1দৈনিক বার্তাঃ গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড এবং সব ধরনের নম্বর ও নেমপ্লেটে বাংলা ভাষা ব্যবহার নিশ্চিতে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। বাংলা ভাষা প্রচলনে দেয়া আদেশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজ আদালতে দাখিল করার পর এ আদেশ দেয়া হয়।

আদালতে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় জানান, বাংলা ভাষা প্রচলনে সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। এর পর আদালত এক মাস সময় বৃদ্ধি করে  আদেশ দেয়।রিটের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট ড. ইউনুস আলী আকন্দ।

১৭ ফেব্র“য়ারি আদালত এ সংক্রান্ত আদেশ ও রুল জারি করে। রুলে অবিলম্বে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ (১৯৮৭ সালের ২নং আইন) বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এছাড়াও বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ বাংলাদেশের সর্বত্র অনুসরণ করার জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চায় আদালত।

গত ১৬ ফেব্র“য়ারি আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ও সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রারকে রেসপনডেন্ট (প্রতিপক্ষ) করা হয়।

এদিকে, গণমাধ্যমে বাংলা ভাষার বিকৃত উচ্চারণ ও অন্য ভাষার মিশ্রণ রোধে একটি কমিটি গঠন করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়।

সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ সাংবাদিকদের এতথ্য জানান।তবে কার নেতৃত্বে বা কত সদস্যের এই কমিটি করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

মরতুজা বলেন,বাংলা ভাষার দূষণ ও বিকৃত উচ্চারণরোধে গণমাধ্যমগুলো নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে পদক্ষেপ নেবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।সকল  দেশের ভাষা সমৃদ্ধ হয়েছে অন্য  দেশের ভাষায়। তবে অহেতুক অপ্রয়োজনে বাংলা ভাষার সাথে অন্য ভাষার মিশ্রণ করা যাবে না।

বাংলা ভাষার ব্যবহার, বিকৃত উচ্চারণরোধ ও ইংরেজি বিজ্ঞাপন প্রচাররোধে প্রতিটি গণমাধ্যমের একজনকে দায়িত্ব দেয়া হবে বলেও জানান তথ্য সচিব।বৈঠকে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।