তারেককে বাঁচাতে বিএনপি মিথ্যাচার করছে : নাসিম

Health Minister Nasim

দৈনিকবার্তা,২৫আগস্ট: ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত,জনগণই এর জবাব দেবে এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম৷ তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তদন্তের বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জড়িত থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসায় তারা রাজনৈতিক শিষ্ঠাচারবহির্ভূত মিথ্যাচার করে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে৷ কিন্তু বাঁচানো যাবে না৷ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিম এ মন্তব্য করেন৷
রোববার সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ খুনির দল৷শেখ হাসিনা খুনি৷’তাঁর এ মন্তব্যের জবাব দিতে আজ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়৷
নাসিম বলেন, অতি সমপ্রতিকালে বিএনপি’র মূল নেতৃত্বের আশকরায় তাদের নীচু সারির অনুজরা পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় নেতানেত্রীদের সম্পর্কে কুত্‍সিত, কুরুচিপূর্ণ গালাগালি, কটূক্তি যথেচ্ছাচারভাবে করছে৷ যা শান্তিকামী গণতন্ত্রপ্রিয় দেশবাসীর কাছে কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়৷
তিনি বলেন,এই অসুস্থ্য,রুগ্ন,অগণতান্ত্রিক, পশ্চাত্‍পদ, ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই গতকাল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বাধীন দল, যে দলটি ভাষা, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, প্রগতির আন্দোলনসহ বাঙালি জাতির সকল মহতী অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছে, তা অস্বীকার করে যে ভিত্তিহীন, অনভিপ্রেত, অনাকাংখিত, মিথ্যাচার করেছেন তা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক শিষ্টচার বহিভর্ূত৷ আমরা এই ধরনের দায়িত্ব কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই৷
নাসিম বলেন, অবৈধ ক্ষমতা দখলদার সামরিক স্বৈরশাসকদের গর্ভে জন্মলাভকারী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের মুখেই এই ধরনের বালখিল্যপনা মন্তব্য শোভা পায়৷এদেশের মাটি ও মানুষের দল আওয়ামী লীগ পরাধীন শাসনামল থেকে আজ পর্যন্ত ”জনগণই সকল ক্ষমতার উত্‍স” এই দর্শনে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল হিসেবে মানুষের কাছে সমাদৃত৷
তিনি আরো বলেন,বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে যাদের নূ্যনতম ধারণা আছে তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যকার রাজনৈতিক দর্শনগত ব্যবধানের সমাধান সূত্র বের করা কঠিন কোন কাজ নয়৷ সন্ত্রাস, নাশকতা, মানুষ হত্যা বিএনপি’র পুরনো অভ্যাস৷
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়৷ ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট পর্যন্ত অন্ততঃ ১৯ বার তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছে৷ কোটালীপাড়ায় জননেত্রী শেখ হাসিনার জনসভা স্থলের কাছে বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল৷ ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও আইভী রহমানসহ ২৪ জন সন্ত্রাস বিরোধী শান্তিবাদী মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার নেপথ্য নেতৃত্বদান করেছেন এই তারেক রহমান৷ যা আজ তদন্তের মধ্য দিয়ে সুস্পষ্টরূপে বেরিয়ে এসেছে৷
তিনি বলেন, সন্ত্রাস, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও মিথ্যাচার কোনকিছু দিয়েই গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি তারেককে রক্ষা করা যাবে না৷জাতীয় মূলধারার রাজনীতিকে সমূলে উত্‍পাটন ও রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার জন্য বাংলা ভাইয়ের জেএমবি ও মুফতি হান্নান গংদের হরকাতুল জিহাদসহ উগ্র জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য সৃষ্টি করেছিল খালেদা জিয়া সরকার৷ ঐ সরকারই বলেছিল বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি৷
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,২১ আগস্ট জনসভায় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা এবং উদীচী, ছায়ানটের অনুষ্ঠান, দরগাসহ ধমর্ীয় স্থান, সিনেমা হল ও ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর বোমা, গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে ১০ ট্রাক অস্ত্র এনে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার ঘটনার সাথে বিএনপি-জামাত জোট সরকার যে সম্পৃক্ত ছিল তা আজ দিবালোকের মতোই স্পষ্ট৷ তারেক জিয়ার নেতৃত্বে হাওয়া ভবনে বৈঠক করে নীলনকশা অনুযায়ী এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো৷
তিনি আরো বলেন, তারেক জিয়ার একান্ত বিশ্বাসভাজন প্রতিমন্ত্রী বাবর, সালাম, পিন্টু, হারিছ চৌধুরী, মুজাহিদ, কায়কোবাদ গংরা বোমা, গ্রেনেড হামলায় যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে তা দেশবাসীর কাছে আজ আর অজানা নয়৷ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মূল বেনিফিশিয়ারি জেনারেল জিয়া রাতের অন্ধকারে বন্দুকের নল উঁচিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিলেন৷ জেনারেল জিয়া তথাকথিত সিপাহী জনতার বিপ্লবের নামে বিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা, কর্নেল হায়দায়সহ অসংখ্য দেশপ্রেমিক সেনা অফিসার ও সদস্যকে হত্যা করেছিল৷
তিনি বলেন,এই জিয়াউর রহমানই ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার কর্নের (অব.) আবু তাহের যিনি মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে নিজের পা হারিয়েছিলেন তাকেও প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল৷ আমরা দেশবাসীর মনোভাবকে ধারণ করে সত্যিকার অর্থেই জিয়া পরিবার খুনি পরিবার তা উচ্চারণ করেছি৷
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন,জিয়াউর রহমান তার দখলিকৃত ক্ষমতাকে নিষ্কন্টক করার জন্য অগণিত মানুষকে হত্যা করেছে; তারই পদাংক অনুসরণ করে খালেদা ও তারেক ভিন্ন মতাবলম্বীদের নিষ্ঠুর বর্বরোচিতভাবে হত্যা করেছে৷ জিয়া পরিবারের ডজনখানেক সদস্যের বিরুদ্ধে দুনর্ীতি ও ফৌজদারী মামলা রয়েছে৷ তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠন ও আত্মসাত্‍ করেছে৷ দেশের সম্পদ চুরি করেছে, বিদেশে পাচার করেছে৷ অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়ে তুলেছে৷ সেই পরিবার জিয়া পরিবার৷ যে পরিবারের ডজনখানেক সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা বিচারাধীন তাদের মুখে বড় কথা শোভা পায় না৷ প্রকৃত অর্থে বিএনপি’র এই মিথ্যাচারকে ”চোরের মার বড় গলা”র প্রবাদের সাথেই শুধুমাত্র তুলনা করা যায়৷প্রকৃতপক্ষে বিএনপি’র ইতিহাস হত্যা, কু্য, দাঙ্গা, হাঙ্গামা, হিংসা-বিদ্বেষ, চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের ইতিহাস৷ দেশ, জাতি, জনগণের স্বার্থ রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ কখনো ষড়যন্ত্র, চক্রান্তের পথ গ্রহণ করেনি৷সবসময় বন্ধু হিসেবে জনগণের সাথে থেকেছে৷ আর তাই প্রতিনিয়ত কায়েমি স্বার্থবাদীদের ষড়যন্ত্র চক্রান্তের শিকার হয়েছে৷
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিপু মনি ও এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও বাহাউদ্দিন নাছিম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপদপ্তর সম্পাদক মৃণাল কানত্মি দাস, ওয়ার্কাস পার্টি আনিসুর রহমান মলি্লক, গণতন্ত্রী পার্টির নুরম্নর রহমান সেলিম, ডা. শহিদুলস্নাহ সিকদার, কমিনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান প্রমুখ৷কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিকরা বিএনপির এই মিথ্যাচারের জবাবে তাদের নিজ নিজ দলের বক্তব্য আগামীতে তুলে ধরবে বলেও সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়৷