৫ জানুয়ারি ঘিরে উত্তাপ ও উত্‍কন্ঠা:মুখোমুখি আ.লীগ-বিএনপি

আওয়ামী-লীগ-বিএনপি

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৩ জানুয়ারি: ৫জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন৷ সরকার ও বিরোধী পক্ষ কৌশলের পর নতুন কৌশল করছেন৷ নিজ অবস্থান থেকে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনড় উভয় পক্ষ৷ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও আগামী ৫ জানুয়ারির দিকে দৃষ্টি রাখছে৷ কোন কোন ছোট দল ইতিমধ্যে ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীক কিছু কর্মসূচি পালন করেছে৷ আর সরকার ও বিরোধী জোটে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মরিয়া হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে৷একই দিন আওয়ামী লীগ ও ২০ দল রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে৷

৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনটিকে ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট এবং বিএনপি\’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট৷ এ দিন উভয় পক্ষই সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে রাজপথে থাকার অঙ্গীকার জানিয়েছে৷ দুই পক্ষের এমন অনড় অবস্থানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন৷ দিনটিকে ঘিরে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ-উত্‍কন্ঠার৷ ৫ জানুয়ারি কী হবে-এই প্রশ্ন এখন মুখে মুখে৷

৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এ দিন সারাদেশে সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি৷ কেন্দ্রীয়ভাবে সমাবেশের জন্য ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, মতিঝিলের শাপলা চত্বর অথবা নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে জনসভা করতে পুলিশের অনুমতি চেয়েছে তারা৷ তবে, সরকার বলছে, নাশকতার আশঙ্কা থাকলে বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে না৷ কিন্তু বিএনপির নেতাদের দাবি, অনুমতি না পেলেও রাজপথে থাকবেন তারা৷ অপরদিকে, ওই দিনটি সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ৷ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে দলটির নেতারা বলছেন, এ সমাবেশ কোনো শক্তিই ঠেকাতে পারবে না৷ সমাবেশ করতে না দিলে টানা ৭২ ঘন্টার হরতাল ডাকা হবে বলেও জানিয়েছে দলের একটি সূত্র৷ ৫ জানুয়ারি সমাবেশের অনুমতি নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দফা গিয়েও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দেখা পাননি বিএনপি নেতারা৷দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনটি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেওয়া বিএনপি সেদিন পুলিশের অনুমতি না পেলেও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে৷

অন্যদিকে একই দিন রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যে এক বছর পর বাংলাদেশে আবার রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷সমাবেশের অনুমতি চাইতে গত বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনারে কার্যালয়ে গিয়ে তার দেখা না পেয়েই ফেরত আসে বিএনপি প্রতিনিধি দল৷

কমিশনার বেনজীর আহমেদ সেদিন নতুন আইজিপির সঙ্গে টুঙ্গীপাড়ায় গিয়েছিলেন৷ বেনজীরও র্যাবের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তবে উত্তরসূরি আছাদুজ্জামান মিয়াকে এখনও দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি৷শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় আবার বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বেইলি রোডে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে যান৷ কিন্তু ইজতেমার প্রস্তুতির কথা বলে তাদের নিরাশ করা হয়েছে৷

১৫ মিনিট কমিশনার কার্যালয়ের অভ্যর্থনা কক্ষে বসে ছিলেন বিএনপির তিন নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন ফারুক ও আব্দুল লতিফ জনি৷ এ সময়ে এক প্রশসানিক কর্মকর্তা এসে তাদের জানান, বিশ্ব ইজতেমার কাজে কমিশনারসহ কর্মকর্তারা ব্যস্ত রয়েছেন৷এরপর বেরিয়ে আসার পথে ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, গত বৃহস্পতিবারের মতো আজও একই অবস্থা হয়েছে৷ আমরা ডিএমপি কমিশনারসহ ঊধর্্বতন কর্মকর্তাদের কারোর দেখা পাইনি৷ অর্থাত্‍ আমরা এখনও সোমবারের জনসভার অনুমতি পাইনি৷

অনুমতি না পেলে কী করবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, সেজন্য বারবার অনুমতির জন্য আসি৷ আমরা এখনও প্রত্যাশা করছি, অনুমতি পাব৷ অনুমতি না পেলে আমরা আমাদের ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাব৷

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান,নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনের সড়ক অথবা মতিঝিলের শাপলা চত্বর- এই তিন স্থানের যে কোনো একটিতে জনসভার জন্য গত ২২ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে অনুমতি চেয়ে ডিএমপিতে আবেদন করা হয়৷ সেদিন রাজধানীর ১৬টি স্থানে সমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের৷

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটসহ দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যাদিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিলেও আওয়ামী লীগ বলছে এ দিনটি ছিল গণতন্ত্রের বিজয় দিবস৷ আর সে হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৫ জানুয়ারিকে অনেকটা ভিন্ন আঙ্গিকে পালন করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে৷ আর এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী জোটের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে৷

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান৷ তিনি বলেন, আমাদের সমাবেশ হবে শান্তর্িপূর্ণ৷ এ সময় তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অনুমতি না পেলেও যেকোনো মূল্যে রাজধানীতে সমাবেশ করবে তার দল৷ এ সময় তিনি অনুমতি দেয়া নিয়ে সরকার ও পুলিশ প্রশাসন টালবাহানা করছে বলেও অভিযোগ করেন৷ এ প্রসেঙ্গ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি যদি নাশকতার আশঙ্কা নিয়ে মাঠে নামতে চায় তাহলে ৫ জানুয়ারি ঢাকায় তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না৷একই দিন সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, ৫ জানুয়ারি রাজপথ থাকবে তার দলের দখলে৷ এ সময় তিনি বিএনপি নেতাদের কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ওইদিন রাজপথে তাদের (বিএনপি) খুঁজেও পাওয়া যাবে না৷ তিনি বলেন, আন্দোলন মোকবেলা করতে আওয়ামী লীগের কোনো সময় লাগে না৷ আন্দোলন মোকাবেলা করতে আওয়ামী লীগ সব সময়ই প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷ এ সময় হানিফ জানান, ওইদিন রাজধানীর ১৬ স্থানে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ৷

এদিকে শুক্রবার সকালে রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ৫ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন সরকার সমাবেশ করার অনুমতি না দিলেও কর্মসূচি পালনে ওইদিন রাজপথে থাকবে তার দল৷ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ধ্বংসের রাজনীতি করে৷ আর বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে৷ দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷

এদিকে ৩১ ডিসেম্বর ২০ দলীয় জোট নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে ৭ দফা প্রস্তাব দেন৷ গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে ২০ দলের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব পেশ করেন৷এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপও নিতে বলেন তিনি৷মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের ৭ দফা প্রস্তাব নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন প্রতিক্রিয়া না জানালেও দলের পক্ষ থেকে তত্‍ক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়৷

এছাড়াও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ খালেদা জিয়ার ৭ দফা দাবি কোনক্রমেই বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন৷ অপরদিকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ২০ দলের পক্ষ থেকে দেয়া প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে ৫ জানুয়ারি দলের কর্মীদের মাঠে থাকতে নিদের্শ দিয়েছেন৷

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১ জানুয়ারি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজনৈতিক দলের প্রতি আহবান জানান৷ ওইদিন তিনি বলেন, আসুন সবাই হানাহনি বন্ধ করে একসঙ্গে বসি৷ কীভাবে একটি সুন্দর নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করি৷ কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোচনার কোন সম্ভাবনা নেই বলে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন৷উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা দশম (বিতর্কিত) জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে সরকার৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না দেয়ায় বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট এতে অংশ নেয়নি৷ এছাড়া দেশের অনেক পুরোনো রাজনৈতিক দলও এ নির্বাচন বর্জন করে৷ বিশেষ করে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই ১৫৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এ নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে বিতর্ক সৃষ্টি হয়৷ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শতকরা ৪০ ভাগেরও বেশি ভোটার ভোট দিয়েছে বলে দাবি করা হলেও বিএনপি বলছে ওইদিন দেশের ৫ ভাগ ভোটারও ভোট কেন্দ্রে যায়নি৷ এ নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি৷

নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে দুই দলের নেতাদের বক্তব্য উত্তাপ ছড়াচ্ছে দেশের রাজনীতিতে৷৫ জানুয়ারি ঢাকায় জনসভা করার বিষয়ে পুলিশের সাড়া না পাওয়ায় বিএনপি নেতারা বলছেন, ওইদিন তারা যে কোনো মূল্যে সভা করবেন৷

একই দিনে ঢাকার ১৬স্থানে গণতন্ত্রের বিজয়ে সমাবেশ’ করার কর্মসূচি রয়েছে আওয়ামী লীগের৷ ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, বিএনপির যে কোনো অশুভ তত্‍পরতা তারা মোকাবেলা করবেন৷
শুক্রবার দিনভর এ দুই দলের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে জনমনে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে৷

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের বদরে আলম কলেজ মাঠে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার জনসভার কর্মসূচি থাকলেও তার ছেলে তারেক রহমানের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ সেখানে পাল্টা সমাবেশ ডাকে৷এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করলে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএনপি৷ সমাবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগে তারা গাজীপুরে একদিন এবং সারা দেশে আরেকদিন হরতাল করে৷

গতবছর ৫ জানুয়ারি বিএনপি ও শরিকদের বর্জনে ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়, যাতে নির্বাচিত হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ৷ ক্ষমতাসীন দলটি এ বছর দিনটি উদযাপন করবে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসাবে৷ অন্যদিকে বিএনপি ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসাবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে৷

ওইদিন রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট৷ এর দুদিন পর সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ জানান, তারা ৫ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছেন৷

শুক্রবার সকালে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, গত বছরের ৫ জানুয়ারি একতরফাভাবে নির্বাচন হয়েছে৷ ওই নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাত দফা স্তাব দিয়েছেন৷প্রসরকারকে বলব, আর বিলম্ব নয়৷ তার প্রস্তাব নিয়ে দ্রুত আলোচনায় বসুন৷ গতবছরের ৫ জানুয়ারি থেকে এবারের দিনটি হবে ব্যতিক্রম৷ সেদিন থেকেই শুরু হবে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার নতুন অভিযাত্রা৷

কিন্তু নাশকতার আশঙ্কা থাকলে ৫ জানুয়ারি ঢাকায় বিএনপিকে যে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না- তা মোটামুটি স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল৷

এদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকের প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন,যদি নাশকতার আশঙ্কা থাকে সেক্ষেত্রে সমাবেশ করার অনুমতি পাবে না৷ এ বিষয়ে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে৷কাছাকাছি সময়ে আরেক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ৫ জানুয়ারি জনসভা আমাদের করতেই হবে৷ সেই লক্ষ্যে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে৷

তিনি বলেন, অনুমতি দেওয়া হবে কি না সেটি সরকারের বিষয়৷ তবে বিএনপির যা করণীয়, তা তারা করবেন৷অন্যদিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনায় বিএনপি নেতাদের সতর্ক করে আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন,ওই জনসভা নিয়ে কোনো ঝামেলা আপনারা করতে যাবেন না৷…বিশ্বের কোনো গণতন্ত্রেই অশান্তি করে লোক হত্যার সভা করার অধিকার দেওয়া হয়নি৷এই পরিস্থিতিতে বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী৷

জনসভার অনুমতি নিয়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়িমসি করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “দৃঢ়তার সঙ্গে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে আমরা বলতে চাই, ৫ জানুয়ারি আমরা কর্মসূচি করবই৷

ওইদিন শান্তিপূর্ণ’ জনসভা করার অঙ্গীকার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতাও চান রিজভী৷সরকার কর্মসূচির অনুমতি না দিলে কী হবে- এমন প্রশ্নে রিজভী বলেন, অনুমতি না দিলে সেক্ষেত্রে আমাদের কর্মসূচি দিতেই হবে৷ এজন্য সরকারকেই দায় নিতে হবে৷

বিএনপির এ অবস্থানের সমালোচনা করে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির উসকানিমূলক বক্তব্যই প্রমাণ করে, তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না৷ এ ধরনের বক্তব্য বরদাশত করা হবে না৷ অশুভ তত্‍পরতা থাকলে মোকাবেলা করা হবে৷

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ৫ জানুয়ারি সংঘাতের কোনো আশঙ্কা তিনি দেখছে না৷ কোন সংঘাত হবে না৷ যে সব কাগুজে বাঘ কথা বলছে, তাদের খুঁজে পাবেন না৷আগের দিন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কোনো শঙ্কা তিনি দেখছেন না৷

আন্দোলনরত রাজনীতিকদের আলোচনার টেবিলে আনতে সরকারের প্রতি ব্যবসায়ীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মন্ত্রীর এই বক্তব্য আসে৷

মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নাসিম মঞ্জুর ওই বৈঠকে বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আবেদন করব- অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাজনীতি করুন৷ আমরা ২০১৩ সালের মতো কিছু চাই না৷ অর্থমন্ত্রীকে বলব, আপনারা আন্দোলনরতদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসুন৷ শুক্রবার বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় ৫ জানুয়ারি যেকোনো মূল্যে জনসভা করার ঘোষণা দেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী৷ তিনি বলেন, দৃঢ়তার সঙ্গে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে আমরা বলতে চাই, ৫ জানুয়ারি আমরা কর্মসূচি করবই৷

আর এ কর্মসূচি করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে রিজভী বলেন, আমরা বারবার অঙ্গীকার করছি, ৫ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের জনসভা হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ৷ আমরা এ জনসভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা চাই৷ সরকার কর্মসূচির অনুমতি না দিলে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমতি না দিলে সে ক্ষেত্রে আমাদের কর্মসূচি দিতেই হবে৷ এ জন্য সরকারকেই দায় নিতে হবে৷