বিদু্যত্‍-জ্বালানি সরবরাহ সংশোধন আইনের খসড়া অনুমোদন

63468daa747776e1c7f8ef27987f3aa6
দৈনিকবার্তা,২৫আগস্ট::বিদু্যত্‍ ও জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন-২০১৪-এর খসড়ার মেয়াদ চার বছর বাড়ানো হয়েছে৷সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন,বিদু্যত্‍ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহের জন্য ২০১০ সালে এই বিশেষ আইন করা হয়৷ দুই বছর পর এই আইনের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়৷ আগামী ১১ অক্টোবর ওই আইনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল৷ তার আগেই মেয়াদ বাড়ানো হলো আরও চার বছর৷বিদু্যত্‍ ও জ্বালানি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়ার জন্য ‘বিশেষ কমিটির’ মাধ্যমে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি করার বিধান রয়েছে এ আইনে৷ এর আওতায় সরকার স্বল্পসময়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, ওয়েবসাইটে প্রচার চালিয়ে বা ই- মেইলে যোগাযোগ করে আলোচনা ও দর-কষাকষির মাধ্যমে বিদু্যত্‍ বা জ্বালানি প্রকল্পের জন্য চুক্তি করতে পারে৷
সরকার গত চার বছরে এ আইনের আওতায় রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন,চলমান প্ল্যান্টগুলোর মেরামত এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদু্যত্‍সাশ্রয়ী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে৷সচিব বলেন, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ আইনটি খুবই কার্যকর হয়েছে৷মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা জানান, মন্ত্রিসভা এবার শুধু আইনের মেয়াদ বাড়িয়েছে, নতুন করে কোনো বিধান সংযুক্ত করেনি৷
জানাগেছে,প্রচলিত দরপত্র পদ্ধতির প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংক্ষিপ্ত সময়ে বিদু্যত্‍ ও জ্বালানি প্রকল্পগুলো অনুমোদন করার উদ্দেশ্যে ২০১০ সালে আইনটি করা হয়েছিল৷ সাধারণত দরপত্র পদ্ধতির পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যন্ত তিন থেকে চার বছর সময় লেগে যায়৷ পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে প্রকল্প বাস্তবায়নে এক থেকে দেড় বছর সময় কম লাগে৷
কিন্তু ওই সময় বিদু্যতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেড়ে গিয়েছিল৷ দিনের অধিকাংশ সময় লোডশেডিং হতো৷ ওই বিশেষ অবস্থায় দ্রুত বিদু্যত্‍কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আইনটি করা হয়েছিল৷ তখন মনে করা হয়েছিল,প্রথম দুই বছর পরই প্রচলিত দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে৷ তবে সেটি সম্ভব হয়নি৷ ২০১২ সালে আইনটির মেয়াদ আরও দুই বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল৷ সেমাবার আবার চার বছরের জন্য সময় বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা৷
বৈঠকে বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল আইনের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফ কাউন্সিল আইন-২০১৪-এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ তবে ভাড়াভিত্তিক এসব বিদু্যত্‍ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে জ্বালানি আমদানিতে ভর্তুকির কারণে দেশের অর্থনীতি চাপে পড়ছে বলেও সমালোচনা রয়েছে৷
এদিক, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পগামী ৩শ’ ফুট রাস্তার দু’পাশে লেক তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ঢাকা মহানগরীর পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী৷ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি৷পূর্বাচল প্রকল্পের সঙ্গে রাজধানীর মূলকেন্দ্রকে যুক্ত করতে বর্তমানে কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে ৩শ’ ফুট রাস্তার নির্মাণ কাজ চলছে৷
এই সড়ক ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং ঢাকা ইস্টার্ণ বাইপাসের সাথে রাজধানীর সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে৷ এছাড়া ঢাকার উত্তর-পূর্ব অংশে বসবাসকারী জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ ভবিষ্যতে পূর্বাচলবাসী সহজেই মূল নগরীতে যাতায়াত করতে পারবেন এই সড়ক ধরে৷মন্ত্রিসভার বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় ৩শ’ ফুট রাস্তার মূল নকশায় দু’পাশে লেক থাকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেই আলোচনায় আনেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিসভার একজন সদস্য৷
২০১০ সালে কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ ঢাকাকে একটি যানজটমুক্ত পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার চারিদিকে একাধিক স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী৷
পরিকল্পিত,টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ঢাকা মহানগরী গড়ার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি আবাসিক প্রকল্পে প্রয়োজনীয় খেলার মাঠ, জলাধার ও পার্ক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷
মন্ত্রিসভার ওই সদস্য বলেন,প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পূর্বাচল প্রকল্পের ৩শ’ ফুট রাস্তার মূল নকশায় লেক রয়েছে৷
সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি এই লেকের মাধ্যমে ঢাকা শহরের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী৷জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে৷ ভবিষ্যতে এই রাস্তার পাশ দিয়ে রেললাইন, এঙ্প্রেসওয়ে ও দুটি সার্ভিস রোড করার জায়গা রাখা হয়েছে৷ এমনকি ভবিষ্যতে যানজট বাড়লে প্রয়োজনে এই রাস্তাকে ১২ লেনেও উন্নত করা যাবে৷
এ ছাড়া ২৪ জুলাই ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত সাপটা বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়৷ ২২-২৩ জুলাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী রূপপুর পারমাণবিক বিদু্যত্‍কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গঠন করা যৌথ সমন্বয় কমিটির সভায় অংশ নেন৷ রাশিয়ার মস্কোয় ওই সভা হয়৷ এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রিসভাকে জানান৷