1দৈনিক বার্তাঃ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ২০১৫ সালের মধ্যে শতকরা ৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সবার আগে রাজনৈতিক শান্তি-শৃংখলা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জঙ্গিবাদ দমনে বাজেট বরাদ্দ করতে হবে।

তিনি বলেন,গত ৬ মাস দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ-এর সেমিনার হলে বাঁক বদলের বাজেট শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) আয়োজিত আসন্ন জাতীয় বাজেটে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ ও ভর্তুকি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন শিরিন আক্তার এমপি,লুৎফা তাহের এমপি,নাজমুল হক এমপি, আফরোজা বেগম, আবুল হোসেন , অধ্যাপক মুক্তাদির প্রমুখ।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন,জঙ্গিবাদের দোসর বেগম খালেদা জিয়া অনিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলনের নামে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দেশের অর্থনীতিকে ধবংস করেছেন। নাশকতার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি যাতে কেউ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আগামী বাজেটে জঙ্গিবাদ দমনে বরাদ্দ দিতে হবে। সামাজিক ও রাজনৈতিক শান্তিই কেবল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে সহায়ক হতে পারে।

তিনি বলেন,জমি ,জলা,জঙ্গলের অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধ করে সেগুলি ভূমিহীন-কৃষক ও মৎস্যজীবীদের বরাদ্দ দিতে হবে। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র.স্বশাসিত স্থানীয় সরকার এবং সমাজতন্ত্র অভিমুখী সামাজিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তরবঙ্গে আজ আর কোন মঙ্গা নেই। মঙ্গা শব্দটি আজ জাতীয় জাদুঘরে চলে গেছে। গত দুই দশকে দেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৫দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০১১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।২০১২-২০১৩ সালে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাতের অবদান ছিল যথাক্রমে ১৮দশমিক ৭০ শতাংশ, ৩১ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও ৪৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

তিনি বলেন,দেশের কৃষিখাতে বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে। কৃষিতে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদ্ান রাখছেন। তাদের জন্য বিশেষ নাগরিক কার্ডের ব্যবস্থা করে বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন,তথ্য প্রযুক্তি সম্প্রসারণে আমদানি শুল্ক শূন্যের কোটায় নামিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহাররের অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। মোবাইল ও সিমকার্ডের উপর থেকে কর প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রদের দুপুরের খাবারের পাশাপাশি শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির পাশাপাশি তাদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে।