2মোস্তাফিজুর রহমান টিটু/দৈনিক বার্তা – গাজীপুরস্থ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির ও বহিরাগতদের মাঝে হামলা পাল্টা হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।  হামলায় অন্ততঃ ১৫ জন আহত হয়েছে। এসময় ডুয়েট শাখার সভাপতিসহ ছাত্রশিবিরের ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এরা হলো ডুয়েট শাখা শিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ৩য় বর্ষের (মেকানিক্যাল) সাইদুর রহমান, শাহীনুর রহমান, আল আমিন হাওলাদার ও মিজানুর রহমান এবং ৪র্থ বর্ষের (মেকানিক্যাল) আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ইকবাল হোসেন, ১ম বর্ষের (সিভিল) রাজু আহমেদ ও স্থানীয় অপটিমাম কোচিং সেন্টারের পরিচালক মাহমুদুল হাসান।

জানা গেছে, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) কাজী নজরুল ইসলাম হলের ১০০৯ নম্বর কক্ষে সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শিবিরের বেশ কয়েক বর্তমান ও সাবেক নেতা-কর্মী গোপন বৈঠক করছিলেন। এ খবর পেয়ে ছাত্রলীগের কয়েক কর্মী সেখানে গিয়ে শিবিরের নেতা-কর্মীদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এঘটনার পর বহিরাগত বেশ ক’যুবক ও ছাত্রলীগের কর্মীরা ওই কক্ষে হামলা চালিয়ে শিবিরের নেতা-কর্মীদের মারধোর করে। হামলাকারীরা এসময় কাজী নজরুল ইসলাম হল ও ফজলুর রহমান খান হলের কয়েকটি কক্ষে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করে। এসময় তারা শিবির কর্মীদের লেপ তোষক বাইরে এনে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ছাত্রলীগের কর্মীরা এসময় শিবিরের ডুয়েট শাখার সভাপতিসহ ৯ নেতা-কর্মীকে একটি কক্ষে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মঙ্গলবার ভোররাতে শিবিরের ৯ নেতা-কর্মীকে আটক করে জয়দেবপুর থানায় নিয়ে আসে।

ডুয়েটের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাকিব রেজা চৌধুরী জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম হলের ১০০৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিবিরের ১২-১৩ জন নেতা নিয়ে বৈঠক করছিলেন। খবর পেয়ে বিষয়টি ডুয়েট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে ছাত্রলীগের কর্মীরা সেখানে গিয়ে তাদের আটক করে পুলিশে দেয়। পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্রশিবির কর্মীরা পাল্টা হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগের কিউকে হলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আল বান্না মারধোর করে। এত সে গুরুতর আহত হয়।
অপরদিকে ডুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক এবিএম মোহসিন উদ্দিন ছাত্রলীগের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগামী ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের পরদিন ১৮ মে সেমিস্টার ফাইনালের সর্বশেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।   ওই অনুষ্ঠাণের জন্য ছাত্রলীগ পরীক্ষা পেছানোর কৌশল হিসেবে এ হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে। এছাড়াও শীঘ্রই ডুয়েট ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠণের কথা রয়েছে। ওই কমিটিতে পদ পাওয়ার আশায় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়ে নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার করছে। সোমবার দিবাগত রাতে হামলাকারীরা শিক্ষকদের সামনেই শিবির কর্মীদের কক্ষসহ ১০-১২ টি কক্ষে হামলা চালিয়ে ল্যাপটপসহ বেশ কয়েকটি কম্পিউটার ভাংচুর করেছে এবং তাদের কিছু বইপত্র ও লেপ-তোষককক্ষের বাইরে বের করে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং লুটপাট করছে।

এব্যাপারে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোষ্ট ড. কামরুজ্জামান জানান, রাত ১১টার দিকে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে খবর পেয়েছি, কাজী নজরুল ইসলাম হলের ১০০৯নম্বর কক্ষে সাবেক ছাত্র শিবির নেতা পরাগ এসেছেন ও সাংগঠনিক সভা করছেন। এ খবরে ছাত্রলীগের কর্মীরা লাঠিসোটা জড়ো করছে ও ক্যাম্পাসে অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করছে। ওই খবর শুনে আমি যাওয়ার আগেই ছাত্রলীগের কর্মীরা ১০০৯ নম্বর কক্ষে ঢুকে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালায়। পরে শিবির কর্মীদের রক্ষার্থে উদ্ধার করে অতিথিদের কক্ষে তালা বদ্ধ রেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। এদিকে ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করতে করতে কয়েকটি কক্ষের লেপ-তোষকে বাইরে বের করে আগুন দিয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার সময় ছাত্রলীগের কর্মীদের বাধার মুখে তাদের পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে নেয়া হয় এবং চিকিৎসা দেয়া হয়।
জয়দেবপুর থানার ওসি এসএম কামরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আটককৃত ৯ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত আগের রাতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয় নি।