জয় পাকিস্তান বলে শেখ মুজিব পাপ করেননি: গয়েশ্বর

Goyeshar Ray

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৫সেপ্টেম্বর: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এ কে খন্দকারের লেখা ভেতরে বাইরে বইটিতে সত্য কথা লেখায় যদি ফাঁসি দিতে হয় তাহলে ইতিহাসকে ফাঁসি দিতে হবে৷ কারণ,শেখ মুজিবুর রহমান তখন জয় পাকিস্তান বলেছিলেন৷ এটা সত্য কথা৷ তিনি সে সময় পর্যন্ত পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন৷ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীই হতে চেয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান৷ পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে সে সময়ের প্রেক্ষাপটে ‘জয়বাংলা’র পাশাপাশি ‘জয় পাকিস্তান’ বলে ভাষণ শেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাপ করেননি বলে মন্তব্য করেন গয়েশ্বও ৷

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন৷ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৭ম কারামুক্তি দিবস’ উপলক্ষে সভার আয়োজন করা হয়৷ গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত থেকে আমরা শুনেছি৷সে সময় আমরা নাবালক ছিলাম, এমনটি নয়৷ তখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র৷

তিনি বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে থেকে নির্বাচন করে জনপ্রতিনিধি হয়ে ৭ মার্চের ভাষণে জয়বাংলার পাশাপাশি ‘জয় পাকিস্তান বলে শেখ মুজিব পাপ করেননি৷ এ সত্যটা আওয়ামী লীগ নেতারা যত দ্রুত বুঝবেন, ততই তাদের জন্য মঙ্গল৷

জয় পাকিস্তান বলায় মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়নি মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, ২৫ মার্চের আগ পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের যে অবদান ছিল, তা খাটো করে দেখার চেষ্টা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়৷ তবে ২৫ মার্চের পর মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্য সবার অবদান অস্বীকার করে সব অবদান মুজিব কোর্টের পকেটে ঢোকানোর চেষ্টা যখন চলে, তখনই বিপত্তি ঘটে৷

তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস পালনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন শেষ হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত তারেক রহমান মুক্ত পরিবেশে স্বাধীন মত ঘোরাফেরা করতে না পারবেন, ততদিন পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব শেষ হবে না৷

জিয়া পরিবার ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে বিস্তৃত দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কেবল খালেদা জিয়া, তারেক রহমান বা আরাফাত রহমানকে নিয়েই জিয়া পরিবার বিস্তৃতি নয়; গোটা ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে ১৬ কোটি জনগণের মধ্যে জিয়া পরিবার বিস্তৃত৷ সুতরাং, সরকার যত চেষ্টাই করুক, জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করা যাবে না৷

তিনি আরো বলেন, সরকারের ওপর জনগণ কতটা অসন্তুষ্ট, তা বোঝা যেত জনগণ যদি তাদেরকে ফাঁকা মাঠে পেত৷ তবে সরকারের ওপর জনগণ যতটা অসন্তুষ্ট, বিএনপির ওপর ততটা সন্তুষ্ট নয়৷ কারণ, জনগণ বিএনপির কাছ থেকে কাঙ্খিত আন্দোলন পাচ্ছে না৷

গয়েশ্বর বলেন, আমাদের বিএনপিতে কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি৷এ কারণেই কর্মসূচি দিলে কাউকে মাঠে পাওয়া যায় না৷ সবাই চায়, ঘরে বসে নেতৃত্ব দিয়ে নেতা হতে৷

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন করতে হবে৷ ত্যাগের মধ্যে কোনো শর্ত থাকলে তা ইতিহাসে স্থান পায় না৷ যেকোনো ত্যাগে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে৷ তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই৷ বিএনপিতে কর্মীর চেয়ে নেতা বেশি বলেও অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য৷ তিনি বলেন এ জন্যই রাজপথ দখলে কর্মী পাওয়া যায় না৷

জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের সভাপতি হাজী মো. লিটনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, বিএনপির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম,সহদফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ, আবু নাছের মুহম্মদ রহমতউল্লাহ প্রমুখ৷অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদার৷