2দৈনিক বার্তা : দাবি  মেনে পরীক্ষা না  পেছানোয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হলে সদলবলে ছাত্রলীগের এক  নেতা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের ৫ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা চলাকালীন এই হামলায় চার শিক্ষকসহ অন্তত ১০ শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত হয়েছেন।বিভাগের সভাপতি  সৈয়দা নূরে কাছেদা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ওই কোর্সের পরীক্ষা  পেছানোর জন্য সোমবার রাতে মেহেদী হাসান নামে এক শিক্ষার্থী তাকে ফোন করেছিলেন।

ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি মেহেদি নিজেকে অসুস্থ দাবি করে পরীক্ষা পেছানোর অনুরোধ করলেও বিভাগের শিক্ষকরা পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।কিন্তু সকালে শিক্ষকরা এসে  দেখেন পরীক্ষা কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই তালা  ভেঙে পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে  মেহেদিসহ অন্তত ১৫-২০ এসে পরীক্ষা হলে ঢুকে  হৈ  চৈ শুরু করে বলে বিভাগীয় সভাপতি জানান।

তারা অস্ত্র হাতে পরীক্ষারত ছাত্র-ছাত্রীদের দিকে তেড়ে যায়, ভয়  দেখায়। তারা কক্ষ ভাংচুর শুরু করলে শিক্ষকরা বাধা দেয়। এসময় বিভাগের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও ইমতিয়াজ আহমেদকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয় তারা। আরো দুই শিক্ষককে তারা ধাওয়া করে।

মেহেদির নেতৃত্বে হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার খাতা কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি কয়েকজনকে মারধরও করে বলে কাছেদা খাতুন জানান।আমি বাধ্য হয়ে ছাত্রীদের ওখান  থেকে সরিয়ে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর পাঠাই। তারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন,হামলার সময় মেহেদির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রানা  চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান পলাশ, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাকিম বিল্লাহ ও আসলাম ছিলেন।

গত ২  ফেব্র“য়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকোর্সবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্রসহ চড়াও হতে  যে ছাত্রলীগ নেতাদের দেখা গিয়েছিল, তার মধ্যে পলাশ ও  মোস্তাকিমও ছিলেন।

অধ্যাপক কাছেদা খাতুন বলেন, যেখানে ১০৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে রাজি সেখানে একজন শিক্ষার্থীদের কথিত অসুস্থ থাকার বিষয়টা আমাদের কাছে নিছক সাজানো মনে হয়েছে। আমরা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।

এই বিষয়ে মেহেদি হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ছাত্রলীগ নেতা রানা চৌধুরী হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের এক বন্ধু অসুস্থ হওয়ায় বিভাগে এসে আমরা পরীক্ষা  পেছানোর জন্য বলেছিলাম।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিন শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করায়  মেহেদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  নেবেন বলে জানালেও সভাপতি মিজানুর রহমানের কণ্ঠে ছিল ভিন্ন সুর।

তুহিন বলেন, যে  মেহেদির জন্য ছাত্রলীগের  নেতাকর্মীরা শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেছে,  সে ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে খাচ্ছে। শিক্ষক লাঞ্ছনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।অন্যদিকে সভাপতি মিজান বলেন, সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে চায়নি। কিন্তু শিক্ষকরা  জোর করে পরীক্ষা নেন।শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছে, এখানে ছাত্রলীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য  চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল বলেন, ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে এমন ঘটনা  মেনে  নেয়া যায় না। বিভাগ  থেকে যাদের বিষয়ে অভিযোগ আসবে তা বিবেচনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  নেব।