PM

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ২০ নভেম্বর: তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ পাশাপাশি অপসংস্কৃতি যেন ঘাড়ে চেপে না বসে সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেন তিনি৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনের ক্ষুধা মেটাতে আরো বেশি সংস্কৃতি চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন৷

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কেবল পেট পূরলেই হবে না৷ মনের চাহিদা মেটানোর উপরও গুরুত্ব দিতে হবে৷ এজন্য বেশি বেশি সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে৷তবে অপসংস্কৃতি যেন আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ওপর চেপে না বসে এব্যাপারে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এটাই চিরায়ত যে, সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চা বিনোদনেরও খোরাক জোগায়৷ কিন্তু এব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে যে, অপ সংস্কৃতি যেন আমাদের গ্রাস না করে৷

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবায়য়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণকালে একথা বলেন৷ অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর স্বগত বক্তৃতা দেন৷ এসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রনজিত কুমার বিশ্বাস ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন৷শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর রহমতে বর্তমানে দেশে কোন খাদ্য সংকট নেই৷ এখন আমরা জনগণের মনের বিনোদনের জন্য অর্থাত্‍ আরো বেশি সংস্কৃতি চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছি৷

তাঁর সরকারের লৰ্য হচ্ছে বিশ্বের মানুষের সামনে বাংলাদেশের পরিচয় ও স্বকীয়তা তুলে ধরা একথা উলেস্নখ করে তিনি বলেন, এজন্য বর্তমানে সরকার জাতির আত্মপরিচয় সম্মুন্নত রাখতে ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সংস্কৃতি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে৷পাশাপাশি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুনদের সামনে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷

শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত প্রযুক্তি এসেছে৷ পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে৷ আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাক৷…ঐতিহ্য ধরে রেখে আধুনিকায়নের পাশাপাশি ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে৷ সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে নতুনদের আকৃষ্ট করতে হবে৷পুরনো জিনিস ধরে রাখলে আধুনিক যুগে পিছিয়ে পড়তে হবে বলেও তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন৷

তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনী নিয়ে সত্যজিত্‍ রায়ের নির্মিত বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জলসাঘরের’ কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরনো জিনিস সংরক্ষণ করতে হবে৷ পুরনো জিনিস ধরে রাখার চিন্তা আমাদের এগোতে দেবে না৷ তা না হলে সেই জলসা ঘরের মতো আস্তে আস্তে সব ধসে পড়ে যাবে৷ নতুনদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে৷এজন্য সময়োপযোগী করা প্রয়োজন৷ আমরা আধুনিকায়নে যাব৷ ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে আধুনিকায়নে এগিয়ে যেতে হবে৷তবে সেই সুযোগে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ যাতে না ঘটে, সেজন্যও কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন তিনি৷ খেয়াল রাখতে হবে-অপসংস্কৃতি যাতে আমাদের ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে৷ দেশজ সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্ব দিতে হবে, ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে৷

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় ১৯৯৬থেকে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের তিন মেয়াদে দেশের সংস্কৃতির উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যহার করে ও ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে তৃণমূলে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন৷কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ওয়েবপোর্টাল ব্যবহার করছে আমাদের ছেলেমেয়েরা৷ এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের কাছে সংস্কৃতিকে সহজে পৌঁছে দিতে হবে৷তাদের জন্য সে সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে৷

সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি, সাহিত্য চর্চা- এগুলো আসলে মনের খোরাক৷ তা মনকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেয়৷ পেটের ক্ষুধা মিটালে হবে না, মনের ক্ষুধাও মেটাতে হবে৷ যেসব দেশজ ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে, সেগুলো তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী৷ সেই সঙ্গে সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণার ওপরও গুরুত্ব দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন৷শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন জাদুঘর, শাহজাদপুরে রবীন্দ্র কাচারিবাড়ি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি সংরক্ষণ ও নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত ভবন নির্মাণের কথাও তুলে ধরেন তিনি৷

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা বাংলাদেশের মানুষকে সব সময় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে৷আমরা জয় বাংলা স্লোগান দেই, এ স্লোগানই তো নজরুলের৷ এটা অনেকে হয়তো জানে না৷ জয় বাংলা জাতীয় কবি কাজী নজরুলের কাছ থেকে পাওয়া৷জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী দশম সংসদ নির্বাচনের পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে যাচ্ছেন৷ এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আসেন তিনি৷