দী দখলকারীরা নব্য রাজাকার: নৌমন্ত্রী

0
70

Shajan Khan

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৩সেপ্টেম্বর: যারা নদীদূষণ ও দখল করছে, তাদের নব্য রাজাকার আখ্যায়িত করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান৷তিনি বলেন,এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ৩ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে৷ তবে নদী দখলমুক্ত করা বর্তমান সরকারের জন্য এখনও বড় একটি চ্যালেঞ্জ৷

বুধবার সকালে রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) টাওয়ারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কার্যক্রমের উদ্ধোধন ও কমিশনের কার্যক্রম অবহিতকরণের অনূষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন৷জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলামের সভপতিত্বেতে এতে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিশনের সদস্য আলাউদ্দিন৷

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা প্রাণহানি ঘটিয়েছিল, তাদেরকে আমরা রাজাকার বলি৷ নদীরও প্রাণ আছে৷ তাই নদীকে যারা দখল ও দূষণের মধ্য দিয়ে ধ্বংস করছে, হত্যা করছে, তাদের এ যুগের রাজাকার আখ্যায়িত করাই সমীচীন৷

নদী দখলের চিত্র তুলে ধরে শাজাহান খান বলেন, নদী দখলমুক্ত করাই আমাদের চ্যালেঞ্জ৷ নদী দখলমুক্ত করার জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে৷ ইতিমধ্যে টাস্কফোর্সের ২৬টি সভা হয়েছে৷ এই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে৷ নদীকে মা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নদীকে বাঁচালে মানুষ বাঁচবে, দেশ বাঁচবে৷ তাই স্লোগান হওয়া উচিত নদী বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও!’

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, নদী দূষণ,অবৈধ দখল, নাব্যতা হ্রাস পাওয়া এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাঁধাগ্রসত্ম হওয়ার কারণে আজ দেশের নদ-নদী এখন ভয়াবহ বিপর্যয়ের সন্মুখীন৷তিনি বলেন , নদীকে দখল মুক্ত ও দুষণ হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের চ্যালেঞ্জ৷ এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করার জন্য নদী রক্ষা কমিটি গঠণ করা হয়েছে৷

শাজাহান খান বলেন, আমরা যদি নদ-নদীকে রক্ষা করতে না পারি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে না পারি হয়তো এক সময় প্রাকৃতি দান এই নদ-নদীর অকাল মৃতু্য ঘটবে৷ আর এটি ঘটতে দিলে হয়তো এক সময়ের এ দেশ মরুভূমিতে পরিনত হবে৷ সকল আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পরবে৷ আমরা নিশ্চয়ই এ রকম অবস্থা দেখতে চাইনা৷ আমরা তা প্রত্যাশা করি না৷

শাজাহান খান বলেন, নদীর সকল কার্যক্রমের সফল বাসত্মবায়নকমিশনের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ৷ তবে দুরহ কাজ নয়৷ এ জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা বাসত্মবায়নের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ ও সকলের আনত্মরিক প্রচেষ্টা৷

অনুষ্ঠানে নদী-রক্ষা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে প্রতি বছরের মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করা হবে৷ এরপর জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সরকার পদক্ষেপ নেবে৷জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে৷ নদীর দখল ও দূষণ রোধে গত বছর জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন পাস হয়৷ এর পর থেকে কমিশন গঠনের প্রাক্রয়া শুরু হয়৷