উন্নয়নের যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

03-01-15-PM-5

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৩ জানুয়ারি: কারো কাছে হাত পেতে নয়, নিজেদের সক্ষমতায় দেশের উন্নয়ন করছে সরকার যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সামথর্্য এখন বাংলাদেশের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সমাজ সেবার দিন বদলে, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’এ প্রতিপাদ্যকে সামনে জাতীয় সমাজসেবা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন৷ শেখ হাসিনা বলেন, সরকার অতিদরিদ্র, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদ বিধবা ও আশ্রয়হীনদের কল্যাণে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে৷এসব কার্যক্রম দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক অবদান রাখছে উলেস্নখ করে তিনি আরো নতুন ধারণা ও কার্যক্রম খুঁজে বের করার জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে জনগণ আরো বেশি উপকৃত হতে পারে৷

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স’ায়ী কমিটির সভাপতি ড. মোজাম্মেল হোসেন৷মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম ও সমাজ কল্যাণ অধিদফতরের মহাপরিচালক সাইদুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন,দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার৷এ সময় সুবিধা বঞ্চিত মানুষের বাসস্থান সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নিদের্শ দেন তিনি৷ দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একজন লোকও গৃহহীন থাকবে না৷ হিজড়া, দলিত, প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে৷

শেখ হাসিনা বলেন,এ হিজড়া, দলিত, বেদে এ সমপ্রদায়ের মানুষ, তারাও কিন্তু মানুষ৷ তাদেরও একটা জীবন রয়েছে, কাজেই তারা সমাজে অবহেলিত হয়ে থাকবে কেন? কাজেই তাদের যেনো সমাজে একটি স্থান হয় এবং তাদের জীবন মান যাতে উন্নত হয় এর জন্য আমরা তাদের স্বকৃতি দিয়েছি৷ তাদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে৷ তিনি আরো বলেন, রাস্তায় রাস্তায় ও ফুটপাতে কেউ থাকবে সেটা হবে না৷ একটি ঠিকনা করতে হবে, যে কোনোভাবেই হোক তাদের জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে৷সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘোষণা দিয়ে ছিলাম, পম্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে করবো, সেটা কিন্তু আমরা শুরু করেছি৷ বিশ্বকে দেখিয়েছি যে, অন্যের কাছে হাত পেতে নয়, আমরা নিজেরাও করতে পারি৷

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি৷ কাজেই যে কোনো চ্যালেজ মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ শক্তি রাখে, সেটাই আমরা পপ্রাণ করেছি৷ আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা৷প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আরো মনোযোগী হওয়ার এবং সরকারের সমাজ কল্যাণ কার্যক্রম বাসত্মবায়নের জন্য একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন৷তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, কোন শিশু খাদ্য ও আশ্রয়হীন থাকবে না৷ তিনি বলেন, আমরা চাই না কোন শিশু আশ্রয়হীনভাবে রাসত্মায় থাকবে, অথবা কোন ব্যক্তি ফুটপাতে বাস করবে৷ আমরা প্রত্যেকের মৌলিক চাহিদা পূরণে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে চাই৷তিনি বলেন, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় অবশ্যই এ ব্যাপারে আরো সচেতন হবে৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ১৯৯৬ সালে ৰমতা গ্রহণ করে নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে অনেক সমাজসেবা কার্যক্রম গ্রহণ করে৷২০০৯ সালে কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করা হয় এবং শিশু, শারীরিক প্রতিবন্ধী দুস্থ নারী ও বৃদ্ধদের কল্যাণে অনেক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়৷এখন আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি যা সুবিধাভোগীদের আরো দ্রুত ও ইতিবাচক সেবা নিশ্চিত করবে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে আগামী ৪ বছরের মধ্যে দারিদ্র্য হার কমে ১৪ শতাংশে দাঁড়াবে৷ আগামীতে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ছোটমণি নিবাস ও শিশু পরিবার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷শিশুদের কল্যাণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে তাদের ভরণ- পোষণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষন, খেলাধুলা, বিনোদন ও পুর্নবাসনের জন্য দেশব্যাপী ৮৫টি সরকারি শিশু পরিবার পরিচালিত হচ্ছে৷ আগামীতে প্রতি উপজেলায় আমরা একটা করে শিশু পরিবারের ব্যবস্থা করবো৷ ছোটমণি নিবাস প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ৬টি বিভাগে ৬টি ছোটমণি নিবাস (বেবি হোম), একটি দিবাকালীন শিশু যত্ন কেন্দ্র, ৩টি দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনবার্সন কেন্দ্র রয়েছে৷ আগামীতে ছোটমণি নিবাসকে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের৷ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে৷উদাহরণ হিসেবে পদ্মাসেতুর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর কাজ শুরু করেছি৷

প্রধানমন্ত্রী সমাজের অবহেলিত মানুষদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে বলেন, আমরা চাই না, কোনো শিশু রাস্তায় গড়াগড়ি খাক৷ তাদের জন্য একটা আস্তানা দিতে হবে৷ আমরা চাই না কেউ গৃহহীন থাকুক, ফুটপাতে পড়ে থাকুক৷আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি সমাজে ভূমিকা রাখছে জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছে৷ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই সব পিছিয়ে পড়া সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও উন্নয়নে কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা প্রণয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে৷ যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে, তখনই অবহেলিত ও বঞ্চিতদের জন্য কিছু না কিছু করেছে৷ চা-শ্রমিকদের উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চা-বাগানের দরিদ্র অসহায় চা-শ্রমিকদের খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য ‘চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে৷

তিনি বলেন, দারিদ্র্য হ্রাসে ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে৷ এ বিষয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অবদানকে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন৷ তিনি চেয়েছিলেন, এ দেশের দরিদ্র ও বিপন্ন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে৷ সে কারণে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তিনি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কার্যক্রম’-এর ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেন৷ শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে আমরা সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ মহিলা ভাতা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি৷