সত্য প্রকাশ হওয়ায় আ. লীগের গায়ে আগুন ধরেছে: ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৫সেপ্টেম্বর: এ কে খন্দকার তাঁর বইয়ে সত্য বলার কারণে আওয়ামী লীগের গায়ে আগুন ধরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷শুক্রবার সকালে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পঞ্চম মৃতু্যবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন৷ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়৷এম সাইফুর রহমান ২০০৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান৷

ওলামা দলের সভাপতি হাফিজ মাওলানা এম এ মালেকের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল কবির খোকন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পদক সানাউল্লাহ মিয়া, সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন ও শামীমুর রহমান শামীম৷

মির্জা ফখরুল বলেন, এ কে খন্দকার যে কথা বইয়ে (১৯৭১: ভেতরে বাইরে) বলেছেন, সেটি সত্য৷ জনগণ এ কথাই বিশ্বাস করে৷ আওয়ামী লীগ যে এক ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকে স্বীকার করে না এবং তারা যে মিথ্যাচার করে, তা এবার বেরিয়ে এসেছে৷ এ জন্যই তারা এ কে খন্দকারকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে বিচারের দাবি তুলেছে৷

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুতি ছিল না এমন দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জয় পাকিস্তান বলেই বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণ শেষ করেছিলেন৷ এটা এ কে খন্দকারের বইয়ে এসেছে৷ তবে এর অর্থ এই নয় যে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিলেন৷ তখনকার বাস্তবতায় জয় পাকিস্তান বলা সঠিক ছিল৷ কারণ আওয়ামী লীগ ওই সময় মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল না৷ এ জন্য তারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে না পড়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল৷

তিনি আরো বলেন, কিন্তু যেহেতু আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি,তারা সবাই কলকাতায় পালিয়ে গিয়েছিলো সেহেতু ইতিহাসের এ সত্য তারা মেনে নিতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল৷

মুক্তি যুদ্ধ নিয়ে আওয়ামীগের মিথ্যাচার প্রকাশ হয়ে পড়ায় মুক্তিযুদ্ধের উপ অধিনায়ক এ কে খন্দকার সমর্্পকে সরকার বিষেদাগার করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন৷ এসময় তিনি আরো বলেন, সত্য কখনো ঢেকে রাখা যায় না৷ মিজর্া ফখরুল সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সমালোচনা করেন৷ তিনি বর্তমান সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বলেন, আন্দালনের মাধ্যমেই এ সরকারের পতন ঘটানো হবে৷ তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় বর্তমানে দেশে আইনের শাসনের বদলে চলছে আওয়ামী বন্যশাসন৷

তিনি আরো বলেন, সরকার তার দলীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষকে পঙ্গু করে দিচ্ছে৷ এদেরকে পরাজিত করতে হবে৷ আর এদের পরাজিত করতে না পারলে দেশ ও দেশের মানুষ থাকবে না৷ প্রসঙ্গত, সদ্য প্রকাশিত বই ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ তে মুক্তিযুদ্ধের উপসেনাপতি এ কে খন্দকারের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃত করার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সংসদে তীব্র সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা৷

প্রথমা থেকে প্রকাশিত এ কে খন্দকারের বইয়ের প্রকাশনা উত্‍সব হয় বুধবার৷ বইয়ে তিনি লিখেছেন, ৭ মার্চের ভাষণ জয় পাকিস্তান বলে শেষ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু৷ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ছিল না বলেও লিখেছেন সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা৷

ফখরুল বলেন, কিছুদিন আগেও যিনি তাদের (আওয়ামী লীগ) সরকারের মন্ত্রী ছিলেন, আজ তারাই এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ বিচারের কথা বলছেন৷ সংসদে বীর উত্তম খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম,আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কয়েকজন দলের সাবেক সহকর্মী এ কে খন্দকারের তীব্র সমালোচনা করেন৷এইচ এম এরশাদের সরকারের মন্ত্রী এ কে খন্দকারের সমালোচনা করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরাও৷

সংসদে ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, সত্য সত্যই৷ সত্যের নিজস্ব চেহারা বেরিয়ে আসবেই৷এটা কাউকে খাটো কিংবা দোষারোপ করার বিষয় নয়৷ একে খন্দকার তার বইতে যা বলেছেন, তা সত্য৷ এটাকে মেনে নিতে হবে৷বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান এ কে খন্দকার বীর উত্তম খেতাবধারী৷ আওয়ামী লীগের গত মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী৷

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যারা ৭ মার্চের ভাষণ সেখানে উপস্থিত থেকে শুনেছি তারা জানি বঙ্গবন্ধু তার ভাষণ শেষ করেছিলেন জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান বলে৷ তখনকার বাস্তবতায় এটি ঠিক ছিল৷ এটা বললে শেখ মুজিবুর রহমানকে খাটো করা হয় না৷ তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে, তাও নয়৷

আওয়ামী লীগ ইতিহাসের সত্যকে স্বীকার করতে চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একজন ছাড়া কাউকে চেনে না৷ যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তারাই সবাই তাদের কাছে অবহেলিত৷ প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের কাছে অবহেলিত৷ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানির নাম তারা উচ্চারণই করে না৷

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, একে খন্দকার তার বইতে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের কোনো প্রস্তুতি ছিলো না৷ প্রস্তুতি থাকলে ২৫ মার্চ ও তার পরদিন এত প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না৷ তিনি সঠিক কথাই বলেছেন৷একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এম সাইফুর রহমানের কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করে ফখরুল বলেন, সাইফুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন৷ প্রবাসে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছে৷ ফান্ড সংগ্রহ করেছেন, দেশের জন্য বিদেশি সমর্থন আদায়ে কাজ করেছেন৷

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ তা স্বীকার করে না৷ এজন্য তার মৃতু্যর পর প্রধানমন্ত্রী একটি শোক প্রকাশ পর্যন্ত করেননি৷বক্তৃতায় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সবল ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাইফুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন বিএনপির এই মুখপাত্র৷মিলাদ শেষে প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়৷