1দৈনিক বার্তা : ভারতের ১৬তম  লোকসভা নির্বাচন নিয়ে আমাদের উল্লসিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু  নেই বলে মন্তব্য করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।তিনি বলেছেন, ভারতের নির্বাচনে বিজেপি বিজয়ী  হয়ে ক্ষমতায় আসছে না কেনো বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হবে না।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনার ৩৩তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ  কেন্দ্রীয় কমিটি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন,ভারতে যে নির্বাচন হয়েছে সেটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই হয়েছে। এ নির্বাচন নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই।কারণ এটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে। এ নির্বাচন বাংলাদেশে  কোন প্রভাব  ফেলবে না। যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ভারতের নির্বাচন বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের  যে বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ক তাতে  কোন প্রভাব ফেলবে না। তাদের সঙ্গে আমাদের বৈদেশিক সম্পর্ক সবসময় ইতিবাচক ছিল। এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

কাদের বলেন, ভারতের জনগণ তাদের পছন্দের দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করছে। এ নির্বাচন নিয়ে আমাদের আমাদের উল্লসিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।তিনি বলেন, বিএনপি যদিও আজ সংসদে  নেই। তবুও তারা দেশের বড় এবং প্রধান বিরোধী দল। তারা সবচেয়ে বড় ভুল করেছে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না এসে।যার খেসারত তাদেরকে এখন দিতে হচ্ছে। তারা সব সময় বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের হুমকি দিয়ে আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখতে চায়।

কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার  নেতৃত্বে  দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেকে বলেছিলো ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যা করছে  সেটি ঠিক নয়। তারা ৩ মাসও থাকতে পারবে না। আমাদের নিজেদের দলের অনেক  নেতাকর্মীকেও  সে সময়  ফোনে পাওয়া যায়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে ৫ মাস অতিক্রম করে আগামী এক বছরের বাজেট প্রনয়ন করতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপি বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করতে চায়। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ইস্যু নিয়ে তারা তীব্র আন্দোলন গড়ে  তোলার হুমকি দিচ্ছেন। তারা এ ঘটনায় পুরো র‌্যাব বাহিনীকে খারাপ বলছেন। আমাদের মাঝে খারাপ থাকতে পারে। তাদের দলেও খারাপ থাকতে পারে। র‌্যাবের মাঝেও কিছু সংখ্যক খারাপ থাকতে পারে। এর জন্য পুরো র‌্যাব বাহিনী বা  কোন দলকে খারাপ বলা যায় না।খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছেন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে  র‌্যাব গঠন করেছিলেন, তাদের স্বাধীনতা পদক দিয়েছিলেন। এখন তাদের রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে র‌্যাব বিলুপ্ত করার দাবি জানাচ্ছেন।বিএনপি ক্ষমতায়  গেলে র‌্যাব বিলুপ্ত করবে কি-না খালেদা জিয়ার কাছে প্রশ্ন রাখেন  যোগাযোগ মন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বাংলাদেশেও ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কি-না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ  চেষ্টায়  দেশের গণতন্ত্র আবারও রক্ষা  পেয়েছে।সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে যারা গুম, খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে এখন এ্যাকশনে যাওয়া উচিৎ। কারণ খুনিদের ক্ষমা করা যাবে না।

ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে  যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, আর খারাপ খবরের শিরোনাম  দেখতে চাই না। অনেক করেছো। এবার থামো। গুটি কয়েক অন্যায় করবে, আর তার দায়ভার পুরো দলকে নিতে হবে।  সেটি হতে দেওয়া যাবে না। যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগের মাঝে কিছু আগাছা প্রবেশ করে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এ সকল আগাছাগুলোকে সূক্ষ্মভাবে দমন করতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ছাত্রলীগের গুটি কয়েক  নেতা-কর্মীর অপকর্মের কারণে আমাদের সব অর্জন ধুলায় মিশে যাচ্ছে। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে প্রতিরোধ করারও আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান  সোহাগ। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩৩ বছর : পেছনে ফিরে দেখা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এ কে এম এনামনুল হক শামীম প্রমুখ।