1দৈনিক বার্তা–  র‌্যাব প্রাণ হরণকারী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম।তিনি বলেন, র‌্যাব আজ মানুষের জীবন হরণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। জনগণের জান-মালের নিরাপত্বার দায়িত্ব পালন না করে। প্রতিটি গুম, খুনের সাথে র‌্যাবের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে।তাই গোটা জাতির দাবি র‌্যাবের আর প্রয়োজন নেই।

সোমবার জাতীয়  প্রেসক্লাব মিলনায়তনে  বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের নামে মিথ্যা মামলায় আদালত স্থানান্তরের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ  দেশব্যাপী অব্যাহত খুন-গুম-অপহরণের দায় নিয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বাহিনীটির কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন,  যে র‌্যাব ভাড়াটে খুনির মত টাকা নিয়ে মানুষ খুন করে সেই র‌্যাবের আর কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। র‌্যাবকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসীদের দমনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন,এ রাষ্ট্র এখন আর জনগণের রাষ্ট্র নেই। রাষ্ট্র এখন খুনিদের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ফ্যসিবাদ,  স্বৈরাচারের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।তিনি দাবি করেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের দায় শুধু র‌্যাবকে নয় এ সরকারকেও নিতে হবে। কারণ এদের অধীনে র‌্যাব পরিচালিত হয়।

বিএনপি সরকারে থাকার সময় র‌্যাব গঠন করেছিলো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করার জন্য উল্লেখ করে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, তখন এই বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধী দলকে দমন করার কাজে ব্যবহার করার কোনো প্রমাণ নেই।একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এ বাহিনীকে দিয়ে ঘটানো হয়নি। আজ র‌্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধীদলকে দমন করতে ব্যবহার করছে এ সরকার।এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতেই হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,কারণ তাদের  কোনো  নৈতিক ও গণভিত্তি নেই।

ফখরুল বলেন,বেগম জিয়ার নামে যে মামলা করেছে তার কোন সারবার্তা নেই।এটি একটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা। শুধুমাত্র হীনউদ্দেশ্যে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বেগম জিয়াকে রাজনীতি  থেকে সরিয়ে রাখার জন্য সরকার তার বিরুদ্ধে এই মামলায় আদালত স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এ নেতা।তাদের উদ্দেশ্যে তাকে সাজা দিতে পারলে  বেগম জিয়াকে রাজনীতি  থেকে দূরে রাখা যাবে।

মির্জা ফখরুল বলেন,নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের ঘটনায়  কেবল র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাকেই দায়ী করলে হবে না,  দেশব্যাপী এ ধরনের খুন-গুম সরকারের উপর মহলের নির্দেশেই হচ্ছে। এ খুন-গুম-অপহরণের দায় নিয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।তিনি দাবি করেন, এ সরকারের  নৈতিক শক্তি নেই। তারা  পেশী শক্তি দিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চাইছে। পেশী শক্তির বলে বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণকে হত্যা-গুম-অপহরণ করছে।

ফখরুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,এলিট  ফোর্স র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানের জন্য, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কিন্তু সেই র‌্যাবকে আগের অবস্থানে রাখা হয়নি। তাদের বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে। খুন-গুম-অপহরণে ব্যবহার করা হচ্ছে।অতএব এই র‌্যাব আমাদের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

তিনি অভিযোগ করেন, আমরা বারবার বলে আসছিলাম, বিএনপি  নেতা  চৌধুরী আলম ও এম ইলিয়াস আলীকে র‌্যাবই ধরে নিয়ে গেছে। কিন্তু সরকার কানে নেয়নি। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, সরকারের নির্দেশে এই বাহিনীই চৌধুরী আলম-ইলিয়াস আলীসহ বিএনপির শতাধিক  নেতাকর্মীকে খুন-গুম-অপহরণ করেছে।গত ডিসেম্বরে রাজধানীর শাহীনবাগ থেকেও সাত বিএনপি নেতাকর্মীকে অপহরণ করা হয়,এদের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, নির্বিচারে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে নির্যাতন করে পগু করে দেওয়া হয়েছে।আওয়ামী লীগের নেত্রীসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাড়ে সাত হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হলেও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের হার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কোনো কোনো বিএনপিকর্মীর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলাও রয়েছে।

ছাত্রদলকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,স্বৈরাচারী সরকারকে সরাতে হলে ছাত্রদলেকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশে অতীতে যত সফল আন্দোলন হয়েছে তাতে নেতৃত্ব দিয়েছে এদেশের ছাত্র সমাজ।

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েল ১৪ মে সারাদেশে জেলা ও মহানগরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভুঞার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, দলের যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান,  চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ জামান রিপন, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঞা, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী,সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু ছাত্রদলের  কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন হাসমী দিপু প্রমুখ।