চরমপন্থীরা হত্যা করেছে ফারুকীকে!

0
85

মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে

দৈনিকবার্তা-ঢাকা : আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নেতা মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যার পেছনে তার দলের বিতর্কিত মতাদর্শকেই অন্যতম কারণ মনে করছেন আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ধর্মীয় চরমপন্থীরাই তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করছেন তারা। এর আগে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে চারটি কারণ বিবেচনা করছিল–রাজনৈতিক, পারিবারিক, ব্যবসা সংক্রান্ত ও ধর্মীয়। কিন্তু এখন তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তারা দাবি করছেন, বিতর্কিত ধর্মীয় অবস্থানের কারণেই খুন হয়েছেন ফারুকী।

এদিকে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে পিস টিভিসহ আরও কিছু বেসরকারি চ্যানেলে প্রচারিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে এসব অনুষ্ঠান জঙ্গিবাদকে উস্কে দিচ্ছে। এই দলের নেতারাও মনে করেন, ফারুকী ধর্মীয় আদর্শগত অবস্থানের কারণেই নিহত হয়েছেন। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, “তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে ধর্মীয় আদর্শগত অবস্থানের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের তদন্তের ফল প্রকাশ করব।”

এর আগে তিনি বলেছিলেন, পুলিশ সম্ভাব্য হত্যাকারী হিসেবে ২০ জনের নামের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এর আগে মাহমুদা খাতুন ও ইউসুফ মজুমদার নামের দুই ব্যক্তিকে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ইউসুফের সঙ্গে কথা বলে বেশ কিছু সম্ভাব্য অপরাধীর নাম পাওয়া গেছে। শেরে বাংলা নগর থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর মুনশি সাব্বির হোসেন বলেন, “গোয়েন্দা পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইউসুফের কোন সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি।”

ফারুকীর কন্যা তুবা বলেন, “আমাদের পরিবারে জমিজমা নিয়ে কোন বিরোধ ছিল না। তবে অনেকেই তাঁর (ফারুকী) ধর্মীয় আদর্শের বিরোধিতা করতেন। আমরা এর আগে এ বিষয়ে হুমকিরও শিকার হয়েছি। অনেকেই মিলাদ মাহফিলের বিপক্ষে।” তিনি আরও বলেন, “আমার বাবার তিনটি বিয়ে করা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে অনেকে, আমরা দ্রুতই একটি সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের জবাব দেব।”

গত ২৪ আগস্ট আনুমানিক ছয় সদস্যের এক আততায়ী দলের হাতে খুন হন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুকী। তিনি হজ এজেন্সি ব্যবসা ছাড়াও, টিভি শো করতেন এবং সুপ্রিম কোর্টের মসজিদের ইমাম হিসেবে মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করতেন। তিনি চট্টগ্রামভিত্তিক ধর্মীয় সংগঠন আহলে সুন্নাতের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে এই সংগঠনের বিরোধ রয়েছে। ফারুকী হত্যার পর ফারুকীপুত্র ফয়সাল ১০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন। হত্যাকারীরা বিভিন্ন ভাষায় কথা বলেন বলেও তিনি এফআইআরে উল্লেখ করেন।