3দৈনিক বার্তাঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,যারা বৈধতার প্রশ্ন করে তাদের জন্মই অবৈধ।যারা এই সরকারকে অবৈধ বলছে তাদের বৈধতা কী ছিল।শনিবার বিকেলে গণভবনে জাপান সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মোশতাক আহমেদের হাত ধরে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠার ইতিহাস তুলে ধরে শনিবার তিনি বলেছেন, সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করছে কে,কারা?তাদের বৈধতা কী?বৈধতার প্রশ্ন যাদের জন্মে,তারা অবৈধ বলে কিভাবে ?আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি সংবিধানেই রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার জন্য বিএনপি দায়ী।

তিনি বলেন,বৈধতার প্রশ্নতো ওই দলের জন্মেই রয়ে গেছে। তারা আবার কীভাবে বৈধতার প্রশ্ন করেন। তারা কী আবার মিলিটারি ক্যু আনতে চেয়েছিল। ৪০ ভাগের ওপরে ভোট পড়েছে, সে নির্বাচনকে কীভাবে অবৈধ বলবে।কাদের মোল্লার ফাঁসি বন্ধ করার জন্য জন কেরি ও বান কি মুন আমাকে ফোন করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে এমন কেউ আছে? যে এই ধরণের ফোন পেয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা কেস কোর্টে পেন্ডিং আছে। সেটা নিষ্পন্ন হওয়ার আগেই আর একটা কেস করতে পারবেন? আইনমন্ত্রী আইনগতভাবে যেটা বাস্তব সেটাই বলেছে। সরকারের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির শক্তিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারকে পচতে সময় দেয়া হচ্ছে- বিএনপি চেয়ারপারসনের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী পাল্টা বলেন, পচছে বিএনপিই, আর দলটিকে ফরমালিন দিয়ে তাজা রাখা হচ্ছে।পচলোটা কে? উনি নিজেই তো পচে যাচ্ছেন, মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন তো সব জায়াগায় ফরমালিন। ফরমালিন দিয়ে তাজা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বিএনপিকে ফরমালিন দিয়ে তাজা রাখার চেষ্টা করছি। না হলে এত কথা কিভাবে বলছেন।

গত২৪মে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সমাবেশে খালেদা জিয়া সরকারবিরোধী কর্মসূচি দিতে আরো সময় নেয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, এদের (সরকার) পচতে আরো একটু সময় দিতে হবে। এজন্য আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে,৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ফলে গঠিত শেখ হাসিনার সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তাদের হটাতে কর্মসূচি দেয়ার কথা বলে আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।ওই নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করা ভুল ছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো রাজনীতিক যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, সে ভুলের খেসারত তাকে দিতে হবে।

দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব হারানো খালেদা দুই কূলই হারিয়েছেন বলেও এর আগে মন্তব্য করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।৪০ ভাগ ভোটার ভোট দেয়ার পর কেন নির্বাচন বৈধ হবে না, প্রশ্ন করে শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা বৈধতার প্রশ্ন আনে, তাদের জন্ম অবৈধভাবে। যাদের জন্ম অবৈধভাবে, তারা সব অবৈধ দেখে।র‌্যাব বিলুপ্ত করার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাবি নাকচ করে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলতে চলতে এটা একটা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। চট করে বন্ধ করা সম্ভব না।এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেয়ার সময় তদন্ত চলাকলে তিনজন র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করতে উচ্চ আদালতের আদেশ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন সরকার প্রধান। শেখ হাসিনা বলেন, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ কিভাবে অর্ডার দেয়, গ্রেফতার করেন। ওই জজ সাহেবের কাছে নিশ্চয়ই তথ্য আছে। দুই জাজের কাছে তথ্য থাকলে দিন। তদন্তের সহায়তা করুন।ওই বেঞ্চের জজ সাহেবরাই তদন্ত করবেন। তারাই বিচার করবেন।এসময় সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কি, কনটেম্প করবে? আমি পরোয়া করি না।আমার কথা কঠোর হয়ে যাচ্ছে? বাস্তব কথা কঠোরই হয়, বলেন শেখ হাসিনা।

এই প্রশ্নের আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয় যে, তার সরকার র‌্যাব বিলুপ্ত করবে কিনা।২০০৪ সালে র‌্যাব প্রতিষ্ঠার সময়ই তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা এর সমালোচনা করেছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, র‌্যাব একটা বাস্তবতা।বিএনপি-জামাত নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে ২০০১ সালে অপারেশন ক্লিন হার্টে’ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ প্রায় দেড়’শো মানুষকে হত্যা করা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আগে রক্ষী বাহিনীর সমালোচকদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যোরা রক্ষী বাহিনী, রক্ষী বাহিনী করল- তারাই র‌্যাব তৈরি করল।র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর প্রথম পাঁচ বছরে প্রায় এক হাজার মানুষ হত্যা করা হয়,বলেন প্রধানমন্ত্রী।তখন সকলে প্রশংসা করেছিল শেখ হাসিনা বলেন, দিনের পর দিন র‌্যাব যখন মানুষ হত্যা করেছিল তখন তো কেউ প্রশ্ন করেন নাই।

কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংকের ১৬ কোটি টাকা উদ্ধার করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, র‌্যাব অনেক সেনসেশনাল ঘটনার সমাধান করেছে।নারায়ণগঞ্জের সাত খুন এবং ফেনীর একরাম হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, আমরা কিছু ঢাকি না। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। অপরাধী যে দলেরই হোক আমরা ছাড়ছি না।

নারায়ণগঞ্জের সাত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী নূর হোসেন এবং সাংসদ শামীম ওসমানের কথিত কথোপকথন নিয়ে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, সে তো তাকে সারেন্ডার করতে বলেছিল।অডিও আলাপের অথিনটিসিটি কতটুকু? এই প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধ যদি প্রমাণ না করা যায়, তাহলে কাউকে অপরাধী বলা যায় না।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নূর হোসেন জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগে আসেন।

ফেনীতে একরাম হত্যাকান্ডের অভিযুক্তরাও বিপরীত ধারার রাজনীতি করতো বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের জন্য দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারের সুযোগ আপাতত নেই বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বক্তব্যে সমর্থন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রী তো ঠিকই বলেছেন। আইনগতভাবে যেটা বাস্তব, সেটা বলেছেন।

আইনি জটিলতাকে কারণ দেখিয়ে জামায়াতের বিচার আপাতত সম্ভব নয় বলে মন্তব্যের পর বিভিন্ন মহল থেকে আইনমন্ত্রীর সমালোচনা হচ্ছে। বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য আইনমন্ত্রীকে সময়ও বেঁধে দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন পেলেন মন্ত্রিসভায় এই প্রথম স্থান পাওয়া আনিসুল হক।

জামায়াতের রাজনীতি বন্ধের পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে প্রশ্নে শেখ হাসিনাও আইনি জটিলতাকে কারণ দেখিয়ে বলেন, সেটা উচ্চ আদালতে পেন্ডিং আছে। উচ্চ আদালতের রায় আসার আগে আমাদের কিছু করণীয় নেই।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা চাইলে আবার আমরা মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে দেব। আপনারা যদি আবার জ্বালাও- পোড়াও এবং খুন দেখতে চান তাহলে আমরা আবার নির্বাচন দিয়ে দেব। আমাদের যে উন্নয়নের কাজ রয়েছে, যেমন পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছি তা শেষ করতে চাই। আমি যে আন্তরিকতা নিয়ে দেশের জন্য কাজ করবো অন্য কেউ এ কাজ করবেনা। এ বিষয়ে আমি সিওর। কারণ আমার জন্ম বাংলাদেশে।

এরআগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিস্ময়। বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেল এখন বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো অনুসরণ করছে।জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের সফরে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে একটা কথা আছে- স্বর্ণকার মায়ের গহনা বানালেও সোনা চুরি করে। আমাদের সম্মাননা দেয়া নিয়ে কথা। সে ক্রেস্টে স্বর্ণ কত আনা আছে তা দেখার বিষয় নয়। আমরা সম্মাননা দিয়েছি তারা নিয়েছে। এখানে এতগুলো ক্রেস্ট দেয়া হয়েছে কোনটায় স্বর্ণ বেশি কোনটায় কম তা দেখার বিষয় নয়। আমার মনে হয় মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননার বিষয়টিকে আড়াল করার জন্যই কোথায় সোনা কম কোথায় বেশি তা আলোচনায় আনা হচ্ছে।

তিস্তার পানি চুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা ভাটিতে আছি। পানি যা আছে আমাদের কাছে আসবেই।
নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপিই পচে গেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ