???????????????????????????????????????????????মোস্তাফিজুর রহমান টিটু/দৈনিক বার্তা : গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যানসহ সব পদেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীগণ নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামীলীগের দূর্গ হিসেনে পরিচিত গাজীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলার নির্বাচনে তিন পদেই দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় আওয়ামীলীগের ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজাদুর রহমান মিলন ২৩ হাজার ১৭৪ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগ নেতা ইউসুফ মোঃ সেলিম রেজা পেয়েছেন ১১ হাজার ৯৯৩ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত আবু তাহের মুসুল্লী (তালা প্রতীক) পেয়েছেন ১৯৫৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি লিটন মিয়া (উড়োজাহাজ প্রতীক) পেয়েছেন ১১৪১৭ ভোট। এছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত হাসিনা সরকার (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ২৯৩৪১ ভোট বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন। এ পদে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি শাহিদা আক্তার জসুদা (পদ্মফুল প্রতীক) পেয়েছেন ১০২৭৫ ভোট। সোমবার রাতে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থাপিত ফলাফল ঘোষাণা মঞ্চ থেকে সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া রহমান  বেসরকারি ভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিজয়ী চেয়ারম্যান ইজাদুর রহমান মিলন এলাকায় উন্নয়নে সকলের সহযোগীতা কামনা করে বলেছেন, এ বিজয় আমার একার বিজয় নয়। এ বিজয়  আমাদের দলের বিজয়, আমাদের দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিজয়, আমাদের সকল জনগণ এবং গাজীপুরবাসীর বিজয়। এসময় অন্যান্যের মাঝে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান, জেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, বিএনপি নেতা আহমদ আলী রুশদী সহ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি) গঠনের পর নতুন সীমানা নির্ধারন করে চারটি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত এ গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ইজাদুর রহমান মিলন ছিলেন বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থী। অপরদিকে নেতৃত্বের কোন্দলের কারনে আওয়ামীলীগ তাদের দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে না পারায় এখানকার নির্বাচনটি দলের নেতা কর্মীদের জন্য উম্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের চারজন প্রার্থী এ উপজেলার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়াও গাজীপুর জেলা হেফাজত নেতা ও সম্মিলিত ইসলামি ঐক্য পরিষদের মুফতি নাসির উদ্দিন খান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
উল্লেখ্য, গাজীপুর সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে সম্প্রতি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর মাত্র ২টি ইউনিয়নে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে এই উপজেলা পরিষদ। পরবর্তীতে ওই দু’টির মধ্যে ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদকে ভেঙ্গে ৩টি ইউনিয়ন পরিষদ করা হয়। নবগঠিত ৩টি ইউনিয়ন পরিষদ হলো-ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদ, পিরুজালী ইউনিয়ন পরিষদ ও মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ। এ তিন ইউনিয়ন পরিষদের  সঙ্গে বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত করে গাজীপুর সদর উপজেলার নতুন সীমানা নির্ধারণ করা হয়। নতুন সীমানা নির্ধারণের পর এটিই হচ্ছে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন।
নির্বাচনে আ.লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহি:প্রকাশ ঘটেছে ॥ গাজীপুরের ৫টি উপজেলার সবক’টিরই নির্বাচন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনের পর আবারো উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জেলায় আওয়ামীলীগের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহি:প্রকাশ ঘটেছে। এর জের ধরে এবারের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে গাজীপুরের ৫টি উপজেলার মধ্যে ৩টিতেই বিএনপি’র প্রার্থীদের কাছে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনেও বিএনপি’র প্রার্থীর কাছে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হেরে যায়। এছাড়াও নেতৃত্বের কোন্দলের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে দলের দ্বিধা বিভক্ত নেতাকর্মীদের মাঝে একাধিক সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠণের মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে এখন থেকেই দল ও নেতৃত্বকে সুসংগঠিত করার দাবী তুলেছেন।