সংলাপ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই: তোফায়েল

Inu_Sirajganj

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৩ জানুয়ারি: যখন নির্বাচন হবে শুধুমাত্র তখনই সংলাপ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ৷ তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে আরো চার বছর অপেক্ষা করতে হবে৷ মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে কখনই আলোচনা হয়নি এবং সংলাপের কোন সম্ভাবনা নেই৷তিনি বলেন,নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ কিংবা দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সম্ভাবনা নেই৷

শনিবার বেলা ১১টায় ঢকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি এ কথা বলেন৷ডিআরইউর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চালনায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন৷

জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত তারানকো ফার্নান্দেজের উদ্যোগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে সংলাপ হয়েছিল৷ তখন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, এটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন৷ এই নির্বাচন শেষে দ্রুত সময়ে আরো একটি নির্বাচন দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তোফায়েল বলেন, আমিও সে বৈঠকে ছিলাম৷ মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে কখনই আলোচনা হয়নি৷

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এই নেতা আরো বলেন, সংলাপে তখন বলা হয়েছিল বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে নির্বাচনের তারিখ পেছানো যেতে পারে৷ সে সময় আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, অনেক সময়, অনেক কথা বলা হয়৷৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে দেশে নৈতিকতার প্রশ্ন আছে, তবে নির্বাচন হয়েছে৷ এই সরকার তার মেয়াদও শেষ করবে৷ নির্বাচন না হলে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় চলে আসত৷ এই নির্বাচন না হওয়ার কোন বিকল্প ছিল না৷ সাংবিধানিক দায় ছিল৷ এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা দরকার ছিল৷

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সাত দফা প্রস্তাবের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই৷ এখন এমন কোন কারণ নেই যে, মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে৷ এই সরকার তার মেয়াদ পূরণ করবে৷ এই সরকার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক দিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে৷

বিএনপির কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি গাজীপুরে ছাত্রলীগকেই মোকাবেলা করতে পারেনি তারা কিভাবে আন্দোলন করবে৷ তাদের উচিত হবে সারাদেশে সফর করে তাদের দাবি জনপ্রিয় করে তোলা৷ জনমত তৈরি করা৷

ছাত্রলীগ একটি পবিত্র সংগঠন বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ৷সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা ও ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদদ বলেন, ছাত্রলীগ একটি পবিত্র সংগঠন৷ যে কোনো লোক একটি অন্যায় করেই তা ছাত্রলীগের ওপর কলঙ্ক আসে৷ এদিকটি ছাত্রলীগকে খেয়াল রাখতে হবে৷

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি থাকলে কোনো কলঙ্ক লাগতো না৷ নেতাকমর্ীদের মধ্যে অসন্তোষ,ক্ষোভ, ভুল-বুঝাবুঝি, বিভেদ থাকতো না৷ এছাড়া নতুন নেতৃত্বেরও সৃষ্টি হতো৷

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব৷ তার সম্পর্কে যে মন্তব্য করা হয়েছে- সে বিষয়ে আমার কোনো কথা নেই৷ তারেক রহমানের মন্তব্য নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ ও ছাত্রলীগের মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে৷ মানুষই এর জবাব দেবে৷রানা প্লাজা ধসে পোশাক শিল্পের ইমেজ সংকট নিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনার পর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে যে ইমেজ সংকট সৃষ্টি হয়েছিল তা এখন আর নেই৷ গত অ্যাপারেল সামিটে সেটা দূর হয়েছে৷ এখন বিদেশি ক্রেতারা আবার বাংলাদেশের কাছ থেকে পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন৷

জিএসপি সুবিধার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে পৃথিবীর কোথাও জিএসপি সুবিধা নেই৷ জিএসপি সুবিধার মেয়াদ ছিল ২০১৩ সাল পর্যন্ত৷ যা এরইমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে৷ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস তা আর নবায়ন করেনি৷

তিনি বলেন, নবায়ন না করায় বর্তমানে কোনো দেশই জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে না৷ তবে কংগ্রেস যদি এ ব্যবস্থা আবার নবায়ন করে তাহলে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পাবে৷ কেননা জিএসপির শর্তগুলো আমরা এরইমধ্যে পূরণে সমর্থ হয়েছি৷সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সরকার তার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে৷ দেশে মাতারবাড়ি বিদু্যত্‍ কেন্দ্র র্নিমাণ, এলএনজি টার্মিনাল, রুপপুর পারমানবিক কেন্দ্র, পদ্মা সেতুসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার এবং তা শেষ করবে৷