14-05-14-PM_Visit DGFI HQ-13দৈনিক বার্তা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার ডিরেক্টর জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)’কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় না, বরং একটি সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর সুনাম সমুন্নোত রাখতে চায়।তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অব্যাহত না থাকলে, দেশ তার কাঙ্খিত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। তিনি বলেন, ১৯৭৫ এর পর সশস্ত্র বাহিনীতে ১৮টি অভ্যূত্থান ঘটে এবং এ জন্য এ বাহিনীকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক যে, অতীতে ডিজিএফআই’কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আমরা একে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাই না। বরং এর সুনাম অক্ষন্ন রেখে একে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রাখতে ডিজিএফআই’এর অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে।তিনি বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই’র সদর দফতরে ডিজিএফআই’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দরবারে ভাষণ দিচ্ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.)তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও ডিজিএফআই’য়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আকবর হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ডিজিএফআই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সমুন্নোত এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মধ্য দিয়ে তার পুরুদ্ধার হওয়া গৌরব ক্রমশঃ আরো বাড়িয়ে তুলতে পারবে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সংস্কৃতি শুরু হয়। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল ও কুক্ষিগত করতে ডিজিএফআই’কে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আকড়ে রাখার জন্য এ বাহিনীকে ব্যবহার করে এর ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে ভুলন্ঠিত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এ বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট করে দেয়া হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ডিজিএফআই’কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বন্ধ করে এবং এর হারানো গৌরব পূনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।তিনি বলেন, কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এ বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে তাঁর সরকার আবার ক্ষমতায় এসে ডিজিএফআই’কে দায়িত্বশীল জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করে।শেখ হাসিনা বলেন, এসব অভ্যূত্থানে অনেক অফিসার ও জওয়ান নিহত হয়েছে। এতে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তান এবং বোন তাদের ভাই হারিয়েছে।

তিনি বলেন, তাঁর দল সব সময়ই অভ্যূত্থান, পাল্টা অভ্যূত্থান ও হত্যাকান্ডের বিরোধী এবং দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অক্ষুন্ন রাখতে চায়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের স্বৈরাচারী শাসকরা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। কিন্তু আমরা কাউকে মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেব না।

দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা সমুন্নত রাখতে প্রতিরক্ষা  গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরকে (ডিজিএফআই) সব হুমকি  মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা।সংস্থাটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানকে রক্ষা তথা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে সমুন্নত রাখার জন্য সব রকমের হুমকি  মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান লংঘন করে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল শুরু হয়। আর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলে এই সংস্থা ব্যবহৃত হয়।১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আগে পর্যন্ত ডিজিএফআই’কে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হতো এবং ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় এর ব্যাপকতা আরো বৃদ্ধি  পেয়েছিল বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন  শেখ হাসিনা।

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ওই বছরের ২০ জানুয়ারি ডাইরেক্টর অফ ফোর্সেস ইন্টিলিজেন্স (ডিএফআই) গঠন করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সূচনার পর থেকে সময়ের পরিক্রমায় এই সংস্থার কাঠামোগত এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে সমুন্নত এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মধ্য দিয়ে ডিজিএফআই পুনরুদ্ধার হওয়া   গৌরব আরো বৃদ্ধি করতে পারবে।দরবারে প্রধানমন্ত্রী ডিজিএফআই সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।এসময় প্রধানমন্ত্রী  ভেজাল বিরোধী অভিযোনের পাশাপাশি এর ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

দরবারে প্রধানমন্ত্রী ডিজিএফআইয়ের নতুন মনোগ্রাম উন্মোচন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর হাতে নতুন মনোগ্রামের একটি  ক্রেস্ট তুলে  দেন ডিজিএফআই মহাপরিচালক  মেজর জেনারেল আকবর হোসেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ডিজিএফআইয়ের উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ডিজিএফআইয়ের সদস্যদের ৩০ শতাংশ  বেতন বৃদ্ধিরও ঘোষণা দেন তিনি
তিনি বলেন, আমাদের সরকার প্রথমবারের মতো ডিজিএফআইয়ের সকল স্তরের সামরিক ও  বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের জন্য স্ব স্ব মূল  বেতনের ৩০ শতাংশ হারে বিশেষ ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেতন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত চলতি মাস থেকেই কার্যকর হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।দরবারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরো ছিলেন তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিক।