিয়েছেন। বাংলাদেশ হাইওয়েতে আসছে।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে মাঠপর্যায়ে সফর সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি  মো. জিল্লুর রহমানের কাছে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আমি আমার পরিচয়পত্র জমা  দেওয়ার সময় বাংলাদেশের ৬৪টি  জেলা ঘুরে  দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলাম। সেই ইচ্ছা  থেকেই আমি মাগুরায় এসেছি। সফর করছি।

ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেন, আমি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলতে চাই। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। ওই বিনিয়োগ বাংলাদেশেও আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে ভাবতে হবে, লাভ  যেখানে বেশি হবে বিনিয়োগও সেখানে যাবে। বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য নিজেকে অন্য দেশের মতো করতে হবে।

মজীনা আরও বলেন,জিএসপি ইস্যু কোনো ইস্যু নয়। ইস্যু হচ্ছে,বস্ত্র খাতে যেন রানা প্লাজা বা তাজরীনের মতো দুর্ঘটনা না ঘটে।কারখানা যেন আন্তর্জাতিকমানের হয়। শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার পান।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন,২০১১ সাল পর্যন্ত বস্ত্র কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের সংগঠন ছিল মাত্র একটি। ২০১৩ সাল  থেকে এ পর্যন্ত তা  বেড়ে শ্রমিক ইউনিয়ন হয়েছে ১৫০টি। জিএসপি-সুবিধা প্রত্যাহারের ফলে এটা নিশ্চিত হয়েছে। বস্ত্র খাতে বাংলাদেশে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি দেখতে চাই, ব্র্যান্ড বাংলাদেশ এক নম্বর ব্র্যান্ড হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পরে মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি  শ্রেণীকক্ষ পরিদর্শন করেন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিদ্যালয় মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য  দেন। এ সময় স্থানীয় সাংসদ সিরাজুল আকবর,  জেলা প্রশাসক  মো. মাসুদ আহমেদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন। রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান মেরিনা ইয়াসমিন, কালচারাল অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা বিলাল ফারুকী, কর্মকর্তা  জেসন উইলিয়ামস, আবদুর রহমান ও লুবাইন মাসুম উপস্থিত ছিলেন।