1দৈনিক বার্তাঃ  যারা নূর  হোসেনকে ভারতে পার করে দিয়েছে তাদের  কেউ শামীম ওসমান নন বলে দাবি করেছেন নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম।মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

শহীদুল ইসলাম বলেন, যে অডিও রেকর্ডটি প্রচারিত হয়েছে  সেটি অসম্পূর্ণ। শামীম ওসমান অভিনব উপায়ে নূর হোসেনকে  মোবাইল ফোনে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন। শামীম ওসমান যখন নূর হোসেনকে  ফেরানোর কথা বলেছেন তখন আমি, আমার মেয়ে এবং আমার ছেলে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। যারা এ রেকর্ডটি প্রচার করেছে তারাই নূর হোসেনকে পার করে দিয়েছে, তারাই এ হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তারা যদি জানতেন নূর হোসেন রাজধানীর ধানমণ্ডি এবং গুলশানে ছিল, তবে  কেন আটক করেনি ? বলেও প্রশ্ন রাখেন তিনি।

শহীদুল ইসলাম বলেন, অপহরণের পরে আমি র‌্যাব কার্যালয়ে  গেলে র‌্যাবের (সিও) তারেক সাহেব আমাকে বলেন, শামীম ওসমানের কাছে যান  সেই আপনার জামাইকে খুন করেছে। এরপর আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেন তিনি।

ডিবি’র অফিসার ইনচার্জ(ওসি)এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি একই কথা বললে শামীম ওসমানের কাছে যান তিনিই পারেন নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনেন’ আমি শামীম ওসমানকে অনুরোধ করি, নূর হোসেনকে ফোন করতে।

ফোনে শামীম ওসমান নূর হোসেনকে বলেন, ‘তুমি যদি এ ঘটনায় জড়িত থাক তবে ভুল করেছ। ভুলে যেও না এটা শেখ হাসিনার সরকার। এত বড় অপরাধ করে পার পাবে না’। কিন্তু যে অডিওটি প্রকাশ পেয়েছে সেখানে এ কথা বলা হয়নি।

এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে র‌্যাব খামখেয়ালি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  ফেনীর একরাম হত্যাকাণ্ডের পরে কয়েক দিনের মধ্যে মূল  হোতাসহ ১০ জনকে আটক করেছে র‌্যাব, অথচ এত দিন পরেও নূর হোসেনের কোনো সন্ধান দিতে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত হত্যা মামলার একমাস পূর্ন হলেও এখন পর্যন্ত মূল হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ সুপার মঙ্গলবার দুপুরে তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, একমাসে এ মামলার সাথে সম্পৃক্ত ১৩জনকে গ্রেফতার এবং ১৪জনকে সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার রাতে নুর হোসেনের মালিকানাধীন এবিএস পরিবহন থেকে তিনটি পিস্তল, একটি রিভলবার ও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।জন প্রশাসন মন্ত্রনালয় হাইকোর্টের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি করলেও তারা এখন পর্যন্ত কোন রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি। এ পর্যন্ত সাতবার গণশুনানী করেছে। এদিকে পুলিশ হাই কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চাকরীচ্যুত তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল কতারেক সাইদ, মেজর আরিফ ও লেঃ কমান্ডার এম এম রানাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ দ্বিতীয় বারের মত রিমান্ডে নেয়া হলেও হত্যামামলার প্রধান আসামী কাউন্সিলর নূও হোসেন সহ মামলার এজাহার ভুক্ত ৬ আসামীর কেউ এখনো ধরা পড়েনি। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে নিহতদের পরিবার স্বজনরা দেখা করলেও মামলার কোন অগ্রগতি হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে সাত হত্যা মামলার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে প্রতিদিনের মতো আজকেও আইনজীবী সমিতি ও আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সকাল সাড়ে নয়টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত আদালত বর্জন ও পৃথকভাবে মানববন্ধন বিক্সোভ মিছিল করেছে। তারা এক মাসেও প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে।