বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাবে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে: গভর্নর

Bangladesh bank Governorদৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৩০আগষ্ট: ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রিয় ব্যাংক সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান৷ তিনি বলেন, আমরা এখন বিশ্ব অর্থনীতির অংশ হয়ে গেছি৷ তাই বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাবও আমাদের ওপর পড়বে৷ এ কারনে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে৷তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে যে বিশৃঙ্খলা ছিল তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে৷আমাদের মনিটারিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে৷ অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্যদ ভেঙ্গে পুনঃগঠন করা হয়েছে৷এর পাশাপাশি কতিপয় নির্বাহীদের বিপুল অংকের আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে৷ এতে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরছে আসছে বলে তিনি দাবি করেন ৷

শনিবার রাজধানীর হোটেল রেডিসনে সেনজা ফোরামের ২৯তম গভর্নরস সিম্পোজিয়াম-২০১৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন৷ শেনজা হলো-এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ২০টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক খাত তদারকি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত আঞ্চলিক ফোরাম৷

এবারের সিম্পাজিয়ামের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে-‘ম্যাক্রোইকোনমিক ইনভারমেন্ট এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি: ভালনারএবেল এন্ড ম্যানেজিং ক্রাইসিস’৷এই সিম্পোজিয়াম পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বিভাগ৷উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনজা ফোরামের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সূর চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য দেন৷

সিম্পোজিয়ামে নেপালের কেন্দ্রিয় ব্যাংকের গভর্নর ড. যুবরাজ খাতত্তিয়াদা এবং কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও পাকিসত্মানের কেন্দ্রিয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ মোট ১৪টি দেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংকের উচ্চপদস্থ ২৯ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন৷আতিউর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতে এখন আর অপরাধ করে কেউ পার পাবে না৷ তাকে শাসত্মি পেতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন৷

ঝুঁকি ব্যবস্থানাকে আরো শক্তিশালীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে গভর্নর বলেন, ঝুঁকি বড় হওয়ার আগেই তাকে শেষ করে দিতে হবে৷তিনি বলেন. পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আর্থিক খাতের সংস্থাগুলোকে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে কাজ করতে হবে৷ আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল রাখতে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে এক সাথে কাজ করার আহবান জানান তিনি৷

অনুষ্ঠানে সূর চৌধুরী বলেন, মুদ্রানীতি বাসত্মবায়নের জন্য একটি সুস্থও মসৃণ আর্থিক খাতের গুরুত্ব অপরিসীম৷ এ খাতের দুর্বলতা একদিকে মুদ্রানীতির প্রয়োগ যেমন জটিল করে তোলে,অন্যদিকে অর্থনীতির বাহ্যিক অভিঘাতসমূহের কারনে মুদ্রানীতির প্রয়োজনীয় উপযোজন করার ৰমতা সীমাবদ্ধ করে দেয়৷
তিনি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে বিচৰণ নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগের ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন৷উল্লেখ্য, ২০১৩-২০১৪ মেয়াদে শেনজা ফোরাম অব ব্যাংকিং সুপারভিশন এর উদ্যোগে ইতোমধ্যে ঢাকায় ৬দিন ব্যাপী সেন্ট্রাল ব্যাংকিং কোর্স অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ এতে বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪০জন প্রতিনিধি অংশ নেন৷