সাড়ে ৬০০ কর্মকর্তা নেবে জনতা ব্যাংক

0
43

14_123348                          পরীক্ষায় ভালো করতে চাইলে প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই।

দৈনিকবার্তা: অনেকেরই পছন্দ ব্যাংকের চাকরি। সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জনতা ব্যাংক লিমিটেড। নেওয়া হবে প্রায় সাড়ে ৬০০ কর্মকর্তা।
অ্যাসিসট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার ও অ্যাসিসট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার-টেলর (ক্যাশ) পদে প্রায় সাড়ে ৬০০ লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। অ্যাসিসট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে নেওয়া হবে ১৫৪ জন। আবেদনের যোগ্যতা ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণির (সমমানের সিজিপিএ) চার বছরের স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর (সমমানের সিজিপিএ)। একাডেমিক পরীক্ষার যেকোনো একটিতে প্রথম বিভাগ বা শ্রেণি (সমমানের সিজিপিএ) থাকতে হবে। কোনো পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি/বিভাগ থাকা যাবে না।
অ্যাসিসট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার-টেলর পদে নেওয়া হবে ৪৯৪ জন। আবেদনের যোগ্যতা ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণির (সমমানের সিজিপিএ) চার বছরের স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর (সমমানের সিজিপিএ) ডিগ্রি। এতেও কোনো তৃতীয় শ্রেণি/বিভাগ থাকা যাবে না। দুটো পদের জন্যই কম্পিউটার জ্ঞান থাকতে হবে। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী কোটার ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩২ বছর। আবেদন করা যাবে উভয় পদে।
আবেদনের নিয়ম: আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর পে-ইন স্লিপ প্রিন্ট করে জনতা ব্যাংকের যেকোনো শাখায় আবেদন ফি বাবদ (কমিশন ও ভ্যাটসহ) ২২০ টাকা জমা দিতে হবে। প্রাথমিকভাবে কোনো কাগজপত্র লাগবে না। এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে কাগজপত্র জমা দিতে হবে। ঠিকানায় আবেদনের নিয়মাবলি ও অন্যান্য তথ্য পাওয়া যাবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি: জনতা ব্যাংক লিমিটেডের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জিকরুল হক জানান, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নৈর্ব্যক্তিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাধারণত নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় ১০০ ও লিখিত পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের প্রশ্ন করা হয়। নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত পরীক্ষা হয় একই দিনে। সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও কম্পিউটার বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। প্রতিবছর পরীক্ষার ধরনে কিছুটা ভিন্নতা আনা হয়। তবে স্বাভাবিক প্রস্তুতি নিলেই পরীক্ষায় ভালো করা যাবে।
বাংলা: ২০১২ সালে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হয় ব্যাকরণ ও সাহিত্য থেকে। ব্যাকরণের শব্দ, বাক্য, সন্ধিবিচ্ছেদ, বানান শুদ্ধি, সমাস, কারক-বিভক্তি, পদ, প্রকৃতি-প্রত্যয়, বাগধারা, সমার্থক শব্দ, প্রতিশব্দ, দেশি-বিদেশি শব্দ, এককথায় প্রকাশ, অনুবাদ প্রভৃতি থেকে প্রশ্ন হয়ে থাকে। এ ছাড়া বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ, বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের জীবন ও কর্ম, উপাধি, ছদ্মনাম, চরিত্র ও উক্তি থেকে প্রশ্ন আসে। এসব ছাড়াও ভাবসম্প্রসারণ, পত্র, সারাংশ ও রচনা লিখনে দখল থাকতে হবে লিখিত পরীক্ষার জন্য।
ইংরেজি: প্রভৃতি বিষয়ে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। অনুবাদ ও রচনা আসতে পারে। এ ছাড়া বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম, কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী, গল্প, উপন্যাস ও নাটকের চরিত্র ও বিশেষ উক্তি সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। গ্রামার, পত্র, অনুবাদ ও রচনা লিখন বিষয়ে প্রশ্ন থাকে লিখিত পরীক্ষায়।
গণিত: মাধ্যমিক পর্যায়ের পাটিগণিত ও বীজগণিত বিষয়ে প্রশ্ন থাকে বেশি। ভালো করতে ঐকিক নিয়ম, শতকরা, পরিমাপ ও একক, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি এবং পরিমিতির বিভিন্ন সমস্যার সমাধান আয়ত্ত করতে হবে। পাশাপাশি লসাগু-গসাগু, বর্গ, সরল, মান নির্ণয় এবং জ্যামিতিক সূত্র ও সংজ্ঞাগুলো শিখতে হবে। বুদ্ধিমত্তা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য অ্যানালিটিক্যাল প্রশ্নও করা হয়।
সাধারণ জ্ঞান: সাধারণ জ্ঞান অংশে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে। বাংলাদেশ বিষয়ে ভৌগোলিক অবস্থান, আয়তন, সীমানা, নদনদী, কৃষিজ, বনজ, প্রাণিজ ও খনিজ সম্পদ, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্প ও বাণিজ্য, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, পুরস্কার ও সম্মাননা, নৃতাত্ত্বিক পরিচয় এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বিষয়ে বিশ্ব রাজনীতি, দেশ ও জাতি, সীমারেখা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠন, চুক্তি ও সনদ, পুরস্কার ও সম্মাননা, বিশ্ব অর্থনীতি, শিল্প ও বাণিজ্য, খেলাধুলা, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, বিখ্যাত স্থান ও স্থাপনা বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হবে। দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। বিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিষয়ে রাখতে হবে মৌলিক ধারণা।