প্রতিটি গার্মেন্টে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ার আহ্বান নৌমন্ত্রীর

Shajan Khan

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৫সেপ্টেম্বর: প্রতিটি গার্মেন্টে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী ও শ্রমিক নেতা শাজাহান খান৷ তিনি বলেন, গার্মেন্ট মালিকরা শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে চায় না৷ গার্মেন্ট মালিকদের সঙ্গে আন্দোলন ও আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি গার্মেন্টে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে চাই৷

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানার শ্রমিকদের আইনানুগ সকল পাওনা অবিলম্বে পরিশোধের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ ও মিছিলে তিনি এ আহ্বান জানান৷ শ্রমিক সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে গার্মেন্ট শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ৷

শাজাহান খান বলেন, তোবা গার্মেন্টের শ্রমিকদের সকল পাওনার জন্য আমরা বিজিএমইএ ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছি৷ সবার ন্যায্য পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে আমাদের এই সংগঠন কাজ করছে৷

তিনি বলেন, তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেন কর্ণফুলি ইন্সু্যরেন্স কম্পানিতে তার গার্মেন্টের ইন্সু্যরেন্স করিয়েছিলেন৷ কিন্তু এখন কর্ণফুলি ইন্সু্যরেন্স কম্পানি তাকে ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে রাজি হচ্ছে না৷

বৃহস্পতিবার আমি তোবা গ্রুপের মালিক ও কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স কম্পানির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করেছি৷সেখানে ইন্সু্যরেন্স কম্পানি এমন কোনো যুক্তি দাঁড় করাতে পারেনি যে কারণে দেলোয়ার ক্ষতিপূরণ পাবেন না৷এ সময় সমন্বয় পরিষদের মাধ্যমে শ্রমিকদের পাওনা টাকা আদায় ও পুনরায় তোবা গার্মেন্ট চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, সরকার শ্রমিকদের পক্ষেই কাজ করছে৷ শ্রমিকরা আন্দোলন করছে, অবরোধ করছে, কিন্তু সরকার কোনো শ্রমিকের ওপর গুলি চালায়নি৷ বিএনপি সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছে তখনই শ্রমিকদের আন্দোলনে গুলি করে শ্রমিক হত্যা করেছে৷

অ্যাপারেল গার্মেন্টের মালিক ও নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহামুদুর রহমান মান্নার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,’মান্না একজন গার্মেন্ট মালিক৷ তিনি ১৮ জন শ্রমিকের পাওনা ঠিকমতো পরিশোধ করেননি৷ তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে৷ তিনি আবার শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনার দাবিতে আন্দোলন করেন৷ আগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করুন, তারপরে তাদের অধিকার আদায়ের দাবিতে কথা বলুন৷

মার চেয়ে মাসির দরদ বেশি হলে, সেই মাসি তখন হয়ে যায় ডাইনি৷ মাহামুদুর রহমান মান্নার অবস্থা ঠিক তেমন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শাজাহান খান৷

নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক শাজাহান খান বলেন, দেশের পোশাক শিল্পে স’িতিশীলতা ও শানত্মিপূর্ণ পরিবেশ গঠনে সুস্থ ধারার ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও আলাপ-আলোচনার কোন বিকল্প নেই৷

তিনি বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তোবা গ্রুপের দেড় হাজারের বেশি শ্রমিকের পাওনা এবং ওভারটাইম গত মাসে আদায় করা সম্ভব হয়েছে৷ বর্তমানে আরো পাওনা আদায়ের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় পরিষদ আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে৷

শাজাহান খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দুমেয়াদের শাসনামলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে৷ অথচ শেখ হাসিনার শাসনামলে গার্মেন্টস সেক্টরে ভাংচুর, অগি্নসংযোগ করা হয়েছে, কিন’ কোন শ্রমিক মারা যায়নি৷ বেগম জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে সাড়ে ৯শ’ টাকা গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন দিয়েছেন অথচ শেখ হাসিনা সরকার ৰমতায় এসেই ১৫শ’ টাকা বেতন করেছেন৷ এটা রাজনীতি নয়, যেটা সত্যি তাই বলা হয়েছে৷

তিনি বলেন,তোবা গ্রুপ নিয়ে রাজনীতি করছেন৷এটা সঠিক নয়৷ তারা কখনোই ক্ষমতায় যেতে পারবেন নাতিনি বলেন, তোবা গ্রম্নপ নিয়ে গার্মেন্টস সেক্টরে হরতাল দিয়েছেন৷ তাদের হরতাল তো মাঠে মারা গেছে৷

তিনি আরো বলেন, তোবা গ্রুপের মালিককে কারা জেল থেকে মুক্ত করেছেন৷ যারা শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি করছেন তারাই তোবা গ্রুপের মালিককে জেল থেকে মুক্ত করেছেন৷সভা শেষে শ্রমিকরা মিছিল বের করেন৷ মিছিলটি প্রেসক্লাব থেকে কদম ফোয়ারা হয়ে পল্টন মোড় পর্যন্ত গিয়ে আবার প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়৷

সংগঠনের সভাপতি নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে শ্রমিক সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্যসচিব বদরুদ্দোজা নিজাম, শ্রমিক নেতা জেড এম কামরুল আনাম, মো.তৌহিদুর রহমান, আবুল হোসাইন, নাজমা আক্তার, শামীমা নাসরিন, সিরাজুল ইসলাম রনি, বাহরানে সুলতান, রুহুল আমিন, লীমা ফেরদৌস, সাহিদা সরকার প্রমূখ৷