সমুদ্রভিত্তিক উন্নয়ন খুলে দিতে পারে নতুন দিগন্ত: প্রধানমন্ত্রী

148

30-08-14-Sheikh Hasina Dhaka City Meeting (1)

দৈনিকবার্তা-ঢাকা,১সেপ্টেম্বর : সমুদ্র সম্পদের অপার সম্ভাবনাকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ এই ক্ষেত্রে সমুদ্র সম্পদের অপার সম্ভাবনাকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে হবে৷

সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘ইন্টারন্যানাশলাল ওয়ার্কশপ: ব্লু-ইকোনমি’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতি কর্মশালা উদ্বোধনের সময় তিনি এ আহ্বান জানান৷ বাংলাদেশসহ ২০টি দেশ এই কর্মশালায় অংশ নিচ্ছে৷প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়েছে৷

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ ভাগই আসে সমুদ্র পরিবহনের মাধ্যমে এ কথা উল্লেক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রে বাংলাদেশের যে বিশাল অধিকার অর্জিত হয়েছে তার সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা সময়োপযোগী৷সমুদ্র সম্পদের প্রাপ্যতা, উত্তোলন এবং ব্যবহার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব রয়েছে৷ তবে এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি৷

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মাশালার মাধ্যমে একটি কার্যকর সুপারিশমালা তৈরি হবে যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারি ভূমিকা রাখবে৷ বাংলাদেশের উন্নয়নে সমুদ্র অর্থনীতির (ব্ল ইকোনমি) বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্রসম্পদকে উন্নয়নের নিয়ামক হিসাবে ব্যবহার সম্ভব৷এক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা, উপযুক্ত জ্ঞান ও প্রযুক্তি ঘাটতির কথাও স্বীকার করেন তিনি৷

শেখ হাসিনা বলেন, বাণিজ্য সমপ্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তায় সমুদ্রের খনিজ সম্পদের ব্যবহার, সামুদ্রিক মত্‍স্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরকে আমরা উন্নয়নের নিয়ামক ভূমিকা হিসাবে ব্যবহার করতে পারি৷সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারে প্রযুক্তি ঘাটতির কথা স্বীকার করে সরকার প্রধান বলেন, সমুদ্র সম্পদের প্রাপ্যতা, উত্তোলন এবং ব্যবহার সম্পর্কে বাংলাদেশের পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল এবং প্রযুক্তির অভাব রয়েছে৷

তবে দক্ষ জনবল তৈরিতে ইতোমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষাদান চালুর বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলোর সহায়তায় এসকল ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়েও বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে৷

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ওই দুই দেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় বাংলাদেশ এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল, ২০০ নটিক্যাল মাইলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অধিকার পেয়েছে৷

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সীমানাকে বড় বাধা হিসাবে’ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়টি সবার জানা থাকলেও বিগত ৪০ বছর এ সমস্যা সমাধানে কেউ কোন বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি৷ বরং এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে৷ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর আপত্তির মুখে কেবল সমুদ্রসম্পদ আহরণের প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত হয়নি, দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে দেশ সমুদ্রকে যত বেশি ব্যবহার করতে পেরেছে,সে দেশ তার অর্থনীতিকে তত এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে৷বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুরোপুরি সমুদ্র-নিভর্র বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী৷

বার্ষিক ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে৷ বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে সমুদ্র পরিবহনের মাধ্যমে৷

বঙ্গোপসাগরে বিদ্যমান নানা প্রজাতির মত্‍স্য ও অন্যান্য জৈবসম্পদ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে জানিয়ে তিনি বলেন,বাংলাদেশ সামুদ্রিক মত্‍স্য রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণবৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে৷প্রধানমন্ত্রী জানান,সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যকে পুঁজি করে কঙ্বাজার,সেন্ট মার্টিনস এবং কুয়াকাটায় পর্যটন শিল্পকে আরো বিকশিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় তিন কোটি মানুষের জীবনযাত্রা মাছ চাষ ও বাণিজ্যিক পরিবহণের মতো সমুদ্র অর্থনীতির কার্যক্রমের উপর নির্ভরশীল৷শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের রয়েছে বঙ্গোপসাগরের অসীম সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদ৷ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তায় সমুদ্রের খনিজ সম্পদের ব্যবহার, সামুদ্রিক মত্‍স্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরকে আমরা উন্নয়নের নিয়ামক ভূমিকায় দেখতে পারি৷

দেশের আনর্ত্মজাতিক বাণিজ্যকে পুরোপুরি সমুদ্রনির্ভর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৩০ ডলারের জিডিপি নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি জিডিপি’র আকারে আজ বিশ্বে ৪৪তম৷প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূর দৃষ্টিসম্পন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করে বলেন, বঙ্গোপসাগরের বহুমাত্রিক বিশাল সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটার্স এন্ড ম্যারিটাইম জোন্স অ্যাক্ট, ১৯৭৪ আইন প্রণয়ন করেন৷

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত,শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান,বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মত্‍স ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. সায়েদুল হক, বিদু্যত্‍, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সহকারী মহাপরিচালক আর্নি ম্যাথিসেন বক্তব্য রাখেন৷ স্বাগত বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী৷