বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম-kader-siddique

দৈনিকবার্তা – নিউজ : বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের বিরোধীরাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় চামচা বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম৷তিনি বলেছেন, ইনু ও মতিয়ার মত লোকগুলো যারা বঙ্গবন্ধুর গায়ের চামড়া দিয়ে জুতা বানাতে চেয়েছে, তাকে গালাগালি করে সকাল শুরু করেছে, সেই ইনু-মতিয়ারা আজ আমার বোন হাসিনার সবচেয়ে বড় চামচা৷ জননেত্রী হাসিনার আর যাই হোক এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য, যে পিতার এতবড় বিরোধীতাকারীদের আজ তিনি সবচেয়ে বড় চামচায় পরিণত করতে পেরেছেন৷ এজন্য জননেত্রীকে নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে নোবেল পদক দেওয়া উচিত৷

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন৷ বেসরকারি টেলিভিশন দিগন্ত টিভির ষষ্ঠ বর্ষপূর্তিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়৷  কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, যারা আমার রাজনৈতিক পিতাকে (শেখ মুজিব) হত্যা করেছে, আজকে সহযোগিতার নাম করে তারাই আমার ভগি্নর (শেখ হাসিনা) চারপাশে অবস্থান নিয়েছে৷ ভয় হয়, আমার ভগি্নর পরিণতিও পিতার মতো হয় কিনা৷  দিগন্ত টেলিভিশন সম্পর্কে তিনি বলেন, দিগন্ত টেলিভিশন আইনের কাছে না গিয়ে গত ১৫ মাস ধরে এই লোকটির দালালি ও চামচামি করেছে৷ এই জন্যই দিগন্ত টেলিভিশন এ দীর্ঘ সময়েও মুখ খুলতে পারেনি৷ বোবা হয়ে রয়েছে৷

বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, যারা আমার রাজনৈতিক পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছে, সহযোগিতার নামে আজকে তারাই আমার ভগি্ন শেখ হাসিনার চারপাশে অবস্থান নিয়েছে৷ ভয় হয় আমার ভগি্ন পরিণতি পিতার মতো হয় কি-না!  তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকার যখন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন তারা এটা বুঝতে পারে না৷ আজকে এভাবে গণমাধ্যম বন্ধ করে সরকার বানের স্রোতে আটকাতে পারবে না৷ এটা উপলব্ধি করতে পারলে অনেক ভুলের মধ্যেও একটা ভাল কাজ তারা করতে পারবে৷ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, দিগন্ত টিভিসহ বন্ধ সব গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবি সরকারের কাছে জানিয়ে কোন লাভ নেই৷ কারণ, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র এক সঙ্গে চলে না৷

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই৷ নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে৷ এসব নিয়ে কউ যেন কোন ‘টু’ শব্দ করতে না পারে, সেজন্য সমপ্রচার নীতিমালার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ ও মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে৷ একই সঙ্গে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে বিচার বিভাগকেও নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে৷ তাই কেবল দিগন্ত টিভি আন্দোলন করলে হবে না, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য চাই জনগণের আন্দোলন৷

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের পক্ষে নয়৷ তারা মুখে বলে এক কথা, কাজে করে অন্যরকম৷ সরকার মনে করছে, এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না৷ কিন্তু এটি তাদের অমুলক চিন্তা৷ আমরা মনে করি বর্তমান অবস্থা থেকে সরে না আসলে তাদের অধঃপতন অনিবার্য৷

দিগন্ত টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সাদেক খান, আলমগীর মহিউদ্দিন, রেজোয়ান সিদ্দিকী, রুহুল আমিন গাজী, শওকত মাহমুদ, এমএ আজিজ, আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এম আব্দুল্লাহ, শহিদুল ইসলাম, কামার ফরিদ, কাদের গণি চৌধুরী, রফিক মুহাম্মদ প্রমুখ৷অনুষ্ঠানে কবি আল মাহমুদ উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেননি৷