2দৈনিক বার্তা: খুন-গুম-অপহরণসহ দেশের অরাজক পরিস্থিতি তুলে ধরে গণফোরাম সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এখন জনমত যাচাই করা হলে মানুষের প্রথম চাওয়া হবে নিরাপত্তা।দেশের বর্তমান সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মানুষ নিরাপত্তাহীনতাকেই আগে বলবে।

বুধবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।নারায়ণগঞ্জে আইনজীবী চন্দন সরকারের হত্যাকারীদের  গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত-বিচার, সারাদেশে খুন-গুম-অপহরণের প্রতিবাদে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ড. কামাল বলেন, সংবিধান মেনে রাষ্ট্র পরিচালিত হোক। রাষ্ট্রের সব নিরাপত্তা বাহিনী আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত হোক। কারো আদেশে আদিষ্ট হয়ে নয়। এটি হলে  দেশে  স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। আইনের শাসন থাকে না।

সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, মানুষের  মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে বাঁচার অধিকার সবকিছুর আগে।  দেশের জনগণের জানমাল রক্ষায় নিশ্চয়তা দিয়েছে সংবিধান। সংবিধান  মোতাবেক নাগরিকের  মৌলিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব সরকারের।

তিনি বলেন, শুধু নারায়ণগঞ্জে সাত অপহরণ, হত্যা নয়। সারাদেশেই বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড চলছে। এসব ঘটনায় কারো লাশ পাওয়া যায়, কারো পাওয়া যায় না।মানুষের  মৌলিক অধিকার রক্ষায় নির্দেশনা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের অভিবাবক হিসেবে হাইকোর্ট সে দায়িত্ব পালন করবে।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় চাকরিচ্যুত তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে  গ্রেপ্তারে পুলিশের মহাপরিদর্শককে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হাই কোর্ট নির্দেশ দিলেও তাদের  গ্রেপ্তারে দেরি হওয়ায় আদালত অবমাননা হবে না বলে মনে করছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।

বুধবার নিজ কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এই মত ব্যক্ত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অবিলম্বে  গ্রেপ্তারের আদেশ থাকা সত্ত্বেও ওই তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে দেরি হওয়ায় আদালত অবমাননা হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  কেন হবে? হাই কোর্টতো  কোনো সময় বেধে দেননি।

এ ধরনের আদেশে  গ্রেপ্তারে কতো দিন পর্যন্ত সময় গ্রহণযোগ্য-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  সেটা আমি জানি না। আদালত বলতে পারে।আসামিরা  গ্রেপ্তার এড়াতে চাইলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ কি হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  সেটা আমি বলবো না। আমি তাদের আইনজীবী না।

প্রতিবেদক/জিএম/ফোকাস বাংলা/১৯৩৭ ঘ.