1দৈনিক বার্তা : গণতন্ত্র রক্ষায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা কমপ্লেক্সে  ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সিইসি বলেন,২০০৭সালের অপারেশন নবযাত্রার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ছবিসহ  ভোটার তালিকা করা হয়।তারই ধারাবাহিকতায় আমরা  ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে যাচ্ছি। এই প্রকল্পে সবার সহযোগিতা দরকার।

তিনি আরো বলেন,ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে জড়িত সব কর্মকর্তার সহযোগিতা কামনা করছি।ভোটারদের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা সর্তকতার সঙ্গে ভোটার হবেন।কোনভাবেই দুইবার ভোটার হওয়ার সুযোগ নেই। সব তথ্য সঠিকভাবে  দেবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার  মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক বলেন,ভোটার তালিকা হালনাগাদ একটি বিশাল কাজ। কমিশনের পক্ষ  থেকে আমরা এ কাজে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয় বলেন,বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের মান যেন আরও বৃদ্ধি পায়।কমিশনের প্রতি অনুরোধ থাকবে জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি যাতে আরো স্পষ্ট ও সুন্দর হয়।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার  মো. জিল্লার রহমান বলেন, আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা।কমিশন যে নির্দেশ দিবে তা আমরা যথাযথভাবে পালন করব।তিনি বলেন, আমি একটি বিষয় মনে করিয়ে দিচ্ছি, পার্শ্ববর্তী কোনো  দেশের নাগরিক যাতে আমাদের  দেশে  ভোটার হতে না পারে। তারা আমাদের নাগরিক পরিচয় দিয়ে বিদেশে যাবে এবং নানা কুকর্ম করে আমাদের  দেশের জন্য বদনাম বয়ে আনবে। তাদেরকে ঠেকাতে হবে।  ভোটার কার্ডটি হবে স্মার্ট, যা দেখলে পৃথিবীর  যে  কোনো দেশে বলতে পারে এই লোক বাংলাদেশি।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম বলেন,  ওেদশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করবে। কমিশনের সকল নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব  মো. মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন ঘোষণা করে সিইসি পার্শ্ববর্তী শিবরামপুর গ্রামে স্বর্ণারাণীর তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে  ভোটারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত যারা  ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়নি তারা সবাই নতুন করে ভোটার হতে পারবে। আগের যারা বাসস্থান পরিবর্তন করেছে তারাও নতুন ঠিকানায় ভোটার হতে পারবেন। কিন্তু একই ব্যক্তি দুই বার দুই পরিচয়ে ভোটার হতে পারবে না।তিনি এসময় ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজে সরকারি ও  বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাহায্য কামনা করেন।

এদিকে, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন জমা দেননি দশম সংসদ নির্বাচনের ৩৩ প্রার্থী, যাদের মধ্যে ৯ জন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা  নেয়ার সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন।এদের মধ্যে জাতীয় সংসদের  ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজও রয়েছেন।

অবশ্য তারা নির্ধারিত সময়ের দুইদিন পর হিসাব জমা  দেন। তবে জাতীয় পার্টি  চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ব্যয় হিসাব জমাই দেননি।ইতোমধ্যে কুমিল্লা-৫ আসনের এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় মামলা করা হয়েছে।এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক সাংবাদিকদের জানান, আইনে বলা আছে নির্ধারিত সময়ে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। সুতরাং নির্ধারিত সময়ের একদিন পরে  কেউ যদি হিসাব জমা দেন,  সেটাও আইনের লঙ্ঘন।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ফলাফল  গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ৭  ফেব্র“য়ারির মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে এবং এর অনুলিপি ইসি সচিবালয়েও পাঠাতে হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করবে। বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি দুই থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড।গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে। এই সময় এখনো পার হয়নি।

সিদ্ধান্তের জন্য কমিশনে উপস্থাপিত কার‌্যপত্রে ইসি নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-১ শাখা জানায়, ১০ জন প্রতদ্বন্দ্বী নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন জমা দেয়নি।এরমধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করেছেন ও একজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বাকি আট জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়নি।

যারা রিটার্ন জমা দেননি: কুমিল্লা-৫ আসনের সফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আরপিও ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৯ এপ্রিল বুড়িচং থানায় মামলা (নম্বর ৫৫) রুজু করা হয়েছে।

ইসির তথ্য মতে,লালমনিরহাট-১ আসনের পরাজিত প্রার্থী জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি এ আসনে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব না দিলেও যথাসময়ে  রংপুর-৩ আসনে জয়ী  হয়ে রিটার্ন দেন এ সাংসদ।টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাংসদ শওকত মোমেন শাহজাহান ইতোমধ্যে মারা  গেছেন।

এছাড়া রয়েছেন পরাজিত প্রার্থী লক্ষ্মীপুর-১ মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, লক্ষ্মীপুর-৪ এ কে এম শরিফ উদ্দিন ও বেলাল হোসেন, বরিশাল-৪ শেখ জয়নাল আবেদীন, শেরপুর-৩  হেদায়েতুল ইসলাম ও এস এম আব্দুর রাজ্জাক, সুনামগঞ্জ-৫ মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন। ৭  ফেব্র“য়ারির পরে যারা জমা দিয়েছেন

ডেপুটি স্পিকার গাইবান্ধা-৫ আসনের  মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। তিনি ১৭  ফেব্র“য়ারি রিটার্ন জমা দেন।প্রধান হুইপ পটুয়াখালী-২ আসনের আ স ম ফিরোজ; তিনি ৯ফেব্র“য়ারি ব্যয় হিসাব জমা দেন।এছাড়া সংসদ সদস্য ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের ইয়াসিন আলী, ভোলা-২ আলী আজম, সুনামগঞ্জ-১ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, কুমিল্লা-৩ ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা-১ ননী গোপাল মন্ডল, চট্টগ্রাম-২ আসনে তরিকত  ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি ও চট্টগ্রাম-১১ এম আবদুল লতিফ।

পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- লালমনিরহাট-১ আসনের ছাদেকুল ইসলাম, লালমনিরহাট-৩ গোলাম  মোহাম্মদ কাদের, ঝিনাইদহ-৩ কামরুজ্জামান স্বাধীন,  ভোলা-২ মো. ছালাউদ্দিন, ময়মনসিংহ-৭ হাফেজ রুহুল আমিন, মুন্সিগঞ্জ-২ মো আবদুল ওয়াদুদ, সুনামগঞ্জ-৩ আজিজুস সামাদ আজাদ, কুমিল্লা-১ আবু জায়েদ আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম-২ নাজিম উদ্দিন, দিদারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আলী আহমদ নজির, আবু হানিফ, চট্টগ্রাম-১৩ তপন চত্রবর্তী এবং চট্টগ্রাম-৪ ও চট্টগ্রাম- ১৬ আসনের আ আ ম হায়দার আলী  চৌধুরী।