1দৈনিক বার্তা :  মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ শুধু রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এবং বিএনপির তাবেদারি করার জন্য কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে  দেশরতœ  সেবক পরিষদ আয়োজিত  শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে বিএনপি  যে  বোমা মারার রাজনীতি শুরু করেছে  সে বিষয়ে  কোনো কথা বলেনি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। শুধু সরকারকে অপদস্ত করার জন্য নারায়ণগঞ্জের সাত খুন নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলছে। এ ধরণের মানবাধিকার সংগঠন  কোনো  দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না।

সাবেক এই বনমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ  কোনোদিন আপোসের রাজনীতি করে না। যদি আপোসের রাজনীতি করতো তাহলে শেখ মজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতেন না; তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীই হতে পারতেন।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মায়া কান্না  দেখাতে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে গিয়েছিলেন বিএনপি  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

হাসান মাহমুদ বলেন, সাত খুনের পর মায়া কান্না দেখাতে নারায়ণগঞ্জে গিয়েছিলেন  বেগম খালেদা।  সে সময় তিনি যাদের মাধ্যমে সাত খুনের ঘটনা ঘটেছিলো তাদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ দূরত্ব কম হওয়ার পরও  পেট্রোল বোমা মেরে যাদের হত্যা করা হয় তাদের দেখতে ঢাকা  মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে যাননি। এর অর্থ হলো তিনি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান।এ সময় তিনি বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’র মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলো মানবাধিকারের ব্যানারে রাজনীতিতে জড়িত। এদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সারের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে দুষ্কৃতিকারীরা ১৯৭১’র পরাজয়ের বদলা নিতে  চেয়েছিলো। শুধু কতিপয় সেনাসদস্য না একটি আন্তর্জাতিক চক্রও এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আর এ হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমান। পিছন  থেকে হত্যাকাণ্ডের কলকাঠি নেড়েছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশে  যে দলটি রাজনৈতিকভাবে সব  থেকে বেশি সুফল  পেয়েছেন তারা হলেন জিয়াউর রহমান ও তার পরিবার। জিয়া  যে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তার প্রমাণ দিয়েছেন হত্যাকারীদের পুরস্কার দিয়ে।

তিনি বলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে নেমে দু হাত  পেতে প্রার্থণা করেছিলেন খুনিদের যাতে বিচার হয় এবং বাংলাদেশ যাতে পাপ মুক্ত হয়। সৃষ্টিকর্তা শেখ হাসিনার সেই প্রার্থনা কবুল করেন। ১৭  মে প্রধানমন্ত্রী  দেশে আসেন। আর  যেই  সেনাবাহিনীর উপর ভর করে জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিলেন, সেই সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য ৩০ মে তাকে হত্যা করে। তার লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি। জিয়ার পরিবর্তে ভিন্ন একটি লাশ এনে চন্দ্রিমা উদ্যানে কবর দেওয়া হয়।

দেশরতœ  সেবক পরিষদের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, আওয়ামী লীগের  কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক এম এ করিম, আওয়ামী গীগের  কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজিত রায়, আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি ইলিয়াছ হোসাইন বিন হেলালী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক  জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।