1দৈনিক বার্তা : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আনা আপিলের শুনানি আগামী ৩ জুন।মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ আসামিপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি মুলতবি করে মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্যের এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অপর তিনজন বিচারপতি হলেন বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

আদালতে  মঙ্গলবার মামলাটি শুনানির জন্য উত্থাপিত হলে কামারুজ্জামানের পক্ষে এডভোকেট খন্দকার মাহবুব  হোসেন আপিল শুনানির প্রস্তুতির জন্য ৫ সপ্তাহ সময়ের আবেদন করেন। আদালত ৩ জুন পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেছে।এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা উপস্থিত ছিলেন।আদালতে খন্দকার মাহবুব নিজেই শুনানি করেন। এর আগে আরো দুইদিন মামলাটি তালিকায় আসলেও অবস্থানক্রমে  পেছনে থাকায় শুনানি হয়নি।

যুদ্ধাপরাধের মামলার আপিলে এবারই প্রথম প্রধান বিচারপতি থাকছেন না। এই  বেঞ্চে বিচারপতি এস  কে সিনহার সঙ্গে রয়েছেন বিচারপতি  মো. আবদুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন  চৌধুরী।একাত্তরে ময়মনসিংহ  জেলা শাখার আল বদর প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী কামারুজ্জামানকে গত বছর ৯  মে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে কামারুজ্জামান গত ৬ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের আবেদন করেন। তবে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ হওয়ায় প্রসিকিউশন এ মামলায় আপিল করেনি।ওই বছর সংশোধিত যুদ্ধাপরাধ আইনে আপিল শুনানির জন্য ৬০দিন বেধে দেয়া হয়। কাদের  মোল্লার মামলায় আদালত সেটা মানার আগ্রহও  দেখায়। পরে নির্দেশনামূলক বিবেচনায়  সেই বাধ্যবাধকতার বাইরে চলে যায় আপিল বিভাগ।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে হত্যা ও গণহত্যার দুটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। আর দুটি অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  এবং একটিতে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।এর আগে আপিল বিভাগে কাদের মোল্লা ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল শুনানি হয়েছিল।এর মধ্যে মোল্লাকে আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড  দেয়, যা গত ১২ ডিসেম্বর কার্যকর হয়।

সাঈদীর আপিলের শুনানি গত ১৬ এপ্রিল শেষ হয়,যা এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। সাঈদীর আপিলের শুনানি শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের ২৪  সেপ্টেম্বর।

২০১০ সালের ২৫ মার্চে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, যার মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরু হয়।জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন পলাতক বাচ্চু রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে  ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি শুরু হয় যুদ্ধাপরাধ মামলায় রায়।

এরপর একে একে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় হয় জামায়াত  নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী,  মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, পলাতক দুই ছাত্রসংঘ নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও  চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের। মৃত্যুদণ্ডতুল্য অপরাধ করেও বয়সের কারণে ৯০ বছর কারাদণ্ড পান গোলাম আযম।

এ ছাড়া বিএনপি  নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড এবং আবদুল আলীমকে আমৃত্যুকারাদণ্ড  দেয় ট্রাইব্যুনাল।কারাগারে থাকা সব দণ্ডিতের মামলাই বর্তমানে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে রয়েছে।

নেতাদের পাশাপাশি দলগতভাবে বিরোধিতার জন্য জামায়াতকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে আদালতের রায়ে। হাই কোর্টের একটি রায়ে দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের  যোগ্যতা হারিয়েছে। এই দলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে তদন্তও করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।