লঞ্চ উদ্ধার কার্যক্রমের ব্যর্থতা প্রশাসনিক নয়,প্রাকৃতিক:নৌমন্ত্রী

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান

দৈনিকবার্তা-ঢাকা,১সেপ্টেম্বর : নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন,পিনাক-৬ লঞ্চটির উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যর্থতা প্রশাসনিক বা প্রযুক্তিগত নয়, বরং প্রাকৃতিক৷তিনি বলেন, লঞ্চটি পদ্মায় ডুবে যাওয়ার সংবাদ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়৷ উদ্ধার জলযান রুস্তম এবং নিভর্ীককে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়৷এই উদ্ধার কাজে বিআইডবি্লউটিএ, নৌবাহিনী, ফায়ার ব্রিগেড, চট্টগ্রাম বন্দর কতর্ৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগসহ স্থানীয়জন প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করে৷

তিনি বলেন, একটানা ৭ দিন উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়৷ লঞ্চটির সনাক্ত করার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সাইড স্ক্যানার সোনার, মাল্টিবিম ইকো সাউন্ডার, সিঙ্গেল বিম ইকো সাউন্ডার এবং সাব-বটম প্রোফাইলার ব্যবহার করা হয়৷মন্ত্রী সংসদে সরকারি দলের মোছা. সেলিনা জাহান লিটার এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন৷

শাজাহান খান বলেন, উদ্ধার কার্যক্রমের ৬ষ্ঠ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরের কান্ডারি-২ দিয়ে একটি ধাতব বস্তু সনাক্ত করা হয়৷ কিন্তু পদ্মা নদীতে প্রতি ঘন্টায় ৬ নটিক্যাল মাইলের বেশি স্রোত থাকায় ও কখনো কখনো পানির নিচে ঘূর্ণি থাকায় এবং নদীর গভীরতা ৭০ ফুট হওয়ায় নৌবাহিনী, বিআইডবি্লউটিএ এবং ফায়ার ব্রিগেডের প্রশিক্ষিত ডুবুরিগণ জীবনের ঝুঁকি থাকায় চিহ্নিত স্থানে পেঁৗছাতে সক্ষম হননি এবং সনাক্তকৃত ধাতব বস্তুটি উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি৷

তিনি বলেন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা সত্ত্বেও নদীর প্রবল স্রোতের কারণে সনাক্ত করা ধাবত বস্তুটি ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ ছিল কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ পরবতর্ীতে ৮ দিন পর উদ্ধারকারী দলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে উদ্ধার কার্যক্রম পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়৷মন্ত্রী বলেন, বিস্তৃত উত্তাল নদী, নদীতে প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্ত, প্রবল স্রোতের সাথে পলি পরিবাহিত হওয়া এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি৷ সর্বোপরি উদ্ধারকাজ চলাকালীন চরম বিরূপ আবহাওয়া দুর্ঘটনাস্থলে বিরাজমান থাকাই লঞ্চটি উদ্ধারে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল৷

তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং নদীর অস্বাভাবিক প্রবল স্রোতের কারণে পিনাক-৬ লঞ্চটির কার্যক্রম সফল হয়নি৷তিনি বলেন, কেবল উদ্ধার কার্যক্রম নয়, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে৷এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সকল যাত্রীবাহী নৌযানের যথাযথ সার্ভেকরণ, প্রশিক্ষিত চালক এবং মাস্টার দ্বারা জলযান চালানোর জন্য মালিকপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান, মেরিন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং যে কোন সময় নৌযানের ফিটনেস ও চালকদের সার্টিফিকেট পরীক্ষা৷