11দৈনিক বার্তাঃ জাতীয় বাজেটে অবহেলা,অনাদর,অযতœ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠা পথশিশুদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও তার সুফল থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে ব্যাংকিং সেবার অওতায় পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু-কিশোরদের নিয়ে আসার জন্য ব্যাংকিং কর্মসূচি উদ্বোধন করেন গভর্নর। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গভর্নর বলেন, দেশে পথশিশুদের সংখ্যা ৮-১০ লাখ। রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি, ফুটপাত, ওভারব্রীজ, পার্ক, রেলস্টেশন,বাস টার্মিনালে তাদের বসবাস। সরকার বদল হয়। আইন বদল হয়। সমাজপতিদের অবস্থার পরিবর্তন হয়। কিন্তু পথশিশুদের অবস্থার পরিবর্তন হতে দেখি না।

ড. আতিউর রহমান বলেন, দেশের সুবিধা বঞ্চিত পথশিশুদের পুনর্বাসনের জন্যে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভালোভাবে উপার্জনক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে তাদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। পথশিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণে যুগোপযোগী নীতি-পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তা না-হলে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। এজন্যেই প্রতিবছর জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ থাকলেও তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসব পথশিশুরা।

তিনি বলেন, পথশিশুরা সারাদিন যা আয় করে তার অর্ধেক বা পুরোটাই অপচয় করে বন্ধুদের আড্ডায়। তাদের কোনো সঞ্চয় নেই। সঞ্চয় থাকবে কী করে। তারা তো ব্যাংকই চেনে না। পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু-কিশোরদের জন্য ব্যাংকিং কর্মসূচি তাদেরকে শুধু ব্যাংকই চেনাবে না, ব্যাংকিং কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত করবে। তাদেরকে সঞ্চয়ের প্রতি অগ্রহী করে তুলবে। ব্যাংক হিসাবধারী পথশিশুরা তাদের ক্ষুদ্র আয়ের কিছুটা হলেও সঞ্চয় করতে পারবে। হয়তো এই সঞ্চয়ই তাদের সুন্দর ভবিষ্যত গড়ার পথ তৈরি করে দিবে।’

পথশিশুদের জমার ওপর সর্বোচ্চ হারে সুদ দেওয়ার জন্য ব্যাংকারদের প্রতি গভর্নর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এই প্রকল্প টেকসই করতে পথশিশুদের বয়স ১৮ বছর পার হলে তাদের ঋণ দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দিতে বলেন তিনি।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবেই পথশিশুদের উন্নয়নের দিকে সবার নজর দেওয়া প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবানদেরও সামাজিক দায়বদ্ধতা অংশ হিসেবে ওদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান গভর্নর।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ সেভ দ্য চিলড্রেন ও অন্যান্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ।